
ডাকসাইটে জঙ্গিকে খতম করে বিশ্বকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দিয়েছে নয়াদিল্লি।
শেষ আপডেট: 10 May 2025 16:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অপারেশন সিঁদুরের ধাক্কায় প্রায় সাফ জইশ-ই-মহম্মদের প্রধান মাসুদ আজহারের বংশ। ৭ মে-র ওই অভিযানে পাকিস্তানে থাকা ৯টি জঙ্গি ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দেয় ভারত। যাতে বেশ কয়েকজন ডাকসাইটে জঙ্গিকে খতম করে বিশ্বকে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে দিয়েছে নয়াদিল্লি। যার মধ্যে একজন হল মহম্মদ ইউসুফ আজহার। জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ভগ্নীপতি। কান্দাহার বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় অন্যতম অভিযুক্ত ছিল সে।
সূত্রে জানা গিয়েছে, ইউসুফ আজহার জইশের হয়ে অস্ত্র তালিম দিত এবং জম্মু-কাশ্মীরে বেশ কয়েকটি হামলার চক্রী ছিল। ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের আইসি-৮১৪ বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনাতেও তার নাম জড়ায় এবং ভারতের মোস্ট ওয়ান্টেড তালিকায় নাম ছিল ইউসুফ আজহার ওরফে উস্তাদজির। এছাড়াও তার একাধিক নাম রয়েছে যেমন-মোহম্মদ সেলিম ও ঘোসিসাব। তার বিরুদ্ধে রেড কর্নার নোটিস জারি হয়েছিল।
অপারেশন সিঁদুরের (Operation Sindoor) বিরাট সাফল্য নিশ্চিত হয়েছিল গত বৃহস্পতিবারই। শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়, জইশ-ই-মহম্মদের কমান্ডার আবদুল রউফ আজহার পাক পাঞ্জাবের বাহাওয়ালপুর জঙ্গি ঘাঁটি নিকেশের সময়ই খতম হয়ে গিয়েছে (India attacks Millitant shelter)। রউফ আজহার হল জইশ প্রধান মাসুদ আজহারের ছোট ভাই। তার থেকেও রউফের বড় পরিচয় হল, অটলবিহারী বাজপেয়ী জমানায় ১৯৯৯ সালে ভারতীয় বিমান (আইসি ৮১৪) ছিনতাইয়ের নাটের গুরু ছিল। জইশের অপারেশন হেড হিসেবে আরও বেশ কিছু জঙ্গি কাজের পান্ডা ছিল রউফ। সেই রউফকে অপারেশন সিঁদুরে (Operation Sindoor) খতম করা সেনাবাহিনীর এক বিরাট সার্থকতা।
কয়েক দশক ধরে ভারতীয় গোয়েন্দা বাহিনী (Indian Intelligence Service) রউফকে খতমের জন্য তক্কেতক্কে ছিল। বহুবার চেষ্টা করেও তার নাগাল মেলেনি। এবারে তাকে খতমের সার্থকতায় ভারতের জঙ্গি নিকেশ অভিযান এক চূড়া স্পর্শ করল বলাই যায়। অন্যদিকে, আবদুল রউফের মৃত্যু পাক জঙ্গিদের মনোবল ভেঙে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কান্দাহার বিমান ছিনতাইয়ের (Kandahaar Hijack) ঘটনা ছাড়াও আবদুল রউফ আজহার ২০০১ সালের সংসদে হামলা, ২০০৩ সালের নাগরোটা সেনা শিবিরে হামলা, ২০১৯ সালের পুলওয়ামায় জঙ্গি হানার চক্রী ছিল। ভারতীয় সেনা ও গোয়েন্দাদের হাত ধৃত জইশ প্রধান মাসুদ আজহারকে মুক্তির দাবিতে আইসি ৮১৪ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের বিমান ছিনতাই করা হয়। শেষমেশ সব যাত্রীকে খতমের হুমকির কাছে নত হয়ে বাজপেয়ী সরকার মাসুদ আজহার সহ কয়েকজন জঙ্গিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। এই ছিনতাইয়ের পুরো নকশাটি করেছিল আবদুল রউফ।
মাসুদ আজহার অসুস্থ হওয়ার পর থেকে পরোক্ষে দল চালাত রউফই। পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশারফকে হত্যার চেষ্টার পর পাকিস্তানে নিষিদ্ধ করা হয় জইশকে। তখন সে আফগানিস্তানে পালিয়ে গিয়ে তালিবানের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সংগঠনকে নতুন করে গড়ে তোলে।