
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 4 March 2025 20:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাস্তাঘাটে বা এক কথায় পাবলিক প্লেসে স্তন্যপান করাতে গিয়ে হামেশাই সমস্যায় পড়েন বহু মহিলা। আশেপাশের লোকেদের দেখে ইতঃস্তত বোধ করা তো আছেই, মাঝেমধ্যে নানা কটূক্তির শিকারও হতে হয় তাঁদের। এই ইস্যুতে কেন্দ্র এবং রাজ্যকে বড় নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। স্পষ্ট বলা হয়েছে, শিশুদের স্তন্যপান করানো মায়েদের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করতে হবে।
‘মাতৃ স্পর্শ’ নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সুপ্রিম কোর্টে এই বিষয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিল। তাঁরা আর্জি জানায়, রাস্তাঘাটে স্তন্যপান করানোর জন্য আলাদা ঘর তৈরির নির্দেশ দিক শীর্ষ আদালত। বিচারপতি বিভি নাগরত্ন এবং বিচারপতি প্রসন্ন বি বরালের বেঞ্চ সেই সংক্রান্ত নির্দেশ দিয়েছিল বলেই এখন জানা গেছে।
২০২৪ সালে কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গবৈষম্য রুখতে একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। সেখানে কাজের জায়গায় স্তন্যপানের আলাদা কক্ষের কথা বলা হয়েছিল। বর্তমান মামলার শুনানিতে সেই নির্দেশিকা কার্যকর করার কথাই বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। এই মামলার শুনানি গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হলেও শীর্ষ আদালতের নির্দেশকাটি সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে।
এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ, স্তন্যপানের বিষয়টি মোটেই নেতিবাচক ব্যাপার নয়। এটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে পড়ে। মা ও সদ্যোজাত শিশুর ভাল থাকা ও সুস্থ থাকার জন্য স্তন্যপান করানো অপরিহার্য। বিষয়টিকে যাতে নেতিবাচক হিসেবে দেখা না হয় সেজন্য নাগরিকদেরই বড় ভূমিকা নিতে হবে বলে জানিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত।
শুধুমাত্র রাস্তাঘাট বা বাস-ট্রেন, মেট্রোতে নয়, কর্মক্ষেত্রেও অনেক সময়ে স্তন্যপান করাতে গিয়ে হয়রানির শিকার হতে হয় মহিলাদের। সেক্ষেত্রে আলাদা ঘর তৈরি করার নির্দেশ যে সেই সব মহিলাদেরও স্বস্তি দেবে তা নিশ্চিত। গত বছরই নারী ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রক এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় যৌথ ভাবে রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে একটি নির্দেশিকা দেয়। যেখানে সরকারি ভবনে নার্সিং রুম, ক্রেশের জন্য জায়গা বরাদ্দের কথা বলা হয়েছিল।
ইতিমধ্যে ৫০ বা তার বেশি মহিলা কর্মচারী রয়েছে এমন প্রতিটি সরকারি ভবনে কমপক্ষে একটি ক্রেশ সহ স্তন্যপান করানোর জন্য জায়গা বরাদ্দ করার কথা বলা হয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।