
শেষ আপডেট: 24 November 2023 14:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাপের কামড়ে মৃত্যু হলেই মিলবে ৪ লাখ টাকার সরকারি অনুদান। আর সেই লোভে ঘরের মধ্যে বিষাক্ত সাপ ছেড়ে দিলেন এক ব্যক্তি। গোখরো সাপের ছোবলে তাঁর স্ত্রী ও কন্যার মৃত্যু হয়। ভয়ঙ্কর ঘটনাটি ঘটেছে ওড়িশার গঞ্জামে। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেরায় স্ত্রী এবং কন্যাকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি।
স্ত্রীর সঙ্গে মাঝেমধ্যেই অশান্তি হত। সেই অশান্তি থেকে মুক্তি পেতে স্ত্রীকে খুন করার ষড়যন্ত্র করেছিলেন গণেশ। কিন্তু খুন এমনভাবে পরিকল্পনা করেছিলেন যাতে সেটি সকলের চোখে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হয়। এর জন্য বেছে নিয়েছিলেন গোখরো। আর সাপের কামড়ে মৃত্যু হলে মিলবে অনুদানও। তাই স্ত্রী-কন্যা যে ঘরে ঘুমোন, সেই ঘরে গোপনে গোখরো ছেড়ে দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। রাতে ঘুমিয়ে থাকার সময় সেই সাপের ছোবলে মৃত্যু হয় স্ত্রী-কন্যার। বছর পঁচিশের গণেশ পুলিশের কাছে সমস্ত কথাই স্বীকার করেছে।
২০২০ সালে গণেশ ও বাসন্তীর বিয়ে হয়। পরে তাঁদের একটি কন্যা সন্তান হয়। বিয়ের যৌতুক নিয়ে প্রায় দম্পতির মধ্যে কলহ লেগেই থাকত। গত ৭ অক্টোবর ঘর থেকে তাঁর স্ত্রী বাসন্তী এবং কন্যা দেবস্মিতার দেহ উদ্ধার হয়। একইসঙ্গে উদ্ধার হয়েছে গোখরো সাপটিও। ঘটনাটির পর শ্বশুরবাড়ি এবং গ্রামবাসীদের কাছে গণেশ দাবি করেছিলেন, গোখরোর ছোবলেই মৃত্যু হয়েছে তাঁর স্ত্রী এবং সন্তানের। সেই প্রেক্ষিতে অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা দায়ের হয়।
এদিকে মেয়ে ও নাতনির মৃত্যুতে সন্দেহ প্রকাশ করেন বাসন্তীর বাপের বাড়ির লোকজন। বাসন্তীর বাবা জামাইয়ের বিরুদ্ধে কন্যা এবং নাতনিকে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই বাসন্তীর বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নামে পুলিশ।
গণেশকে আটক করে শুরু হয় জেরা। প্রাথমিকভাবে বারবারই তিনি স্ত্রী-সন্তানের সাপের ছোবলে মৃত্যু হয়েছে তাই এই ঘটনায় তাঁর কোনও হাত নেই বলে দাবি করেন।। কিন্তু শেষমেশ গণেশ নিজের পরিকল্পনার কথা পুলিশকে জানাতে বাধ্য হয়।
গঞ্জামের পুলিশ সুপার জগমোহন মীনা জানিয়েছেন, গত ৬ অক্টোবর স্ত্রী-কন্যাকে মারতে গোখরো নিয়ে আসার জন্য এক সাপুড়ের কাছে গিয়েছিলেন গণেশ। সাপুড়েকে গণেশ জানান, বাড়িতে পুজো রয়েছে। তাই সাপের প্রয়োজন। এরপর সাপুড়ে প্লাস্টিকের একটি পাত্রে গোখরো সাপটি দেন। রাতে স্ত্রী এবং কন্যা ঘুমিয়ে পড়লে গোখরোটি ওই ঘরে ছেড়ে দেন তিনি। গোখরোর ছোবলে মৃত্যু হয় তাঁর স্ত্রী ও সন্তানের।
অভিযোগ উঠলেও প্রাথমিকভাবে গণেশের বিরুদ্ধে কোনও তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে পারছিল না পুলিশ। কিন্তু ক্রমাগত জেরার মুখে অবশেষে খুনের সমগ্র পরিকল্পনা নিজেই স্বীকার করে গণেশ। এরপই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।