প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বিশ্ব আজ ভারতের উপর আস্থা রাখছে, বিশ্বাস রাখছে। ইতিমধ্যেই ২০২১ সালের পর থেকে ১০টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পে প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নরেন্দ্র মোদী
শেষ আপডেট: 2 September 2025 12:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: “গত শতক গড়ে উঠেছিল তেলের উপর। আর বর্তমান যুগ দাঁড়িয়ে আছে ছোট্ট একটি চিপের উপর (Oil Was Black Gold, Chips Are Digital Diamonds)।” মঙ্গলবার ‘সেমিকন ইন্ডিয়া ২০২৫’ (Semicon India 2025) সম্মেলনের উদ্বোধনে এমন মন্তব্যই করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (PM Narendra Modi)। তিনি বলেন, তেলকে যেমন একসময় ‘কালো সোনা’ (Black Gold) বলা হত, তেমনই সেমিকন্ডাক্টর চিপ এখন ‘ডিজিটাল হিরে’ (Digital Diamond)।
প্রধানমন্ত্রীর দাবি, বিশ্ব আজ ভারতের উপর আস্থা রাখছে, বিশ্বাস রাখছে। ইতিমধ্যেই ২০২১ সালের পর থেকে ১০টি সেমিকন্ডাক্টর প্রকল্পে প্রায় ১৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। “ভারতই গড়ে তুলবে ভবিষ্যতের সেমিকন্ডাক্টর দুনিয়া,” জানিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী।
মোদী আরও জানান, কেন্দ্র ইতিমধ্যেই ইন্ডিয়া সেমিকন্ডাক্টর মিশনের পরবর্তী ধাপে কাজ শুরু করেছে। নতুন ‘ডিজাইন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ (DLI)’ প্রকল্পকে বাস্তব রূপ দেওয়ার প্রস্তুতিও চলছে। তাঁর কথায়, “দূরে নয় সেই দিন, যেদিন ভারতে তৈরি ক্ষুদ্রতম চিপ বদলে দেবে গোটা দুনিয়া।”
শুধু চিপ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়, সেমিকন্ডাক্টরকে ঘিরে গোটা এক ইকোসিস্টেম তৈরি করছে ভারত। এমনটাই দাবি প্রধানমন্ত্রীর। তাঁর মতে, এই উদ্যোগ ভারতের শিল্পকে করবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক এবং আত্মনির্ভরশীল।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতের সেমিকন্ডাক্টর বাজার ছিল প্রায় ৩৮ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবর্ষে তা বেড়ে ৪৫-৫০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০৩০ সালের মধ্যে বাজার আরও দ্বিগুণ হয়ে ১০০-১১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছনোর সম্ভাবনা রয়েছে।
তিন দিনের এই সম্মেলনের লক্ষ্য ভারতে শক্তিশালী, টেকসই এবং আধুনিক সেমিকন্ডাক্টর ইকোসিস্টেম গড়ে তোলা। আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে সেমিকন ইন্ডিয়া প্রোগ্রামের অগ্রগতি, উন্নত প্যাকেজিং প্রকল্প, স্মার্ট ম্যানুফ্যাকচারিং, গবেষণা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় উদ্ভাবন, বিনিয়োগের সুযোগ এবং রাজ্যস্তরে নীতি প্রয়োগ।
সম্মেলনে জোর দেওয়া হয়েছে ডিজাইন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ প্রকল্পের প্রসারে, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের বৃদ্ধিতে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায়। ভবিষ্যতের রোডম্যাপও তুলে ধরা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রীর দফতরের (PMO) তরফে জানানো হয়েছে, এই মহাসম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ২০,৭৫০ জন, যাঁদের মধ্যে রয়েছেন ৪৮টি দেশের ২,৫০০-র বেশি প্রতিনিধি। বক্তব্য রাখছেন ১৫০-রও বেশি বক্তা, তার মধ্যে ৫০ জন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শিল্পনেতা। প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছে প্রায় ৩৫০ প্রতিষ্ঠান। বুধবার সম্মেলনের সিইও গোল টেবিলেও যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।