বিরোধীদের অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত বই থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাহুলের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন তিনি, কিন্তু সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে থামিয়েছে।
.jpeg.webp)
ছবি - এআই
শেষ আপডেট: 4 February 2026 21:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাষ্ট্রপতির ভাষণের (President Speech) উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) নির্ধারিত বক্তব্য বুধবার লোকসভায় (Loksabha) বাতিল হয়ে গেল বিরোধীদের প্রবল বিক্ষোভের (Loksabha Protest) জেরে। দিনের অধিকাংশ সময়ে অধিবেশন স্থগিত হওয়ায় শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য পেশ করা সম্ভব হয়নি। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তীব্র সংঘাত তৈরি হয়েছে।
বিরোধীদের অভিযোগ, কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে (Rahul Gandhi) প্রাক্তন সেনাপ্রধান এম এম নারাভানের অপ্রকাশিত বই (M M Naravane Unpublished Book) থেকে উদ্ধৃতি দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি। রাহুলের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন তিনি, কিন্তু সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে থামিয়েছে। তাঁর আরও অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী সংসদে উপস্থিত হয়ে বক্তব্য রাখতে এড়িয়ে গিয়েছেন।
অন্যদিকে বিজেপি সাংসদ নিশিকান্ত দুবে মন্তব্য করেন, রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) যেখানে অপ্রকাশিত বই নিয়ে আলোচনা করতে চাইছেন, সেখানে তিনি নিজে গান্ধী পরিবারের বিভিন্ন সদস্যকে নিয়ে লেখা একাধিক বইয়ের উল্লেখ করতে চান। সেই সময় অধ্যক্ষের আসনে ছিলেন টিডিপি-এর সাংসদ কৃষ্ণ প্রসাদ তেন্নেতি। তিনি সংসদের নিয়ম ৩৪৯-এর উল্লেখ করে জানান, সংসদের কার্যসূচির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক না থাকলে বই বা নথি থেকে উদ্ধৃতি দেওয়া যাবে না। এই নির্দেশ সত্ত্বেও দুবে নিজের বক্তব্য চালিয়ে গেলে বিরোধীরা তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং অধিবেশন স্থগিত করা হয়।
দিনভর উত্তেজনা চলতে থাকে লোকসভায় (Loksabha Protest PM Speech Cancelled)। বিকেল পাঁচটার কিছু আগে অধিবেশন শুরু হলে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রাখার কথা ছিল। কিন্তু সেই সময় বিরোধী দলের কয়েকজন মহিলা সাংসদ, যার মধ্যে বর্ষা গায়কোয়াড় এবং জ্যোতিমণির নাম উল্লেখযোগ্য, শাসকদলের আসনের সামনে অবস্থান বিক্ষোভ শুরু করেন। তাঁরা ‘Do what is right’ লেখা ব্যানার প্রদর্শন করেন এবং আগের দিন আটজন বিরোধী সাংসদের সাসপেনশনের প্রতিবাদ জানান। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে কার্যনির্বাহী স্পিকার সন্দ্যা রাই অধিবেশন মুলতুবি ঘোষণা করেন।
বিজেপি সাংসদ মনোজ তিওয়ারি পরে দাবি করেন, মহিলা সাংসদদের অবস্থান পরিকল্পিত ছিল এবং তা প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছিল। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর তৎপরতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
এর আগে দুপুরে অধিবেশন শুরু হলে বিরোধীরা ২০২০ সালের ভারত-চিন সীমান্ত সংঘর্ষের প্রসঙ্গ তুলে স্লোগান দিতে থাকেন। লাগাতার বিশৃঙ্খলার কারণে বারবার অধিবেশন স্থগিত করতে হয়। ফলে রাষ্ট্রপতির ভাষণের উপর ধন্যবাদ প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা সম্পূর্ণ হয়নি এবং লোকসভা পরদিন পর্যন্ত মুলতুবি রাখা হয়েছে।
এদিকে রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে দাবি করেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নারাভানের বই উপহার দিতে চেয়েছিলেন, যাতে ২০২০ সালের সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, সরকার বিষয়টি সামনে আসতে দিতে চাইছে না। প্রধানমন্ত্রী সংসদে বক্তব্য না রাখায় কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও মন্তব্য করেন, প্রধানমন্ত্রী সংসদে আসতে ভয় পাচ্ছেন।
এই ঘটনাকে ঘিরে সংসদের অচলাবস্থা এবং রাজনৈতিক সংঘাত আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।