
এই ভয়াবহ হামলায় মোট ২৬ জন প্রাণ হারান, যাঁদের মধ্যে ছ’জন মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা
শেষ আপডেট: 23 April 2025 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভূস্বর্গ সবেমাত্র ছন্দে ফিরছিল, মানুষও আস্তে আস্তে মন থেকে ভয় দূরে সরিয়ে কাশ্মীরের মাটিতে পা রাখতে শুরু করেছিলেন। এমন সময় এমন একটা ঘটনা একলহমায় তছনছ করে দিল সবটুকু (kashmir news)।
মহারাষ্ট্রের পুণে শহরের ব্যবসায়ী সন্তোষ জগদাল তাঁর পরিবার নিয়ে যখন জম্মু-কাশ্মীরের জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা পহেলগামে (pahalgam) ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন, তখন স্বপ্নেও ভাবেননি তাঁদের স্বপ্নের এই ভ্রমণ মৃত্যুবিভীষিকায় পাল্টে যাবে।
সন্তোষের মেয়ে আশাবরীর মনে সেই ভয়ের স্মৃতি বারবার ঘুরে ফিরে আসছে। তাঁর কথায়, ‘আমরা একটা তাঁবুতে লুকিয়ে ছিলাম ওই সময়। বাইরে শুধু গুলি আর সাহায্যের জন্য আর্তনাদ শোনা যাচ্ছিল। পাহাড় থেকে কিছু মানুষ নেমে এসেছিল, যাদের পোশাক স্থানীয় পুলিশের মতোই ছিল। হঠাৎ করেই তারা গুলি চালাতে শুরু করে। সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের পর্যটকেরা আতঙ্কে এদিক ওদিক ছুটতে শুরু করে। আমি, মা, বাবা সবাই মিলে একটা তাঁবুর ভিতরে ঢুকে গিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম ওখানে বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের লড়াই চলছে।’
তিনি আরও বলেন, তখনই শোনা যায় ঠান্ডা গলায় হুকুম, ‘চৌধুরি, তুই বাইরে আয়।’ সেই ডাকে সন্তোষ জগদালকে তাঁবুর বাইরে টেনে বের করা হয়। এরপর ঘটে সেই ভয়ঙ্কর ঘটনা। জঙ্গিরা প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থনের জন্য তাঁদের দোষারোপ শুরু করে। বেছে বেছে পুরুষদেরই টার্গেট করা হয়। সন্তোষকে জিজ্ঞাসা করা হয়, তিনি হিন্দু না মুসলমান। তাঁকে কলমা পড়তে বলা হয়। না পারায় মাথায়, কানে ও পিঠে তিনটি গুলি করা হয় (kashmir attack)।
'আমার বাবাকে চোখের সামনে গুলি করে মেরে ফেলা হয়। তারপর ওরা আমার কাকাকেও অনেকবার গুলি করে,’ কাঁদতে কাঁদতে বলেন ২৬ বছরের আশাবরী। এই ঘটনার প্রায় মিনিট ২০ পর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছয়। পহেলগামের বৈসরন ভ্যালি (baisaran valley) থেকে স্থানীয় বাসিন্দা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সহায়তায় যখন তাঁদের মা-মেয়ে এবং বাকি আত্মীয়দের উদ্ধার করা হয়, তাঁরা আর খবর পাননি যে, বাবা আর কাকা আদৌ বেঁচে আছেন কিনা।
এই ভয়াবহ হামলায় মোট ২৬ জন প্রাণ হারান, যাঁদের মধ্যে ছ’জন মহারাষ্ট্রের বাসিন্দা। তাঁদের মধ্যে সন্তোষ জগদালের পাশাপাশি অতুল মানে, সঞ্জয় লেলে, হেমন্ত জোশী, কৌস্তভ গানবোটে এবং দিলীপ দোসালে।
পেশায় সেন্ট্রাল রেলওয়ের একজন সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার অতুল মানের (৪৫) বন্ধু বিবেকানন্দ সামন্ত বলেন, ‘আমরা লোকাল ট্রেনে একসঙ্গে যেতাম। পহেলগাম ট্রিপটাও একসঙ্গে প্ল্যান করেছিলাম।’
নভি মুম্বইয়ের দিলীপ দোসালে একটি ৩৯ জনের ট্যুরিস্ট গ্রুপের সদস্য ছিলেন।
নাগপুরের এক দম্পতি ও তাঁদের ছেলে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান। তাঁরা যখন ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে আসছিলেন, তখনই হামলা (terrorist attack in kashmir) শুরু হয়। গুলির আওয়াজ অনেক দূর পর্যন্ত শোনা যাচ্ছিল। সেই সময় হুড়োহুড়ি করে বেরোনোর সময় পড়ে গিয়ে একজন মহিলার পা ভেঙে যায়।
যাঁরা পালাতে পারেননি, তাঁরা আসলে খোলা জায়গার মাঝে কোনও আশ্রয় খুঁজে পাননি।
'মিনি সুইজারল্যান্ড' নামে খ্যাত বৈসরন উপত্যকায় (baisaran valley) হামলার সময় পর্যটকেরা ঘোড়ায় চড়া ও ফটোশুটে মগ্ন ছিলেন। হঠাৎই জঙ্গিরা গুলি চালাতে শুরু করে। আহতদের উদ্ধার করতে হেলিকপ্টার নামানো হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা তাঁদের ঘোড়ায় তুলে আহতদের নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দেন।
২০১৯ সালের পুলওয়ামা হামলার পর এটাই জম্মু-কাশ্মীরে (jammu kashmir) সবচেয়ে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসবাদী হামলা। মৃতদের মধ্যে দু’জন বিদেশি ও দু’জন স্থানীয় বাসিন্দা। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে 'দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট' (TRF), যেটি নিষিদ্ধ পাকিস্তানভিত্তিক লস্কর-ই-তইবার (LeT) ছায়া সংগঠন।