1.webp)
রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস কিন্তু দুই রাজ্যের বিধানসভা ভোটে মোটেই আশানুরূপ ফল করতে পারেনি।
শেষ আপডেট: 8 October 2024 17:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১০ বছর পর জম্মু-কাশ্মীরের মানুষ ফের পাহাড়ের ওপার থেকে এক নতুন সূর্যোদয় দেখতে পেলেন। একই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হলেও জম্মু ও কাশ্মীর যেন পৃথিবীর দুই মেরু। সোজা কথায়, জম্মু হল হিন্দু অধ্যুষিত এবং কাশ্মীর হল মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা। সেখানে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বেঁধে ফের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসতে চলেছেন আবদুল্লা সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকার ফারুকপুত্র ওমর আবদুল্লা। প্রায় হারিয়ে যেতে বসা একটা সাম্রাজ্যের পুনরুদ্ধার হতে চলেছে তাঁর হাতে।
কংগ্রেসের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধলেও রাহুল গান্ধীর কংগ্রেস কিন্তু দুই রাজ্যের বিধানসভা ভোটে মোটেই আশানুরূপ ফল করতে পারেনি। বিশেষত জম্মু-কাশ্মীরে কংগ্রেসকে এককথায় প্রত্যাখ্যান করেছে মানুষ। এই প্রথম ডোডায় জিতে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টি জম্মু-কাশ্মীরে খাতা খুললেও কংগ্রেস জম্মুতে মাত্র একটি আসনে জিতেছে। উপত্যকায় ৩২টি আসনে প্রার্থী দিলেও সর্বশেষ প্রবণতা অনুযায়ী কংগ্রেসের হাতে আসছে মাত্র ৬টি। অন্যদিকে, বুথ ফেরত সমীক্ষা সহ কংগ্রেসের দাবি সত্ত্বেও হরিয়ানায় তাদের পকেটে ঢুকছে ৩৬টি আসন। উল্লেখ্য, দুই রাজ্যেই প্রচার করেছেন রাহুল গান্ধী ও প্রিয়ঙ্কা গান্ধী দুজনেই।
পরিসংখ্যান বলছে, তুলনায় জম্মুতে বিজেপি উল্লেখযোগ্য ভালো ফল করেছে। বিজেপি নেতা অমিত মালব্যের দাবি, জম্মু এলাকায় জেতা আসনগুলিতে বিজেপি একাই ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। জম্মুতে জেতা ২৯টি আসনের মধ্যে বিজেপি ৫০ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছে। বিজেপির উন্নয়নমূলক কাজের স্বীকৃতিই এই জনমানসের প্রতিক্রিয়ায় বোঝা গিয়েছে।
কংগ্রেসের এই হালত শুধু জম্মু-কাশ্মীরই নয়, হরিয়ানাতেও প্রতিফলিত হয়েছে। আর তার ফলেই ভোটের ফল প্রকাশ হতে না হতেই রাহুল গান্ধীর জিলিপি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল করে দিয়েছে বিজেপি। উল্লেখ্য, ভোটপ্রচারের সময় হরিয়ানার কংগ্রেস নেতা দীপেন্দর সিং হুডা রাহুল গান্ধীকে মাতুরামের জিলিপি খাইয়ে দিয়েছিলেন। ৫৪ বছরের মধ্যে এটাই নাকি রাহুলের খাওয়া শ্রেষ্ঠ জিলিপি ছিল।
রাহুল আরও বলেছিলেন, যদি এই জিলিপি দেশ এবং দেশের বাইরেও যায় তাহলে এখানে কারখানা গড়ে উঠবে এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ভোটের তিনদিন আগেও রাহুল ইনস্টাগ্রাম পোস্টে মাতুরামের জিলিপিকে বহুজাতিক করার প্রস্তাব দেন। এখন রাহুলের এই জিলিপি প্রীতিই তাঁকে নিয়ে কটাক্ষ ও উপহাসের প্যাঁচে পর্যুদস্ত করে চলেছে।
এদিকে, কাশ্মীরে অনায়াস জয় হাসিল করে উপত্যকায় ফের নতুন করে আবদুল্লা সরকার গঠন হওয়ার মুখে খোদ মুখ্যমন্ত্রী প্রার্থী ওমর বলেন, যারা গত পাঁচ বছর ধরে ন্যাশনাল কনফারেন্সকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল, আজ তারাই মুখ থুবড়ে পড়েছে। কাশ্মীরে পরাজয়কে মেনে নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি বলেন, কাশ্মীরে মানুষ মনে করেছেন যে, এনসি এবং কংগ্রেস জোট উপত্যকাকে স্থায়ী সরকার দিতে পারবে। ওরা বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যেতে পারবে। এটাই ওদের জয়ের বড় কারণ। কেন্দ্র যেন এই ফলাফল থেকে শিক্ষা নেয়। এরপর আর যেন সরকারের কাজে হস্তক্ষেপ বা নাক না গলায়।
এই অবস্থায় প্রায় ৯ বছর বিধানসভার আড়ালে থাকা ওমর আবদুল্লা বসতে চলেছেন পুরনো পদে। তার প্রধান কারণ একটিই নরেন্দ্র মোদী সহ বিজেপির তাবড় নেতা আবদুল্লা পরিবার নিয়ে কথা বললেও মিস্টার ক্লিন বলে পরিচিত ওমরের গায়ে কোনও কালির ছিটে দিতে পারেননি। চুপচাপ, অনাড়ম্বর, প্রচারহীন কাজ করে গিয়েছেন রাজ্যের চৌহদ্দির মধ্যে। আর এই লেগে থাকারই সুফল পেতে চলেছেন আজ, বিধানসভা ভোটে।