বিশ্বমঞ্চে যারা ‘দাদাগিরি’ চালায়, কারণটা তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা - মন্তব্য নীতিন গড়করির।

কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করি
শেষ আপডেট: 10 August 2025 23:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার কঠোর শুল্ক নীতি এই মুহূর্তে কূটনৈতিক প্রেক্ষাপটে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেই প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক মন্ত্রী নিতিন গড়করির মন্তব্য, বিশ্বমঞ্চে যারা ‘দাদাগিরি’ চালায়, তারা তা করে তাদের অর্থনৈতিক ক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার কারণে।
শনিবার নাগপুরের বিশ্বেশ্বরাইয়া ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (VNIT) এক অনুষ্ঠানে তিনি ভারতের রফতানি বাড়ানো, আমদানি কমানো এবং বিজ্ঞান-প্রযুক্তির সাহায্যে আত্মনির্ভরতা অর্জনের ডাক দেন।
গড়করি বলেন, “যারা ‘দাদাগিরি’ করছে, কারণ তারা অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী এবং তাদের কাছে উন্নত প্রযুক্তি আছে। যদি আমাদেরও উন্নত প্রযুক্তি ও সম্পদ থাকে, আমরা কাউকে শোষণ করব না, কারণ আমাদের সংস্কৃতি শিখিয়েছে বিশ্বকল্যাণই সর্বাগ্রে।”
প্রসঙ্গত, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৬ আগস্ট একটি আদেশে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, যা মোট শুল্কহারকে ৫০ শতাংশে নিয়ে গেছে। মার্কিন ইতিহাসে ভারতের ওপর এটাই সবচেয়ে বেশি শুল্ক চাপানোর ঘটনা। এর ফলে টেক্সটাইল, রত্ন, ফার্মাসিউটিক্যালস থেকে শুরু করে গাড়ির যন্ত্রাংশ পর্যন্ত বহু খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
হোয়াইট হাউস এই শুল্কের কারণ হিসেবে ভারতের রাশিয়ান তেল কেনা চালিয়ে যাওয়ার অবস্থানকে দায়ী করেছে। ভারত এ বিষয়ে বলেছে, জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এটি অপরিহার্য। এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে দু’দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় কূটনৈতিক টানাপড়েন তৈরি করেছে। আমেরিকা বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে এবং আরও নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, কৃষক, জেলে ও দুগ্ধ খাতের স্বার্থে ভারত কখনও আপস করবে না, এমনকী তার জন্য বড় মাশুল গুনতেও হলে তাও শিরোধার্য। মোদীর ভাষায়, “আমাদের কাছে কৃষকের স্বার্থই সবার আগে।”
প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং মার্কিন পদক্ষেপের সমালোচনা করে বলেন, কিছু শক্তিধর দেশ ভারতের দ্রুত অগ্রগতি সহ্য করতে পারছে না। আমেরিকাকে ‘সবকা বস’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “অনেকে চেষ্টা করছে যাতে ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ পণ্য দামী হয়ে যায় এবং বিশ্ব তা না কেনে। কিন্তু এখন আর কোনও শক্তিই ভারতকে বড় গ্লোবাল শক্তি হওয়া থেকে আটকাতে পারবে না।”
ভারত এই শুল্ককে “অন্যায্য, অযৌক্তিক ও অগ্রহণযোগ্য” বলে অভিহিত করেছে এবং জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় “সব ধরনের পদক্ষেপ” নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।