মঙ্গলবার সকালে সিনিয়র দলনেতার প্রাতঃরাশের টেবিলে হাজির করলেন গরম গরম নট্টি চিকেন। সঙ্গে অবশ্যই ছিল টিপিক্যাল দক্ষিণ ভারতীয় প্রাতঃরাশ ইডলি, ধোসা, উপমা ও কফি।

মঙ্গলবার প্রাতঃরাশের টেবিলে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার।
শেষ আপডেট: 2 December 2025 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়ার ‘হট দেশী স্টাইলের’ ব্রেকফাস্টের ‘হট স্পাইসি নন-ভেজ দেশী স্টাইলে’ জবাব দিলেন উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। মঙ্গলবার সকালে সিনিয়র দলনেতার প্রাতঃরাশের টেবিলে হাজির করলেন গরম গরম নট্টি চিকেন। সঙ্গে অবশ্যই ছিল টিপিক্যাল দক্ষিণ ভারতীয় প্রাতঃরাশ ইডলি, ধোসা, উপমা ও কফি।
বাঙালিদের অনেকেরই কাছে অপরিচিত নাম নট্টি চিকেন। এটি আসলে কী? নট্টি চিকেনকে গোদা বাংলায় দেশী মুরগি বলা যায়। তবে এটা একেবারেই দক্ষিণ ভারতীয় একটি প্রজাতি। এটি স্থানীয়ভাবে প্রজনন করানো হয়। গ্রামবাংলার পোষা মুরগির মতোই প্রাকৃতিক খাবারদাবার খায়। সে কারণে ব্রয়লার মুরগির চেয়ে অনেক বেশি সুস্বাদু, গন্ধটিও মনোরম এবং এর মাংস ব্রয়লারের তুলনায় একটু শক্ত। তাই ঢিমে আঁচে দীর্ঘক্ষণ ধরে রান্না করতে হয়। সে কারণে আজকালকার গৃহিণীরা তাড়াতাড়ি কাজ সারতে প্রেসার কুকারে সেটা করে নেন।
নট্টি চিকেন একেবারে দেশী শুধু নয়, নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলেই তা পাওয়া যায়। এর বিশেষত্ব হল এটি বাড়িতেই পালিত হয় এবং গ্রামাঞ্চলে পোকামাকড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক খাদ্য খুঁটে খায়। কোনও কৃত্রিম খাদ্য বা রায়ায়নিক খাদ্য পেটে যায় না। সে কারণে এর স্বাদ ব্রয়লারের থেকে অনেক ভাল। সে কারণে স্বাস্থ্য বা পুষ্টিবিদরা বলেন, এতে কোলেস্টেরল অনেক কম থাকে যা উপকারী। তাছাড়াও অ্যান্টিবায়োটিক এবং হরমোন না থাকায় এর মাংস শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ভাল।
নট্টি চিকেন দিয়ে কর্নাটকে ঝোল, চিকেন মশালা, বিরিয়ানি, সম্বর নট্টি চিকেন প্রভৃতি বিভিন্ন ধরনের পদ রান্না হয়। যা কেবলমাত্র দক্ষিণ ভারতীয় পদের স্পেশালিটি। একে স্থানীয় ভাষায় নট্টি কোলি চিকেনও বলে। মাংসের রঙের কারণে ইংরেজিতে ব্রাউন চিকেনও নাম দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় পোলট্টিগুলি নট্টি চিকেন হাঙ্গেরিতেও রফতানি করে।

এদিন সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া পৌঁছে যান ডিকের (রাজনীতিতে শিবকুমারের ডাকনাম) সদাশিবনগরের বাড়িতে। বেঙ্গালুরু গ্রামীণের এমপি ডিকে সুরেশ দরজার মুখে সিদ্দারামাইয়াকে স্বাগত জানান ফুল ও শাল উপহার দিয়ে। এতগুলি পদের সবকটিই শিবকুমারের বাড়িতেই সকালে রান্না হয়েছে। শিবকুমার খাবার টেবিলে অপার বন্ধুত্বের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, কংগ্রেসের আদর্শে আমরা ঐক্যবদ্ধ আছি। রাজ্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠায় আমরা দায়বদ্ধ। রাজ্যের উন্নতিতে একসঙ্গে কাজ করে যাব।
সংবাদ মাধ্যমকে শিবকুমার বলেন, ক্ষমতার কোনও লড়াই নেই। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছে গোটা রাজ্য। প্রসঙ্গত গত শনিবার সিদ্দারামাইয়ার আমন্ত্রণে মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবনে গিয়েছিলেন শিবকুমার। সেখানে প্রাতঃরাশে ছিল উপমা, ইডলি ও সম্বর। শনিবার সকালের দেশী পেটপুজো দিয়েই কর্নাটকের রাজদণ্ড দখলের খেলায় ইতি টেনে দেন রাজনীতিতে পোড়খাওয়া কংগ্রেসি মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। গরম গরম উপমা-ইডলি-সম্বরে মজে গিয়ে গত বেশ কিছুদিন ধরে কাঠপুতুলের রাজার মতো হম্বিতম্বির শেষে উপমুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমারও জানিয়ে দেন যে, মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে তাঁদের মধ্যে কোনও বিরোধ নেই।
গত কয়েকদিন ধরে মুখ্যমন্ত্রিত্ব বদলের টানাপড়েন চলছিল কর্নাটক কংগ্রেসের অন্দরে। যা পৌঁছেছিল গান্ধী পরিবারেও। সোমবার, ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়েছে সংসদের শীত অধিবেশন। তার আগে কর্নাটক সরকারে দলীয় অস্থিরতা নিয়ে প্রবল অস্বস্তিতে মুখ বুজে ছিলেন রাহুল গান্ধীও। খাওয়াদাওয়ার পর সিদ্দারামাইয়া নানান জল্পনার অবসান ঘটিয়ে জানিয়ে দেন, আমাদের মধ্যে কোনও মতপার্থক্য নেই। ভবিষ্যতেও থাকবে না। মতপার্থক্যের এবং ডিকের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার জল্পনায় জল ঢেলে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আমাদের আলোচনার বিষয়বস্তু ছিল ২০২৮ সালের বিধানসভা ভোট। এছাড়া পুরসভা-পঞ্চায়েত ভোট নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ কথা হয়েছে। ২০২৮ সালের ভোটেও যাতে কংগ্রেস ক্ষমতায় ফিরে আসে, আমরা সে ব্যাপারে আলোচনা করেছি। আমরা ঠিক করেছি, আমরা একসঙ্গেই চলব। আমাদের ভিতরে কোনও বিরোধ ছিল না, ভবিষ্যতেও থাকবে না।
সেদিনের সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ডিকে শিবকুমারও বলেন, আমি কংগ্রেসের অনুগত সৈনিক। কংগ্রেস হাইকমান্ড ডাকলে আমি দিল্লি যাব। নেতৃত্ব নিয়ে দলের হাইকমান্ড যা ঠিক করে দেবে আমরা তাই করব। দেশে যখন কংগ্রেস নানান ধাক্কা খেয়েছে তখন কর্নাটকে আমরা বিজেপির বিজয়রথ থামিয়েছি। আশা করি ২০২৮ সালেও তারই পুনরাবৃত্তি হবে। প্রাতঃরাশের পর দুই নেতাই তাঁদের নিজস্ব হ্যান্ডলে ছবি পোস্ট করেন।