
শেষ আপডেট: 28 February 2024 00:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুধু হিমাচল প্রদেশ নয়, মঙ্গলবার ‘ক্রস ভোটিং’-এর সাক্ষী থাকল উত্তরপ্রদেশ। এবং আক্ষরিক অর্থেই ‘ক্রস ভোটিং’-এর সুফল পেল বিজেপি।
সংখ্যাতত্ত্বের নিরিখে উত্তরপ্রদেশের রাজ্যসভার ১০টি আসনের মধ্যে বিজেপির সাত এবং সমাজবাদী পার্টির তিনটি আসনে জয়ী হওয়ার কথা। তবে ফল প্রকাশের পর দেখা গেল বিজেপি আটটি অর্থাৎ অতিরিক্ত একটি আসনে জয় পেয়েছে গেরুয়া শিবির।
অন্যদিকে নিজেদের প্রত্যাশিত তিনটি আসনের মধ্যে একটি খোয়াতে হয়েছে সমাজবাদী পার্টিকে। সমাজবাদী পার্টির তরফে জিতেছেন জয়া বচ্চন-সহ দুই প্রার্থী।
ক্রস ভোটিং হয়েছে, দক্ষিণের রাজ্য কর্নাটকেও। সেখানে রাজ্যসভার চারটির মধ্যে তিনটি আসনে জিতেছে কংগ্রেস। বিজেপির একজন জয়ী হয়েছেন।
তবে ক্রস ভোটিংয়ের নিরিখে অন্য রাজ্যগুলিকে ছাপিয়ে গিয়েছে হিমাচল প্রদেশের ভোট। ৬৮ আসনের হিমাচল প্রদেশ বিধানসভায় কংগ্রেসের কাছে ৪০ জন বিধায়ক রয়েছে। বিজেপির কাছে রয়েছে ২৫ জন বিধায়ক। রাজ্যসভা ভোটের সহজ অঙ্কে কংগ্রেসেরই জিতে যাওয়ার কথা। কিন্তু এই হারার খেলাতেও দলের প্রার্থী হর্ষ মহাজনকে জিতিয়ে আনলেন অমিত শাহ-জেপি নাড্ডারা।
ওয়াকিবহাল মহলের মতে, রাজ্যসভা ভোটে ক্রস ভোটিং বা প্রতিপক্ষের বিধায়ককে ম্যানেজ করে অনুপস্থিত রাখা নতুন খেলা নয়। বাংলায় এর ঐতিহাসিক নজির রয়েছে। কিন্তু মঙ্গলবার হিমাচল প্রদেশে যা ঘটেছে তা এক প্রকার বেনজির।
রাজ্যসভা ভোটে প্রতিটি পার্টি হুইপ জারি করে। কংগ্রেসও হুইপ জারি করেছিল। সেই হুইপ অমান্য করে ক্রস ভোট করলে তা দল বিরোধী কার্যকলাপের সামিল। এখন দেখার দলবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে কংগ্রেস দলের বিক্ষুদ্ধ বিধায়কদের সদস্যপদ বাতিলের জন্য পদক্ষেপ করে কিনা।
প্রসঙ্গত, আগামী এপ্রিলে ১৫টি রাজ্যের ৫৬ জন রাজ্যসভার সদস্য অবসর নিতে চলেছেন। এর মধ্যে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১৩টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের মোট ৪১টি আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের বিধায়ক সংখ্যার অনুপাতে প্রার্থী দেওয়ায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই ভোটপর্ব মিটেছে। মঙ্গলবার উত্তরপ্রদেশ, কর্নাটক এবং হিমাচলের মোট ১৫টি আসনে ভোটগ্রহণ হয়। সেখানেই সামনে এসেছে ক্রস ভোটিংয়ের বিষয়টি। যা আদতে গেরুয়া শিবিরের পালে বাড়তি হাওয়া জুগিয়েছে।