
আশাবরী তাঁর বাবার শেষযাত্রায় এসেছিলেন সেই পোশাকেই
শেষ আপডেট: 25 April 2025 13:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি (Pahalgam terrorist attack) হামলার পর কেটে গেছে মাঝে কয়েকটা দিন। বাবাকে হারানোর পর, রক্তমাখা সেই পোশাকেই বাবার শেষযাত্রায় সামিল হলেন আশাবরী জগদালে (Ashavari Jagdale)। পুণের বাসিন্দা সন্তোষ জগদালে (Santosh Jagdale) পাশবিক ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। মেয়ে আশাবরী, শেষ সময় তাঁর পাশেই ছিলেন। প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি ও তাঁর মা।
বৃহস্পতিবার ভোরে সন্তোষ জগদালে এবং তাঁর ছোটবেলার বন্ধু কৌস্তভ গানবোটের (Kaustav Ganbote) মরদেহ কাশ্মীর (Kashmir) থেকে পুণে (Pune) নিয়ে আসা হয়। তাঁদের শেষকৃত্য (Last rites) সম্পন্ন হয় পুণের নবী পেঠ এলাকার বৈকুণ্ঠ শ্মশানে। শহরের একাংশ যেন নীরবে কেঁদে ফেলেছিল, হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল তাঁদের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে।
#WATCH | Pune, Maharashtra | Asavari Jagdale leads the last rites of her father, Santosh Jagdale, who was killed in the Pahalgam terror attack. #PahalgamTerrorAttack pic.twitter.com/tFWcTwAsIL
— ANI (@ANI) April 24, 2025
কিন্তু যে দৃশ্য গোটা দেশের হৃদয় কাঁপিয়ে দিয়েছে, তা হল- ২৬ বছরের আশাবরী তাঁর বাবার শেষযাত্রায় এসেছিলেন সেই পোশাকেই, যেটি তিনি হামলার সময় পরেছিলেন। আজও সেই পোশাক তাঁর বাবার রক্ত লেগে রয়েছে, শুধু শুকিয়ে গেছে সেই দাগ। তাঁর এই সিদ্ধান্ত যেন গোটা ঘটনার এক জ্বলন্ত প্রতিবাদ।
Santosh Jagdale had gone on vacation with his daughter Asavari & wife Pragati. During the attack, both his wife & daughter were present nearby. Asavari attempted to wake him up. Now, during the funeral, there are bloodstains of her father on the clothes she is wearing.#Pahalgam pic.twitter.com/KRfV4sYu5J
— Omkar Wable (@omkarasks) April 24, 2025
পহেলগাম হামলায় নিহতদের শেষযাত্রার সময় গোটা শহরে পাকিস্তানবিরোধী স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠেন মানুষ। ক্ষোভে ফেটে পড়ে জনতা, দাবি ওঠে অপরাধীদের কঠোরতম শাস্তির।
এদিকে, এনসিপি (এসপি) নেতা শরদ পওয়ার গিয়ে সন্তোষ জগদালে ও কৌস্তভ গানবোটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। পরিবারের সদস্যরা তাঁকে তাঁদের বিভীষিকার অভিজ্ঞতা শোনান ও দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান। মহারাষ্ট্রের মন্ত্রী মধুরি মিসালও জগদালে পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান।
কৌস্তভ গানবোটে পুণেতে একটি স্ন্যাকসের ব্যবসা চালাতেন। সন্তোষ জগদালে ছিলেন একজন ইন্টিরিয়র ডিজাইনার।
এ যেন শোক, যন্ত্রণার, ক্ষোভের দিন। আশাবরীর নিঃশব্দ প্রতিবাদ যেন শুধু একজন মেয়ের নয়, বরং গোটা দেশের তরফে এক মুখর প্রতিবাদ। তাঁর রক্তমাখা পোশাক হয়ে উঠেছে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এক মৌন চিৎকার- যা ক্রমাগত বলে চলেছে ‘আর কত…?’