
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 5 May 2025 17:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানকে 'ভাতে মারা'র পূর্ণ পরিকল্পনা করে ফেলেছে ভারত। একের পর এক কূটনৈতিক পদক্ষেপ তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। এবার এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের কাছে পাকিস্তানকে অর্থ সাহায্য বন্ধ করার আর্জি জানাল দিল্লি (Nirmala Sitharaman seeks funds cut to Pak from ADB)।
সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন (Finance Minister Nirmala Sitharaman) ইতিমধ্যেই এডিবি প্রেসিডেন্ট মাসাটো কান্দার সঙ্গে বৈঠক সেরেছেন। ওই বৈঠকেই তিনি পাকিস্তানকে অর্থ সাহায্য বন্ধ করার দাবি জানিয়েছেন। একই দাবি নিয়ে ইতালির অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও দেখা করেছেন তিনি।
বিগত কিছু সময়ের মধ্যেই পাকিস্তানে ব্যাপকভাবে অর্থ সংকট দেখা দিয়েছে। তারা ফিলিপাইনসের রিজিওনাল ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের তহবিলের উপর নির্ভরশীল। এমন সময়ে ইসলামাবাদকে এডিবি-র অর্থ সাহায্য বন্ধ করার পিছনে তাৎপর্যপূর্ণ কারণ দেখছে বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা মনে করছেন, আর্থিক সংকট বাড়লে সন্ত্রাসবাদের ক্ষেত্রে অর্থ ব্যয় করার প্রবণতা কমবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল (IMF) তরফে পাকিস্তানকে যে ৭ বিলিয়ন ডলারের প্যাকেজের অনুমোদনের প্রস্তাব নিয়েও ভারত বিরোধিতা করবে বলে জানা গিয়েছে।
এখানেই শেষ নয়, ভারত সরকার পাকিস্তানকে ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের (Financial Action Task Force) গ্রে লিস্টে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাবে। এরফলে ওই দেশের অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক আরও চাপের মুখে পড়তে পারে।
এফএটিএফ বা ফাটফ হল, আন্তর্জাতিক যেকোনও অর্থ অনুদানের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০১৯ সালে পুলওয়ামা হামলার (Pulwama Terror Attack) সময়ে এই পাকিস্তানকেই আন্তর্জাতিক অনুদান বন্ধের জন্য ধূসর তালিকা বা গ্রে লিস্টে পাঠানো হয়েছিল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারত প্রমাণ করেছিল বিদেশ থেকে উন্নয়নের কাজে নেওয়া অনুদানের অর্থ পাক সরকার জঙ্গি পুষতে কাজে লাগায়। ঠিক একইভাবে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন এডিবি-র কাছে একই বিষয় তুলে ধরেছেন যে, পাকিস্তানকে এই মুহূর্তে অনুদান দেওয়া বন্ধ না করলে তারা জঙ্গি দমনের কাজ নাও করতে পারে।
একইসঙ্গে আইএমএফ বৈঠকের আগে ভারতের কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে যাতে পাকিস্তানের হাতে ৭০০ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ না পৌঁছাতে পারে, এমনটা হলে বৈদেশিক মুদ্রার ভাঁড়ারশূন্য। পাকিস্তানের আর্থিক দুরবস্থা একেবারেই তলানিতে চলে যাবে। জঙ্গিদের রসদ সরবরাহ ধাক্কা খাবে।