
জঙ্গি হামলায় খাদে পড়ে যাওয়া বাস।
শেষ আপডেট: 10 June 2024 12:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানি মদতপুষ্ট জঙ্গি সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট (টিআরএফ) জম্মু-কাশ্মীরে তীর্থযাত্রীদের বাসে গুলি চালানোর দায় স্বীকার করল। গতকাল, রবিবার কাশ্মীরের রিয়াসি জেলায় পুণ্যার্থী বোঝাই একটি বাসে অতর্কিতে গুলি চালায় লস্কর-ই-তোইবার ঘনিষ্ঠ এই সংগঠনের জঙ্গিরা। তাতে বাসটি একটি খাদে পড়ে গেলে ১০ জনের মৃত্যু এবং ৩৩ জনের মতো জখম হন।
ওই ঘটনার দায় স্বীকার করে টিআরএফ এক বার্তায় বলেছে, এই ধরনের পর্যটক বোঝাই এবং ভিনরাজ্যের মানুষকে হত্যালীলা চলতেই থাকবে। রিয়াসি হামলাকে নতুন করে জঙ্গি হামলার শুরু বলে হুমকি দিয়েছে জঙ্গিরা। এই ঘটনার পর থেকে আলপিন খোঁজার মতো খোঁজ শুরু হয়েছে হত্যাকারী জঙ্গিদের। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে(এনআইএ) তদন্তে নিয়োগ করা হয়েছে।
সূত্রে জানা গিয়েছে, কয়েকজন মৃতকে শনাক্ত করা গিয়েছে। বাসযাত্রীদের অধিকাংশই উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের বাসিন্দা। তবে বাসের চালক ও কন্ডাক্টর রিয়াসির স্থানীয়। জখম পুণ্যার্থীদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, বাসটি উল্টে পড়ে যাওয়ার পরেও জঙ্গিরা গুলি চালাতে থাকে। খাদের ধারে নেমে এসে তারা গুলিবৃষ্টি করে, যাতে কেউ বেঁচে না থাকে। বেঁচে যাওয়াদের কেউ কেউ মরার ভান করে পড়ে থাকেন।
জম্মু-কাশ্মীরের লেফটেন্যান্ট গভর্নর মনোজ সিনহা মৃতদের পরিবারবর্গকে এককালীন ১০ লক্ষ টাকা এবং আহতদের ৫০ হাজার টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন। চাষের খেত এবং জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা জঙ্গিদের খোঁজে ড্রোন নামানো হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে জোরকদমে জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী। প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, জনা দুয়েক মতান্তরে ৬-৭ জন ব্যক্তি মুখ ঢেকে অত্যাধুনিক অস্ত্র দিয়ে বৃষ্টির মতো গুলি চালাতে শুরু করে।
এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ হেমন্ত মহাজন বলেন, মোদীর শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে পাকিস্তান ছাড়া সব প্রতিবেশী রাষ্ট্রপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। রিয়াসি হামলা তারই বদলা হতে পারে। কাশ্মীর এখন শান্ত। তাই সেখানে নতুন করে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। যার ফলে স্থানীয় যুবকরা রোজগার, ব্যবসার মুখ দেখতে পাচ্ছেন। এটাকেই নষ্ট করতে চাইছে পাক মদতপুষ্ট জঙ্গিরা।