
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 December 2024 07:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘এক দেশ এক ভোট’ ব্যবস্থা চালু করতে সংসদে পয়লা বাধা পেরিয়ে গিয়েছে সরকার। এই সংক্রান্ত বিলটি লোকসভায় পেশ করার আগে বিরোধীদের প্রস্তাব মেনে ভোটাভুটি হলে তাতে স্বচ্ছন্দে জিতে যায় সরকার পক্ষ। বিলটি এরপর পেশ করে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে সেটি যৌথ সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
কিন্তু বিজেপি শিবিরে মঙ্গলবার সংসদের এই সাফল্য পুরোপুরি স্বস্তির হয়নি। এক দেশ এক ভোট ব্যবস্থাকে দল মনে করে এক ঐতিহাসিক ব্যবস্থা, যা নরেন্দ্র মোদীর সরকারের হাত দিয়ে চালু হতে যাচ্ছে। সেই কারণে মঙ্গলবার সব সাংসদকে লোকসভায় হাজির থাকতে তিন লাইনের হুইপ জারি করা হয়েছিল। দেখা যায় বিজেপির কুড়িজন সাংসদ অধিবেশন কক্ষে অনুপস্থিতি। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মন্ত্রী নিতিন গডকরি, জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া, গিরিরাজ সিং, শান্তনু ঠাকুরের মতো মন্ত্রীরা। বাংলার সাসংদ জগন্নাথ সরকারও সভায় ছিলেন না।
এ নিয়ে শাসক দলকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কংগ্রেসে সাংসদ শশী তারুর। তিনি বলেন, বিলটি পাশ করাতে দুই তৃতীয়াংশ সাংসদের সমর্থন দরকার হবে। লোকসভা, রাজ্যসভাও কোথাও শাসক শিবিরের সেই সংখ্যা নেই। তার উপর বিল পেশের দিন হুইপ থাকা সত্ত্বেও বহু এমপি আসেননি।
মঙ্গলবার দিন ভর সাংসদদের অনুপস্থিতি নিয়ে জল্পনা চললেও কেউ স্পষ্ট করেননি অনুপস্থিতির কারণ। বেশি রাতে বিজেপির সংসদীয় দল সূত্রে জানা গিয়েছে, দল অনুপস্থিত সাংসদদের কারণ দর্শানোর নোটিস ধরাতে চলেছে। দলীয় সূত্রে খবর, এতজন সাংসদের অনুপস্থিতি নিয়ে বিরক্ত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডারা।
মঙ্গলবার বিলটি পেশ করার অনুমতি সংক্রান্ত ভোটাভুটিতে সরকারের পক্ষে ২৬৩ এবং বিরোধীদের দিকে ১৯৮জন ভোট দেন। যদিও লোকসভায় বিলটি পাশ করাতে হলে ৩৬২জন সাংসদের সমর্থন দরকার। বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ-র হাতে ওই সংখ্যা নেই। মনে করা হচ্ছে সরকার সেই কারণেই বিলটি সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠিয়েছে ঐকমত্য তৈরির লক্ষ্যে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংসদে বলেছেন, বিলটিতে মন্ত্রিসভা অনুমোদন দেওয়ার দিনেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বিলটি পেশ করার পর কমিটির কাছে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিজেপি সূত্রের খবর, তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি এবং ডিএমকের সমর্থন ছাড়া বিলটি লোকসভায় পাশ করানো কঠিন।