এই খুনের ঘটনায় রাজ শুধুমাত্র খরচা বাবদ তিন যুবককে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিল, তার বেশি নয়।

রাজা-সোনম-রাজ (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 16 June 2025 15:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'চুক্তিভিত্তিক খুন' নয়, বন্ধুর অনুরোধে ইন্দোরের রাজা রঘুবংশীকে হত্যা করা হয়েছিল, এমনই চাঞ্চল্যকর দাবি করল মেঘালয় পুলিশ। এই খুনের মামলায় ধৃত তিন যুবক বিশাল, আকাশ ও আনন্দ আদতে মূল চক্রী রাজ কুশওয়ার বন্ধু। এদের মধ্যে একজন রাজের আত্মীয়ও।
পূর্ব খাসি হিলস জেলার পুলিশ সুপার বিবেক সিয়েম সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, এটা পরিকল্পিত খুন বটে, কিন্তু টাকার বিনিময়ে হয়নি। রাজের অনুরোধেই তারা এই কাজ করে। এটাকে 'কন্ট্র্যাক্ট কিলিং' বলা যাবে না। মৃত রাজা রঘুবংশীর স্ত্রী সোনম এই ঘটনায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত। খুনের মূল চক্রী রাজ অর্থাৎ সোনমের প্রেমিক।
এই খুনের ঘটনায় রাজ শুধুমাত্র খরচা বাবদ তিন যুবককে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিল, তার বেশি নয়। আর এই টাকা তাদের কাছে এসেছিল সোনমের এক আত্মীয়ের নামে খোলা অ্যাকাউন্ট থেকে। অর্থাৎ টাকা নয়, বন্ধুত্বই এক্ষেত্রে কাজ করেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারিতেই ইন্দোরে বসে রাজা রঘুবংশীকে খুনের ছক কষা হয়। এমনকি বিকল্প পরিকল্পনাও ছিল, যেখানে ভাবা হয়েছিল, কোনও অচেনা মহিলাকে খুন করে দেহ পুড়িয়ে ফেলা হবে, যাতে সেই দেহ সোনমের বলে চালিয়ে দেওয়া যায়। এতে সোনম আরও কিছুদিন গা-ঢাকা দিয়ে থাকতে পারত।
১১ মে সোনম ও রাজার বিয়ে হয়। কয়েকদিন পরেই দু’জনে মেঘালয়ের পূর্ব খাসি হিলসে হানিমুনে যান। ২৩ মে চেরাপুঞ্জির জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা সোহরা থেকে নিখোঁজ হন। ২ জুন ওয়াইসাওডং জলপ্রপাতের কাছে গভীর খাদে পড়ে থাকা অবস্থায় রাজার দেহ উদ্ধার হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার দিন অর্থাৎ ২৩ মে দুপুর ২টা থেকে ২টা ১৮-র মধ্যে তিন যুবক মিলিতভাবে রাজাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায়। সোনম তখন সামনেই দাঁড়িয়ে দেখছিল পুরোটা। পরে রাজার দেহ গড়িয়ে দেওয়া হয় খাদে।
রাজা রক্তাক্ত হওয়ার পর আকাশের জামাতেও রক্ত লাগে। তখন সোনম নিজের রেইনকোট খুলে আকাশকে দেয়, যাতে তার জামা ঢাকা থাকে। পরে সেই রেইনকোটও ফেলে দেওয়া হয়। দম্পতির ভাড়া করা স্কুটার এর পর ফেলে রেখে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। দু’টিই পরে উদ্ধার করে পুলিশ।
রাজা খুন হওয়ার পরে সোনমকে পালাতে সাহায্য করে রাজ। বিশাল তাকে একটি বোরখা জোগাড় করে দেয়। সেই বোরখা পরে সোনম শিলং-এর পুলিশ বাজার থেকে ট্যাক্সি নিয়ে গুয়াহাটি যায়, সেখান থেকে বাসে করে পৌঁছয় শিলিগুড়ি, এরপর পাটনা হয়ে আরা এবং সেখান থেকে ট্রেনে লখনউ। শেষে সে ফের ইন্দোরে ফিরে আসে।
রাজ পরিকল্পনা করে সোনমকে শিলিগুড়ি থেকে ফের আত্মপ্রকাশ করতে বলে। সে যেন বলে, অপহরণ চক্রের হাত থেকে কোনওভাবে পালিয়ে এসেছে। কিন্তু এর মধ্যেই পুলিশ ইউপি ও মধ্যপ্রদেশে পৌঁছে গিয়েছিল। আকাশ ধরা পড়তেই সোনমের নাটক ভেস্তে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তারা ভেবেছিল রাজার দেহ উদ্ধার করতেই অনেক সময় লেগে যাবে, তদন্ত ধীরে চলবে। তাই সোনমকে ‘ভিক্টিম’ সাজিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাবে।
বুধবার সোনম, রাজ, বিশাল, আকাশ ও আনন্দ, এই পাঁচ অভিযুক্তকে আটদিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রত্যেকের বয়ান রেকর্ড করা হচ্ছে, প্রমাণ সংগ্রহ চলছে। গোটা ঘটনার পুনর্গঠনও করা হবে। তদন্তকারী অফিসারদের দাবি, ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।