
শেষ আপডেট: 7 November 2023 20:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশের মধ্যে প্রথম কাস্ট সেন্সাস বা জাত গণনা করিয়ে আগেই বাজিমাত করেছেন। এবার তফসিলি জাতি, উপজাতি এবং অন্যান্য অনুন্নত বা ওবিসি'দের জন্য সরকারি চাকরি, শিক্ষায় সংরক্ষণের কোটা ৫০ শতাংশ থেকে একলাফে ৬৫ শতাংশ করার কথা ঘোষণা করলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী।
সোমবার রাজ্য বিধানসভায় পরিষদীয় মন্ত্রী বিজয় চৌধুরী জাত গণনার রিপোর্টটি পেশ করেন। গত মাসে রাজ্য সরকার রিপোর্টটি প্রকাশ করে। তাতে দেখা যায়, বিহারের ১৩ কোটি মানুষের ৬৩ শতাংশই ওবিসি। অর্থাৎ আর্থিকভাবে অত্যন্ত পিছিয়ে থাকা অংশ।
সোমবার রিপোর্টের উপর বিতর্কে পরিষদীয় মন্ত্রী জানান, বিহারের প্রতি তিনজনের একজন অত্যন্ত গরিব। তাদের পারিবারিক আয় মাসে মাত্র ছয় হাজার টাকার কম। এরপরই মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার সংরক্ষণের কোটা বৃদ্ধির কথা ঘোষণা করেন।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, জাত গণনার পর চাকরি, শিক্ষায় কোটা বৃদ্ধি করে নীতীশ অন্ত্যত বিহারের রাজনৈতিক সমীকরণে শাসক জোট মহা গঠবন্ধনকে বিজেপির তুলনায় এগিয়ে দিলেন। বিজেপিকে এই ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। বিহারে লোকসভা ভোট নীতীশের ইস্যুতে ভোট হবে, এমনটাও মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
নীতীশের ঘোষণায় বিজেপি বিপাকে পড়ল বলে মনে করছে রাজনীতির বিশেষজ্ঞরা। জাত সমীক্ষা নিয়ে পদ্ম শিবির লাগাতার কটাক্ষ করে চলেছে নীতীশকে। কদিন আগে কেন্দ্রের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মুজফ্ফরপুরের সভায় বলেন, জাত গণনায় অনেক জাতের সংখ্যা বাড়িয়ে দেখানো হয়েছে।
যদিও বিজেপি নেতারা একান্তে মানছেন বিহারের জন্য নীতীশের ঘোষণা মাস্টার স্ট্রোক। ওবিসি সংরক্ষণের কোটা বৃদ্ধি করে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নিম্ন বর্গের হিন্দু এবং মুসলিমদের কাছে টানার ব্যবস্থা করলেন।
যদিও পঞ্চাশ শতাংশের বেশি সংরক্ষণ দেওয়ার সুযোগ রাজ্য সরকারের হাতে নেই। এই সিদ্ধান্ত নিতে পারে কেন্দ্রীয় সরকার। এর আগে পঞ্চাশ শতাংশের বেশি সংরক্ষণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে ছত্তিসগড়, ঝাড়খণ্ড এবং তামিলনাড়ু। তবে সেই সংরক্ষণ কাস্ট সেন্সাসের ভিত্তিতে নয়। নীতীশের ঘোষণায় জাত গণনা এবং কোটা বৃদ্ধি নিয়ে মোদী সরকার চাপে পড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।