
স্মৃতি সিং।
শেষ আপডেট: 10 July 2024 19:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের কয়েক মাসের মধ্যে স্বামীকে হারিয়েছেন তিনি। সেনাবাহিনীর উজ্জ্বল মুখ শেষ হয়ে গিয়েছিল সিয়াচেন আর্মি ক্যাম্পের বিধ্বংসী আগুনে। এক বছর পরে তাঁকে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘মরণোত্তর কীর্তি চক্র’ দেওয়া হলে, তা গ্রহণ করলেন স্ত্রী। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে সে সম্মান গ্রহণ করার পরে দু'কথা বললেন নিজের জীবন সম্পর্কে। সে কথা শুনে চোখে জল এল গোটা দেশের। আর তারপরেই কিনা তাঁর উদ্দেশে ধেয়ে এল অপমানজনক মন্তব্য! সোশ্যাল মিডিয়ায় আহমাদ কে নামের এক ব্যক্তির এমন কমেন্ট ঘিরে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দিল্লি পুলিশের দ্বারস্থও হয়েছে জাতীয় মহিলা কমিশন।
ক্যাপ্টেন অংশুমান সিংয়ের স্ত্রী স্মৃতি জানিয়েছিলেন, প্রথম দেখায় তাঁদের প্রেম। তার পরে ৮ বছর ধরে তাঁরা দূরে থেকেছেন, অপেক্ষা করেছেন বিয়ের জন্য। ২০২৩ সালে বিয়ে হয় তাঁদের। সে বছরেই ১৮ জুলাই রাতে ফোনে দীর্ঘ কথা হয় স্বামী-স্ত্রীর। আগামী দিনের পরিকল্পনা করেন তাঁরা। সন্তানের কথা ভাবেন, ভাবেন পরবর্তী ৫০ বছরে জীবন কোথায় গিয়ে পৌঁছবে।
কিন্তু কে জানত, ১৯ জুলাই সকালেই ফোন আসবে স্মৃতির কাছে, যে অংশুমান সিং আর নেই! সিয়াচেন আর্মি ক্যাম্পে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে গিয়েছিল সেনার অস্ত্রভান্ডারে। প্রাণের তোয়াক্কা না করে বহুজনকে বাঁচান অংশুমান। কিন্তু নিজে বাঁচতে পারেননি। প্রথম কয়েক ঘণ্টা এ খবর বিশ্বাসই করতে পারেননি স্মৃতি। কিন্তু আজ, হাতে তাঁরই কীর্তি চক্র নিয়ে দাঁড়িয়ে, অবিশ্বাসের আর কোনও জায়গা নেই, নেই কোনও সান্ত্বনা। সন্তানদের নিয়ে অংশুমানের সঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নও শেষ।
স্মৃতির এই কথাগুলি ভাইরাল হয়ে যায় সোশ্যাল মিডিয়ায়। তাঁর ভিডিও, ছবি ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এমনই একটি ছবির নীচে অত্যন্ত অবমাননাকর মন্তব্য করে বসেন এক সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী, দিল্লির বাসিন্দা আহমেদ কে। এর পরেই ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে সরব হয় সকলে।
এবার কড়া পদক্ষেপ করল মহিলা কমিশনও। ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অবিলম্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে দিল্লি পুলিশকে একটি চিঠি দিয়েছে তারা। মহিলা কমিশন জানিয়েছে ভারতীয় সংবিধানের ৭৯তম ধারা ও তথ্য প্রযুক্তির ৬৭ নম্বর ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগ করা হয়েছে ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে।