
শেষ আপডেট: 18 December 2023 15:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০০১ সালের ১৩ ডিসেম্বর সংসদে হামলা চালিয়েছিল সশস্ত্র জঙ্গিরা। বুধবার ১৩ ডিসেম্বর হঠাৎ তেমনই আতঙ্ক ফিরে এল নতুন সংসদ ভবনে। লোকসভার ভিজিটরস গ্যালারি থেকে দুটি ক্যানিস্টার নিয়ে সাংসদদের বেঞ্চের দিকে ঝাঁপ দিলেন দুই যুবক। তারপর তারা ক্যানিস্টার খুলে দেন লোকসভার মধ্যেই, যা দেখে গল গল করে ধোঁয়া বা গ্যাস বেরোতে থাকে। এ ঘটনায় হতচকিত হয়ে গিয়ে লোকসভার মধ্যেই দৌড়েদৌড়ি পড়ে যায়।
পুরনো সংসদ ভবনের পরিবর্তে নতুন সংসদ ভবনে অধিবেশন শুরু হয়ে গিয়েছে। সেই ভবনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে অনেক ঢক্কানিনাদ করা হয়েছিল। কিন্তু সেই বজ্রআঁটুনিতে যে বড়সড় ছিদ্র রয়েছে তা বুধবার প্রমাণিত হয়ে গেল।
সংসদ ভবনে আম দর্শনার্থীরা পরের কথা কোনও সাংবাদিকও পকেটে সিগারেট দেশলাই নিয়ে ঢুকতে পারেন না। সংসদ ভবনে প্রেস গ্যালারিতে ঢুকতে গেলেও মোবাইল ফোন বাইরে রেখে ঢুকতে হয়। সেখানে দু’জন যুবক ক্যানিস্টার নিয়ে কীভাবে ঢুকে পড়লেন সেটা বিষ্ময়ের বইকি।
যে দুই যুবক ঝাঁপ দিয়েছিলেন তারা "স্বৈরতন্ত্র চলবে না" বলে স্লোগান তুলছিলেন। অর্থাৎ নাশকতার উদ্দেশ্য সম্ভবত তাদের ছিল না। কোনও রাজনৈতিক বার্তা দিতেই তারা এই কাণ্ড ঘটিয়েছিলেন।
কিন্তু তাতে নিরাপত্তার প্রশ্ন লঘু হয় না। লোকসভায় কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী এদিন বলেন, “নিঃসন্দেহে এ হল নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি। সবচেয়ে বড় উদ্বেগের যে সংসদে হামলার বর্ষপূর্তির দিনই এ ঘটনা ঘটল”।
সংসদের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই ফাঁক নিয়ে তৃণমূলও সরকারের সমালোচনা করেছে। ত়ৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ, “পুরনো সংসদ ভবনের পরিবর্তে নতুন সংসদ ভবন চালু করার সময়ে তার নিরাপত্তা ব্যবস্থা, স্ক্যান, ইত্যাদি নিয়ে লম্বা চওড়া কথা বলা হয়েছিল। সবটাই দেখনদারি। আসলে ফাঁপা। এই নিরাপত্তার ব্যর্থতার তদন্ত চাই। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহকে এর জবাব দিতে হবে।”
লোকসভায় তৃণমূল নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ও বলেন, গ্যাস ভর্তি দুটি ক্যানিস্টার নিয়ে ভিজিটরস গ্যালারিতে দুজন ঢুকলে কীভাবে? এটা যদি নিরাপত্তায় ব্যর্থতা না হয়, তাহলে একে কী বলা যাবে!