
আকাশপথ বন্ধ করেছে পাকিস্তান।
শেষ আপডেট: 25 April 2025 06:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগামে পর্যটকদের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলার ঘটনার জেরে ভারত যেভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তার পাল্টা পদক্ষেপ হিসাবে পাকিস্তানও বৃহস্পতিবার একাধিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ হল, পাকিস্তানের আকাশসীমা বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত। ভারতীয় বিমান সংস্থাগুলোর কোনও বিমান পাকিস্তানের আকাশ পেরোতে পারবে না এখন।
ইসলামাবাদের এই সিদ্ধান্ত যে শুধু রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপড়েনের প্রতিফলন তা নয়, এর প্রভাব পড়তে চলেছে সাধারণ যাত্রী এবং বিমান সংস্থাগুলির উপরেও।
উত্তর ভারতের শহরগুলির মধ্যে দিল্লি, অমৃতসর, লখনউ, বারাণসী এবং জয়পুরের মতো কেন্দ্রগুলি থেকে পশ্চিমমুখী যে কোনও দেশে যেতে গেলে সাধারণত পাকিস্তানের আকাশ ব্যবহার করা হয়। এয়ার ইন্ডিয়া, ইন্ডিগো, এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস এবং স্পাইসজেটের মতো সংস্থাগুলি এই রুট দিয়ে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালায়। এখন সেসব বিমান বাধ্য হচ্ছে বিকল্প পথ বেছে নিতে।
এয়ার ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিগো ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তাদের একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট এই সিদ্ধান্তে প্রভাবিত হচ্ছে। এয়ার ইন্ডিয়ার মতে, উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ, ব্রিটেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াতকারী বিমানগুলোকে এখন বিকল্প দীর্ঘতর রুট নিতে হবে। ইন্ডিগো-ও তাদের এক্স হ্যান্ডলে বলেছে, কিছু ফ্লাইট এই পরিস্থিতিতে দেরিতে পৌঁছতে পারে এবং যাত্রীদের জন্য তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।
জানা যাচ্ছে, পাকিস্তানের আকাশসীমা এড়িয়ে পশ্চিমে যেতে গেলে প্রধান বিকল্প হচ্ছে আরব সাগরের উপর দিয়ে দীর্ঘ পথ। এতে যাত্রার সময় গড়ে ২ থেকে ২.৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়তে পারে। প্রতিটি সংস্থা তাদের নিজস্বভাবে বিভিন্ন বিকল্প রুট ব্যবহার করতে পারে, তাই চূড়ান্ত সময় নির্ভর করবে ফ্লাইট প্ল্যানের উপর।
যেহেতু ফ্লাইটের সময়ের দৈর্ঘ্য বাড়ছে, তাই স্বাভাবিকভাবেই প্রয়োজন হচ্ছে বেশি জ্বালানি। কিন্তু এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে আরও একটি সমস্যা, পে-লোড ম্যানেজমেন্ট। সেটি হল, অতিরিক্ত জ্বালানি নিতে হলে বিমানের ওজন বাড়ে, ফলে যাত্রী সংখ্যা অথবা লাগেজের ওজন কমাতে হয়। এতে সংস্থাগুলোর রাজস্ব কমে যায়, যা একপ্রকার আর্থিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।
এর ফলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই সিদ্ধান্তের জেরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের ভাড়া ৮ থেকে ১২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যদি পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এই ভাড়া তার চেয়েও বেশি বাড়বে বলেই অনুমান।
তবে এই প্রথম নয়। ২০১৯ সালেও বালাকোটে ভারতীয় বিমান হানার পর পাকিস্তান দীর্ঘ সময়ের জন্য তার আকাশসীমা বন্ধ রেখেছিল। পরে যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছিল। এবার পহেলগামের ঘটনার পর সেই পুরনো পথেই হাঁটছে ইসলামাবাদ। এর ফলে দীর্ঘতর রুট, বাড়তি জ্বালানি, যাত্রীসংখ্যার সীমাবদ্ধতা এবং ক্রমবর্ধমান খরচ— এই সব ফ্যাক্টর মিলিয়ে ভারতীয় বিমান পরিবহণ পরিষেবা খানিকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।