1.jpeg)
গাইড নাজাকতের সঙ্গে বিজেপি কর্মী অরবিন্দ আগরওয়াল।
শেষ আপডেট: 25 April 2025 12:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পহেলগামের ভয়াবহ জঙ্গি হামলার সময়ে ছত্তীসগঢ়ের এক বিজেপি যুব মোর্চা কর্মীর পরিবারকে রক্ষা করলেন এক স্থানীয় পর্যটক গাইড! পরে তিনি জানতে পারেন, ওই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন তাঁর নিজের দাদা!
ছত্তীসগঢ়ের চিরিমিরি শহরের বাসিন্দা, ৩৫ বছর বয়সি অরবিন্দ আগরওয়াল রাজ্যের বিজেপি যুব শাখার সদস্য। তিনি জানান, ওই দিন তিনি তাঁর স্ত্রী পূজা এবং চার বছরের মেয়ে বৈসরন উপত্যকাতেই ছিলেন। যখন জঙ্গিরা আচমকা গুলি চালানো শুরু করে, তাঁরা সে সময়ে কিছুটা দূরে ছিলেন। অরবিন্দ জানিয়েছেন, সেই মুহূর্তে বছর আঠাশের যুবক, স্থানীয় গাইড নাজাকত আহমেদ শাহ ছিলেন তাঁদের সঙ্গেই। আর সেই সময়েই তাঁরা দেখেন, সাহসিকতার এক অবিশ্বাস্য ছবি।
অরবিন্দর কথায়, 'আমি তখন ছবি তুলছিলাম। হঠাৎ গুলি চলা শুরু হয়। আমি বেঁচে যাই, কারণ আশপাশের পর্যটকরাই আমাকে টেনে সরিয়ে নেয়। কিন্তু স্ত্রী ও মেয়ে তখন কিছুটা দূরে! নাজাকত ওখানেই ছিলেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে সবাইকে মাটিতে শুয়ে পড়তে বলেন এবং আমার মেয়ে ও আমার বন্ধুর ছেলেকে নিজের বুকে জড়িয়ে নেন। যতক্ষণ গুলি চলে, মাটিতে মিশে জাপটে ধরে রাখেন ওদের। এই কাজটাই ওদের প্রাণ বাঁচিয়ে দেয়।'
এর পরে নাজাকত সবাইকে একটি কাঁটাতারের ফাঁক দিয়ে বার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান এবং তারপর আবারও ফিরে যান গুলিবিধ্বস্ত বৈসরনে। কারণ অরবিন্দর স্ত্রী পূজা তখন নিখোঁজ! প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে, রীতিমতো প্রাণ হাতে করে গিয়ে পূজাকে খুঁজে পান তিনি। উদ্ধার করে নিয়ে আসেন ফের। এর পরে নিজের গাড়িতে করে অরবিন্দর পরিবারকে নিরাপদে শ্রীনগরে পৌঁছে দেন তিনি নিজে।
নাজাকতের কথায়, 'গুলির আওয়াজ আসে জিপলাইন থেকে। যেখানে আমরা দাঁড়িয়ে ছিলাম তার প্রায় ২০ মিটার দূরে। আমি সবাইকে নিচু হয়ে শুয়ে পড়তে বলি। বাচ্চাদের নিজে জাপটে ধরি। তারপর ওদের বাচ্চাদের নিয়েই কাঁটাতারের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাই।'
কিন্তু অরবিন্দ ও তাঁর পরিবারর যখন মৃত্যুর মুখ থেকে এমন অলৌকিকভাবে বেঁচে গিয়ে হতবাক, তখনই নাজাকত নিজে এক নির্মম খবর পান, ওই হামলাতেই নিহত হয়েছেন তাঁর দাদা, ৩০ বছর বয়সি সৈয়দ আদিল হুসেন শাহ। তিনি পর্যটকদের ঘোড়ায় করে ঘোরাতেন। জানা গেছে, গুলি চলার সময় জঙ্গিদের বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন তিনি।
এই হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি সত্ত্বেও নাজাকত বললেন, 'পর্যটনই আমাদের জীবিকা। এটা বন্ধ হয়ে গেলে আমরা বেকার হয়ে যাব, সন্তানদের পড়াশোনা থেমে যাবে। এই হামলা যেন আমাদের হৃদয়ে গুলি চালিয়েছে। আমরা দোকানপাট বন্ধ করে প্রতিবাদ করছি। কাশ্মীর আতিথেয়তার জন্য পরিচিত। আমি বিশ্বাস করি, পর্যটকরা আবার আসবেন।'
নাজাকতের এই সাহসিকতা ও মানবিকতা কেবল একাধিক প্রাণ বাঁচিয়েছে তাই নয়, সন্ত্রাসের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে কাশ্মীরের উজ্জ্বল মানবিক মুখটিকেও।