
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 27 April 2025 19:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার পহেলগামে হামলার ঘটনার পাঁচ নম্বর দিন। থমথমে আবহাওয়া, চারিদিকে লোকজন দেখতে হলে দূরবীনের ব্যবহার করার উপায়। ঘটনার পর তড়িঘড়ি শ্রীনগর ফিরেছেন পহেলগামে থাকা পর্যটকরা। যাঁরা ফিরতে পারেননি, এই পাঁচদিনে তাঁদের শ্রীনগর হয়ে ঘরে ফেরানো হয়েছে। ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন সকলে। সংবাদ মাধ্যম খুললেই সেই চিত্র স্ক্রিনজুড়ে। কিন্তু বাস্তবের চিত্রটা খানিকটা আলাদা। স্থানীয়রা বলছেন, আতঙ্ক কাটিয়ে ছন্দে ফিরছেন পর্যটকদের একাংশ। তাঁদের কথায়, 'ভেবেছি, আর সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আসবই।'
'মিনি সুইৎজারল্যান্ড' নামে পরিচিত বৈসরন হামলার দিন থেকে বন্ধই ছিল। সেনা বা অনুমতি ছাড়া কাউকে এলাকায় ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তবে, হামলার কয়েক দিন পরই পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হল এই পর্যটককেন্দ্র। তবে হামলার মূল স্থান, বৈসরনের মাঠটা এখনও পর্যন্ত খোলা হয়নি।
রবিবার বেশ কয়েকজনকে ওই উপত্যকায় দেখা যায় ঘুরে বেড়াতে। দেশ-বিদেশের পর্যটকরা নির্ভয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। দেখে আশায় বুক বাঁধছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রায় সকলে। মহারাষ্ট্র থেকে আসা একটি পর্যটক দল জানায়, তাঁদের কোনও ভয় নেই। তাঁদের পাশে আছেন ট্যুর অপারেটর এবং গাইডরা। সেখানকারই একজন বলেন, 'ভয় পেলে চলবে না। যা হওয়ার তা হবেই।'
পহেলগামের রাস্তায় দেখা মেলে ক্রোয়েশিয়া ও সার্বিয়ার পর্যটকদেরও। ফাঁকায় ফাঁকায় তাঁরা নিশ্চিন্তে ঘুরছিলেন। ক্যামেরা সামনে নিয়ে যেতেই বলে ওঠেন, 'কাশ্মীরে এই নিয়ে দশ নম্বর বার আসা। প্রতিবারই আলাদা আলাদা অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরি। আর আমার কাছে কাশ্মীরই বিশ্বের সেরা জায়গা। এখানকার প্রকৃতি, মানুষের ব্যবহার — সব কিছুই আমাকে আকৃষ্ট করে। দলের সদস্যরা প্রথমবার এসেছেন, তাঁরাও খুব খুশি।'
নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ক্রোয়েশিয়ার ভ্লাটকো জানান, তিনি সম্পূর্ণ নিরাপদ আছেন। কোনও সমস্যা নেই।
আরেক ক্রোয়েশিয়ান পর্যটক লিলিয়ানা সংবাদ সংস্থাকে জানান, তাঁদের কোথাও এক ফোঁটা সমস্যা হচ্ছে না। সব ঠিক আছে। ভালভাবে ঘুরছেন। স্থানীয়রা প্রচুর সাহায্য করছেন সব বিষয়ে।
আরেকজন ক্রোয়েশিয়ান পর্যটক সকলের উদ্দেশে অভয় দিয়ে বলেন, 'এই ধরনের ঘটনা নিয়মিত হয় না। যদি ভয় পেতে থাকি, তাহলে তো বাড়িতেই থাকতে হবে। কিন্তু এখন আর কোনও জায়গাই পুরোপুরি নিরাপদ নয়। ইউরোপেও এমন হয়। পৃথিবীর কোথাও সে অর্থে নিরাপদ নয়।'
উল্লেখ্য, ঘটনার দিন, কাছাকাছি পাইন গাছের জঙ্গল থেকে কয়েকজন বেরিয়ে হামলা চালায়। যেখানে প্রতিদিন পাঁচ হাজার থেকে সাত হাজার পর্যটকের ভিড় থাকত, সেখানে হামলার পরে ১০০ জনও খুঁজতে হয়েছে। তাই স্থানীয়দের মধ্যে পর্যটন নিয়ে বিরাট ভয় তৈরি হয়েছিল। রবিবার এমন সব কথা শুনে তাঁদের মুখেও নিঃসন্দেহে হাসি ফুটছে।