
শেষ আপডেট: 25 January 2024 11:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সারা ভারতে মোট ২৮টি রাজ্য এবং ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল। নেহাতই কম নয়। এরমধ্যে রয়েছে বিভিন্ন সংস্কৃতি, ভাষা, উপভাষা এবং ঐতিহ্য। তারতম্য রয়েছে খাদ্যাভাসেও। ভৌগলিক অবস্থানও বিভিন্ন। কিছু রাজ্য বরফের চাদরে ঢাকা তো কিছু রাজ্য ঘন সবুজ অরণ্যে। কিছু রাজ্য হ্রদ, নদ-নদীর প্রাচুর্য, কোথাও রয়েছে সমুদ্র অথবা জলপ্রপাত, কোনও রাজ্যের অধিকাংশই মরু অঞ্চল। তাছাড়া পার্থক্য আছে ইতিহাসে, ধর্মীয় বিভিন্নতায়। 'ভারত' এইসবটা মিলিয়েই।
ব্যস্ত জীবনের মধ্যে থেকে দু’দণ্ড অবসর নিতে অনেকেই বেরিয়েই পড়েন নিজস্ব গণ্ডির বাইরে কাছে অথবা দূরে। বিদেশ নয়, স্বদেশেই এত অজানা অচেনা জায়গা আছে যা শুধু দেখা নয়, সঠিকভাবে উপলব্ধি করতে গেলে, সার্বিকভাবে আস্বাদন করতে গেলে একজনের সারা জীবন কেটে যেতে পারে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের সঙ্গে নিজের দেশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর পরিচিতি ঘটানোর জন্য পালন করা হয় জাতীয় পর্যটন দিবস। তাছাড়া ভারতের বেশকিছু অঞ্চলের অর্থনীতি নির্ভরশীল এই পর্যটনের উপর। ফলে দেশে যদি পর্যটনের প্রসার ঘটে তাহলে যেমন অর্থনীতির একটা প্রসার ঘটবে তেমনই এক অঞ্চলের মানুষ পরিচিত হবেন অন্য অঞ্চলের মানুষ ও তাঁদের সংস্কৃতির সঙ্গে।
জাতীয় পর্যটন দিবস পালন করার গুরুত্ব বোঝা যতটা জরুরি ততটাই জরুরি এর পিছনের ইতিহাসকে খতিয়ে দেখা। ভারতে পর্যটন দিবস পালিত হয় দুবার। একবার জাতীয় স্তরে আর একবার আন্তর্জাতিক স্তরে। বিশ্ব পর্যটন দিবস পালিত হয় ২৭ সেপ্টেম্বর আর জাতীয় পর্যটন দিবস পালন করা হয় ২৫ জানুয়ারি। ভারত স্বাধীন হওয়ার পরের বছর অর্থাৎ ১৯৪৮ সাল থেকে এই জাতীয় পর্যটন দিবস পালন করা শুরু হয়। ভারতের সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে পর্যটনের গুরুত্ব বোঝানোর জন্যই পালন করা হয় এই দিনটি।
পর্যটনের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ভারতে গঠন করা হয়েছে পর্যটন ট্রাফিক কমিটি। কমিটি গঠন হওয়ার তিন বছরের মধ্যে চেন্নাই এবং কলকাতাতে তৈরি করা হয় আঞ্চলিক কার্যালয়। পরবর্তীকালে দিল্লি, মুম্বই এবং কলকাতাতে বানানো হয় পর্যটন অফিস। পর্যটন এবং যোগাযোগ মন্ত্রীর নেতৃত্বে পালিত হয় পর্যটন দিবস।
এবারের জাতীয় পর্যটন দিবসের থিম, সাসটেনেবল জার্নি, টাইমলেস মেমোরিজ’ অর্থাৎ পর্যটকরা ভ্রমণের সঙ্গে সঙ্গেই প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করবেন, সহায়তা করবেন স্থানীয় মানুষকে এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বজায় রাখবেন। প্রতিটি ভ্রমণই স্মৃতিতে চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।
এই থিম বেছে নেওয়ার মূল কারণই হল দায়িত্বপূর্ণ ভ্রমণ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা। পরিবেশকে দূষিত না করে, স্থানীয় সম্প্রদায়, স্থানীয় খাবারদাবার, স্থানীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে সচেতন থেকেও যে আনন্দের সঙ্গে ঘুরে বেড়ানো যায় সেটা প্রমাণ করার জন্যেই এই থিমকে বেছে নেওয়া হয়েছে এবছর।