
ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 30 October 2024 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হরিদ্বারে রেললাইন থেকে উদ্ধার ডিটোনেটর। রাতের অন্ধকারে কেউ রেললাইনে ওই বিস্ফোরকটি রেখে যায়। স্থানীয়দের নজরে আসায়, তারা রেল পুলিশকে খবর দেয়। রেল পুলিশের তৎপরতায় সেটিকে সরানো হয় তড়িঘড়ি। ট্রেন লাইনচ্যুত করার ছকই ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানাচ্ছে পুলিশ। ঘটনায় একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যাচ্ছে, ডিটোনেটরটি রাতে কেউ রেখে যায়, সেটি চোখে পড়ে স্থানীয়দের। পরে পুলিশকে খবর দিলে বুধবার ভোরে তা রেললাইন থেকে সরানো হয়। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে এক সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করেন তদন্তকারীরা। তবে, কেন রেললাইনে সে ওই ডিটোনেটর রেখেছিল, সেনিয়ে এখনও মুখ খোলেনি।
জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে পুলিশ, এই ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, বৃহস্পতিবার রাতে দিল্লি-লখনউ বরেলি-বারাণসী এক্সপ্রেস উত্তরপ্রদেশের ওপর দিয়ে যাচ্ছিল। কানপুরের কাছে রেলওয়ে ট্র্যাকে ২ ফুট উঁচু একটি গাছের গুঁড়িতে ধাক্কা খায় সেটি। গাছের গুঁড়ি দূর থেকে খেয়াল করতে পারেননি ট্রেনের চালক। ফলে গুঁড়িতে ধাক্কা লাগে এবং সেটিকে টেনে হিঁচড়ে অনেক দূর নিয়ে যায় বরেলি-বারাণসী এক্সপ্রেস।
এই ঘটনা প্রথম নয়, উত্তরপ্রদেশে শেষ কয়েক মাস ধরে এমন ঘটনা ঘটছে। ট্রেন লাইনচ্যুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে প্রয়াগরাজে রেললাইনের উপর ফেলে রাখা হয়েছিল বড় গ্যাস সিলিন্ডার, সাইকেল, দেশলাই ও পেট্রল। প্রয়াগরাজ থেকে হরিয়ানার ভিওয়ানির দিকে যাচ্ছিল কালিন্দি এক্সপ্রেস। সিলিন্ডারে ট্রেনটি ধাক্কা খায়। ৫০ মিটার দূরে গিয়ে পড়ে সেটি। ব্রেক কষেন চালক। সেইবারও বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়। সিলিন্ডার, দেশলাই, সাইকেল দেখে পুলিশের অনুমান ছিল, পরিকল্পিত ভাবেই এই কাজ করা হয়েছে।
ওই মাসের শেষের দিকে প্রয়াগরাজ ডিভিশনের পেরাম্বুর স্টেশন থেকে কিছুটা দূরে রেললাইনের উপর ফের সিলিন্ডার দেখতে পান চালক। ব্রেক কষে ট্রেন দাঁড় করান।
তার আগে ২৩ অগস্ট রাজস্থানের পালি জেলায় আহমেদাবাদ-যোধপুর বন্দে ভারতের সামনে সিমেন্টের ব্লক ফেলে রাখা হয়। ওই দিনই ফারুকাবাদ এক্সপ্রেসের সামনে রাখা হয়েছিল কাঠের গুঁড়ি। ১৭ অগস্ট কানপুরের কাছে রেললাইনে থাকা কোনও কিছুতে ধাক্কা খেয়ে লাইনচ্যুত হয় সাবরমতী এক্সপ্রেসের ২০টি কামরা।
কিছুদিন আগে মধ্যপ্রদেশের বুরহানপুরে একইরকম ঘটনা হয়য রেলওয়ে ট্র্যাক থেকে উদ্ধার হয় ১০টি বিস্ফোরক। বিস্ফোরণ ঘটিয়ে ট্রেন উড়িয়ে দেওয়াই পরিকল্পনা ছিল বলে জানায় গোয়েন্দা বিভাগ।
এই প্রত্যেকটা ঘটনা একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। গোটা বিষয় খতিয়ে দেখছে এনআইএ। সেই তালিকায় হরিদ্বারের এই ঘটনাও জুড়বে বলে মনে করছে পুলিশ।