ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 22 January 2025 13:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত বছরের ডিসেম্বরের শেষে উদ্বোধন হওয়ার কথা থাকলেও একাধিক জটিলতার কারণে এখনও উদ্বোধন হয়নি তামিলনাড়ুর আত্যাধুনিক পম্বন সেতুর। জানা যাচ্ছে, খুব তাড়াতাড়ি ভারত এবং শ্রীলঙ্কার মাঝে অবস্থিত সমুদ্রে ঘেরা রামেশ্বরমের দীর্ঘ রেলসেতু চালু হবে। তবে ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রযুক্তির যতটা প্রোমোশন করা হয়েছিল, বিষয়টা তার থেকে অনেকটাই আলাদা। জানা গেছে, নতুন ব্রিজের মেয়াদকাল খুব ভালমতো সংরক্ষণ করলেও টেনেটুনে ৫৮ বছর। যেখানে পুরনো ব্রিজটি ১০৮ বছরেরও বেশি সময় দাঁড়িয়ে ছিল।
এমন খবর সামনে আসতে রীতিমতো চর্চা শুরু হয়েছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে গিয়ে সেতুর মেয়াদকাল কমছে বলে মত বিশেষজ্ঞদের। ১৯১৪ সালে ব্রিটিশরা এই আশ্চর্য সেতু তৈরি করেছিলেন। যদিও ২০২২ সালের পর থেকে সেতু আত্যাধুনিক করে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। সেই মতো তৈরিও হয়েছে সেতুটি। কিন্তু এখন সেতুর মেয়াদ নিয়েই বড়সড় প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কিন্তু আচমকা কেন এমন আশঙ্কা?
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সেতুটির আয়ু বাড়াতে গিয়েই তার সর্বনাশ ডেকে আনা হচ্ছে। পলিসিলোক্সেন রঙ ব্যবহার করে সেটার আরও ক্ষতি হচ্ছে। ব্রিটিশ শাসনকালের এই সেতু এত বছর দাঁড়িয়ে থাকলেও বড় সমস্যা তো হয়নি, উল্টে আরও কয়েক শতাব্দী সেই সেতু চলতে পারত। কিন্তু ঝাঁ চকচকে করে তুলত গিয়ে আখেরে সর্বনাশ হয়েছে বলেই একটি সমীক্ষা রিপোর্টে উঠে এসেছে।
সাউদার্ন রেলের তরফে প্রকাশ করা রিপোর্টে পরিষ্কার বলা হয়েছে, ব্রিটিশ আমলের সমস্ত জিনিসপত্রের গুণগত মানের কোথা। যা এখনকার সময়ে একেবারেই ভাবা সম্ভব নয়। প্রযুক্তিগতভাবে এই সেতু রীতিমতো বিস্ময় হলেও নতুন সেতুর স্বাস্থ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এটিই ভারতের প্রথম ভার্টিকাল লিফট রেল সেতু। অর্থাৎ, জাহাজ এলে এই সেতু নিজে থেকেই উপরে উঠে যাবে। এই পামবান সেতু তৈরি করে চমক দিচ্ছে সাউদার্ন রেল। এই পম্বন সেতু নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। আগে এই সেতু দিয়ে শ্রীলঙ্কায় পণ্য যেত। ষাটের দশকের প্রবল সামুদ্রিক ঝড়ে এই সেতুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। ১৯১৪ সালে ২৪ ফেব্রুয়ারি এই সেতুর উদ্বোধন হয়েছিল। সমুদ্রের উপর গড়ে ওঠা ভারতের প্রথম রেল সেতু ছিল এটি। ২০১০ সালে মুম্বইয়ে বান্দ্রা-ওরলি সেতু গড়ে ওঠার আগে পর্যন্ত এটিই ছিল ভারতের দীর্ঘতম সেতু।
১৯৮৮ সাল পর্যন্ত এই সেতুটিই তামিলনাড়ুর মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে রামেশ্বরমকে সংযুক্ত রাখার একমাত্র পথ ছিল। জানা যায়, সমুদ্রের মাঝে জাহাজ পারাপারের জন্য এই সেতুর মাঝ বরাবর কিছুটা অংশ একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে পারত। জাহাজ পারাপারের পর সেটি আবার জুড়ে যেত। তারপরে সেই লাইন দিয়ে রেল চলাচল করতে পারত।
২০১৮ সাল থেকে মেরামতির কারণে সেতুটিতে রেল চলাচল বন্ধ থাকে। ২০১৯ সাল থেকে ফের তাতে রেল চলাচল শুরু হয়। নতুন করে এই সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল। ১০৪ বছরের পুরনো সেতুর পরিবর্তে তৈরি হওয়া এই অত্যাধুনিক ব্রিজটি ২ কিমি লম্বা। ছোট বা মাঝারি আকারের জাহাজ ওই পথে গেলে রেলপথ নিজে থেকে উঠে যায়। বর্তমানে রামেশ্বরমের সঙ্গে দক্ষিণ ভারতের সংযোগ স্থাপন করছে এই সেতু।