
শেষ আপডেট: 5 December 2023 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিয়ানায় বিভীষিকা হয়ে উঠছে এইডস। সরকারি সূত্র বলছে, গত দু’বছরে হরিয়ানায় এইডস আক্রান্ত হয়েছেন অন্তত ১০২ জন। এই সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। গুরুগ্রাম, হিসার, পালওয়াল, পতৌদি, নারনাউল, রোহতাকে এইডস রোগীর সংখ্যা বাড়ছে।
কীভাবে এত বেশি ছড়াচ্ছে এইডস?
সমীক্ষা বলছে, হরিয়ানায় ২২ থেকে ৪৩ বছর বয়সিরাই বেশি আক্রান্ত। পুরুষদের মধ্যে ৫০ শতাংশ, মহিলাদের মধ্যে ৪০ শতাংশ এইডস আক্রান্ত। এমনকী বাবা-মায়ের থেকে সন্তানের মধ্যেও আসছে সংক্রমণ।
চিকিৎসক ডা. নেহা রাস্তোগি পান্ডা বলছেন, অসুরক্ষিত যৌন জীবন, ইঞ্জেকশনের সিরিঞ্জ, সস্তার উল্কি থেকে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। ডাক্তারবাবুরা বলছেন, উল্কি করার সময় একই সূচ ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে রক্তের মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে।
গোটা বিশ্বে এডস আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় চার কোটির কাছাকাছি। প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষ এই রোগে মৃত্যুর শিকার হলেও এখনও পর্যন্ত এইডসকে হারাতে কোনও বিশেষ কোনও চিকিৎসা পদ্ধতি আসেনি। গত শতাব্দীর আটের দশকে এইচআইভি (হিউম্যান ইমিউনোডেফিসিয়েন্সি ভাইরাস) ভাইরাস আবিষ্কারের পরে ওই ভাইরাস রোখার কয়েকটি টিকা নিয়ে মানুষের উপর পরীক্ষা চালানো হয়। দুই ধরনের টিকার কম্বিনেশন ঘটিয়ে পরীক্ষা চালানো হয় মানুষের শরীরে। কিন্তু কোনও মানুষের ওপর পরীক্ষার সাফল্যের হার ৩১ শতাংশের বেশি ছিল না। টিকাগুলির কার্যকারিতার মেয়াদও ছিল এক বছরের কম।
এইচআইভি সংক্রমণ তিনটি ধাপে হয়। প্রথম ধাপ, অ্যাকিউট স্টেজ বা অ্যাকিউট রেট্রোভাইরাল সিনড্রোম। যা সংক্রমণের ৩ থেকে ৬ সপ্তাহের মধ্যে হয় এবং নিজে থেকেই ২-৪ সপ্তাহের মধ্যে সেরে যায়। এতে সাধারণত, জ্বর বা সর্দি-কাশির মতো সমস্যা দেখা যায়। দ্বিতীয় ধাপ, ক্লিনিক্যাল ল্যাটেন্সি বা ক্রনিক স্টেজ। এই স্টেজে সাধারণত সংক্রমণের কোন লক্ষণ সে ভাবে শরীরে প্রকাশ পায় না। তৃতীয় এবং অন্তিম ধাপ হল এডস। এই পর্যায়ে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা ভেঙে পড়ে। সেই সময় শরীরে নানা সংক্রমণ ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। একই সঙ্গে প্রাণঘাতী নানা লক্ষণ প্রকাশ পায়।