
প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 4 April 2024 12:42
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছোটবেলা থেকে চিরাচরিত ধারণার বাইরে চলে এল ভারতের প্রাচীন যুগের ইতিহাস। দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে তারই প্রতিফলন ঘটতে চলেছে এবার। যেখানে বলা হয়েছে, হরপ্পা সভ্যতা হল ভারতের দেশজ সভ্যতা। আর্যদের ভারতে আগমনের বিষয়ে সন্দেহ চাগিয়ে তোলা হয়েছে নতুন পাঠ্যক্রমে। শিক্ষা সম্বন্ধীয় গবেষণা ও প্রশিক্ষণের কেন্দ্রীয় সংস্থা ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং বা সংক্ষেপে এনসিইআরটি দ্বাদশ শ্রেণির ইতিহাস বইতে এই তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন ঘটিয়েছে। 'সিন্ধু সভ্যতার উৎস ও পতন' অধ্যায়ে এই বদল আনা হয়েছে। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইতিহাস পাঠ্যবইয়ে এই পরিমার্জিত ও পরিবর্ধিত সংস্করণ চালু করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশনকে (সিবিএসই) সেকথা জানিয়েও দেওয়া হয়েছে।
হরপ্পা সভ্যতার 'ব্রিকস, বিডস অ্যান্ড বোনস' অধ্যায়ের 'থিমস ইন ইন্ডিয়া হিস্টরি পার্ট ওয়ান'-এ এই পরিবর্তন এনেছে এনসিইআরটি। ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সংস্থার সাম্প্রতিক একটি সমীক্ষার উপর ভিত্তি করে এই অংশে পূর্বেকার কিছু লাইন বাদ দিয়ে নতুন সংযোজনা করা হয়েছে। সংযোজনায় হরপ্পা সভ্যতার ৫০০০ বছরের অবিচ্ছিন্ন ধারাবাহিকতার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি হরিয়ানার রাখিগঢ়ীতে সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শনের প্রাচীন ডিএনএ পরীক্ষায় আর্য অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। হরপ্পা সভ্যতা এবং বৈদিক যুগের মানুষ সমসাময়িক কিংবা একই কিনা তা নিয়ে বিস্তারিত গবেষণার প্রয়োজন আছে বলে মনে করে পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণ। হরপ্পায় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার কিছু নিয়মকানুন চালু ছিল বলেও গবেষণায় জানা গিয়েছে। এর উপর ভিত্তি করে এনসিইআরটি তিনটি পরিচ্ছেদ যোগ করেছে। যাতে বলা হয়েছে, এই তাবৎ অঞ্চলের প্রাচীন অধিবাসী হল হরপ্পার লোকজনই। আর্য অনুপ্রবেশের সম্ভাবনা ক্ষীণ।
হরপ্পাবাসীদের জিনগত শিকড় ১০ হাজার খ্রিস্ট পূর্বাব্দের। আজও তাদের ডিএনএ-র ধারাবাহিকতা বজায় আছে। বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলের জনসংখ্যার অধিকাংশই তাদের উত্তরসূরি। আরও একটি বাক্য যোগ করা হয়েছে, যাতে বলা হয়েছে, এর জন্য আরও গবেষণার প্রয়োজন আছে। কারণ, কিছু শিক্ষাবিদের দৃঢ় বিশ্বাস যে, হরপ্পা এবং বৈদিক যুগের মানুষ একই। তাদের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজে বের করার জন্য বৃহত্তর গবেষণার প্রয়োজন।