
ভিকে পান্ডিয়ান এবং নবীন পট্টনায়েক
শেষ আপডেট: 9 June 2024 18:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের সঙ্গেই ওড়িশায় হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচন। দুই ভোটেই ল্যাজে গোবরে হয়েছে বিজু জনতা দল (বিজেডি)। ২০০০ সালের পর থেকে টানা মুখ্যমন্ত্রী থাকার পর এবার পদত্যাগ করতে হয়েছে নবীন পট্টনায়েককে। দলের এই বিপর্যয়ের দায় স্বীকার করে রাজনীতিই ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নবীনের ব্যক্তিগত সচিব তথা প্রাক্তন আমলা ভিকে পান্ডিয়ান। তাঁর বক্তব্য, দলের হারার জন্য তিনিই দায়ী। তাই সরে দাঁড়াচ্ছেন।
গত নভেম্বর মাসে আমলার চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দিয়েছিলেন পান্ডিয়ান। নবীন পট্টনায়েক সরকারের সঙ্গে মিলিত হয়ে রাজ্যের জন্য আরও ভাল করতে চেয়েছিলেন তিনি, এমনটাই জানিয়েছেন। তবে দলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে যে, প্রবীণ নেতাদের কোণঠাসা করে দিচ্ছেন তিনি। এই কারণ দেখিয়ে লোকসভা ভোটের আগেই একাধিক বিজেডি নেতা দলত্যাগ করেন।
পান্ডিয়ান বলছেন, ''যেদিন থেকে ওড়িশার মাটিতে পা দিয়েছি, দারুণ ভালবাসা পেয়েছি। রাজ্যের মানুষ আমাকে অনেক কিছু দিয়েছেন। আমি শুধু আমার মেন্টর নবীনজিকে সাহায্য করতে চেয়েছিলাম। এছাড়া কোনও রাজনৈতিক পদ পাওয়া বা মন্ত্রী হওয়ার কোনও ইচ্ছা আমার ছিল না। আমি ভোটেও দাঁড়াতে চাইনি কোনওদিন।'' প্রাক্তন আমলার বক্তব্য, তাঁর বিরুদ্ধে যে প্রচার চালানো হয়েছে তাতেই বিজেডি-র হার হয়েছে। তাই তিনি সব দায় মাথায় নিয়ে সরে যাচ্ছেন।
ভোটের ফল বেরনোর পর দেখা গেছে, লোকসভায় ওড়িশার ২১টি আসনের মধ্যে কোনও আসনই পায়নি নবীনের দল। ২০১৯ সালে যেখানে তারা পেয়েছিল ১২টি আসন। অন্যদিকে, বিধানসভা ভোটে ১৪৭টি আসনের মধ্যে মাত্র ৫১টিতে জিতেছে তারা। গত লোকসভা ভোটে যে সংখ্যাটা ছিল ১১২।
বিরোধী শিবির থেকে যে অভিযোগ উঠেছিল তাতে অবশ্য কান দেননি খোদ নবীন পট্টনায়ক। বরঞ্চ তিনি পান্ডিয়ানের পাশে দাঁড়িয়ে মন্তব্য করেছিলেন, যা ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। দলে যোগ দিলেও তিনি কখনও কোনও পদ চাননি। নবীন স্পষ্টত জানিয়েছিলেন, অনেকেই ভেবেছেন পান্ডিয়ান ভবিষ্যতে মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন। তাই হয়তো তিনি রাজনীতি করছেন। কিন্তু এই ধারনাও সম্পূর্ণ ভুল ছিল।