
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 26 April 2025 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জম্মু-কাশ্মীরের পহেলগামের জঙ্গি হামলার ঘটনার (Jammu Kashmir Pahalgam) প্রেক্ষিতে বুধবরাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পাঁচটি বড় পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেছে ভারতের বিদেশ মন্ত্রক। পাকিস্তানিদের ভিসা বাতিল, ওয়াঘা সীমান্ত বন্ধর পাশাপাশি সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করার কথা জানানো হয়েছিল।
এবার এ বিষয়ে দেশের অবস্থান আরও স্পষ্ট করলেন কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাটিল। তিনি বলেন, "পাকিস্তান যেভাবে সন্ত্রাসবাদকে মদত দিচ্ছে তার প্রতিবাদ জানাতে আমরা নিশ্চিত করব যাতে সিন্ধু নদ থেকে এক ফোঁটা জলও পাকিস্তানে প্রবাহিত না হয়।"
সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোচনার জন্য শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন পাটিল। বৈঠকের পর পাটিল জানান, জলচুক্তি স্থগিত নিয়ে একাধিক পদক্ষেপ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, "পাকিস্তানের এই সন্ত্রাসবাদকে মেনে নেওয়ার প্রশ্নই নেই। এর বিরুদ্ধে যা যা দরকার, সবই করা হবে।"
পর্যবেক্ষকদের মতে, সিন্ধু জলচুক্তি শেষ পর্যন্ত ভারত বাতিল করলে অর্থনৈতিক সঙ্কটে বিপর্যস্ত পাকিস্তানের শুধু চাপ বাড়বে তাই নয়, 'ভাতে মরার' পরিস্থিতি তৈরি হবে।
কারণ, পাকিস্তানের ঝিলম, চেনাব, রবি, বিয়াস এবং সাতলুজ নদীগুলি সিন্ধু নদের জলের ওপর নির্ভর করে। এই নদীগুলি থেকেই পাকিস্তানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে জল পৌঁছয়। তাই সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিত করে দেওয়ার মানে তার প্রত্যক্ষ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কৃষিতে। সে ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সঙ্কট আরও বাড়বে।
এই সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি কী?
টানা ন’বছর ধরে আলোচনার পর ১৯৬০ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতায় ভারত-পাক সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি হয়েছিল। বিশ্ব ব্যাঙ্কের মধ্যস্থতায় তৎকালীন ভারতের প্রধানমন্ত্রী (প্রথম ) জওহরলাল নেহরু ও পাক প্রেসিডেন্ট জেনারেল আয়ুব খান চুক্তিতে সই করেছিলেন। চুক্তিতে বলা হয়েছিল, ভারত বা পাকিস্তান নিজেদের প্রয়োজনে ওই জল ব্যবহার করলেও কোনও অবস্থাতেই জলপ্রবাহ আটকে রাখতে পারবে না।
যদিও ২০১৬ সালে ভারতের বিরুদ্ধে ওই জল চুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ এনেছিল পাকিস্তান। এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতেও যায় পাকিস্তান। তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংশ্লিষ্ট আদালতের তরফে পাকিস্তানের অভিযোগ খারিজ করা হয়। অন্যদিকে সিন্ধু জলচুক্তি পুনর্মূল্যায়ণের জন্য ২০২৩ সালে পাকিস্তানকে নোটিস পাঠিয়েছিল ভারত।
পর্যবেক্ষকদের মতে, চুক্তি স্থগিতের ঘোষণা করে ভারত আদতে পাকিস্তানের সঙ্গে সিন্ধু জলবণ্টন চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল। কারণ, এর আগে ১৯৬৫, ১৯৭১, ১৯৯৯ সালের যুদ্ধ দেখেছে এই জলচুক্তি। কিন্তু সেই সময়ও তা বাতিল বা স্থগিত করা হয়নি। এবারে সত্যি সত্যি চুক্তি বাতিল হলে পাকিস্তানের কৃষিকাজ কার্যত শেষ হয়ে যেতে পারে।