অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ৪১ টন ঘি, বিভিন্ন ধাতু, ভেষজ উপাদান, এমনটাই জানিয়েছেন আয়োজকরা। প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত এখানে ভিড় করেছেন।

মধ্যপ্রদেশের ভাইরাল ভিডিও
শেষ আপডেট: 9 April 2026 19:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নর্মদার (Narmada) বুকে দুধের সাদা স্রোত বয়ে যাওয়ার সেই দৃশ্য মুহূর্তে ঝড় তুলল দেশজুড়ে। ভক্তির উচ্ছ্বাসে ভরা এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে নদীতে ঢালা হল ১১ হাজার লিটার দুধ ( 11,000 litres of milk)। ভিডিও ছড়াতেই প্রশ্নে ফেটে পড়ল সোশ্যাল মিডিয়া। ভক্তি, যুক্তি আর মানুষের প্রয়োজন- এই তিনের সংঘাতে তীব্র বিতর্কে জড়াল মধ্যপ্রদেশ (Madhya Pradesh)।
জানা গিয়েছে, ভিডিওটি সেহোর জেলার শতদেব গ্রামের শ্রী দাদাজি দরবার পাতালেশ্বর মহাদেব মন্দিরে ( Shri Dadaji Darbar Pataleshwar Mahadev Temple) অনুষ্ঠিত ২১ দিনের এক বিশাল ধর্মীয় অনুষ্ঠানের অংশ। ১৮ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলা এই চৈত্র নবরাত্রি (Navratri) উৎসবে আয়োজন করা হয়েছিল মহাযজ্ঞ, শিব মহাপুরাণ পাঠ ও ৫ একর জমি জুড়ে বিশাল প্যান্ডেল।
অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত হয়েছে প্রায় ৪১ টন ঘি, বিভিন্ন ধাতু, ভেষজ উপাদান, এমনটাই জানিয়েছেন আয়োজকরা। প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্ত এখানে ভিড় করেছেন।
কী দেখা যায় ভাইরাল ভিডিওতে?
ভাইরাল হওয়া অংশটি মূলত এক বিশেষ রীতিকে ঘিরে, যেখানে ১১ হাজার লিটার দুধ নর্মদা নদীতে ঢালা হয়। আয়োজকদের দাবি, এইভাবে 'মা' নর্মদাকে অভিষেক করা হয় যা বহুদিন ধরে চলে আসা এক বিশ্বাসের প্রতীক।
শ্রী শিবানন্দ মহারাজের অনুসারী পবন পাওয়ার বলেন, “মহাদেবের কাছে নর্মদা মায়ের মতো। প্রতিদিনই অভিষেক হয়, কোথাও ১৫১ লিটার, আবার কোনদিন ১১০০ লিটার। সেইদিন বিশেষ অভিষেকে ১১ হাজার লিটার দুধ ব্যবহার করা হয়েছে।”
বিতর্ক কোথায়?
ভিডিও ভাইরাল হতেই সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, যেখানে মধ্যপ্রদেশেই ১০ লাখেরও বেশি শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে, ১.৩৬ লাখ শিশু মারাত্মকভাবে অপুষ্ট, ৫৭ শতাংশ নারী রক্তশূন্যতায় ভোগে, সেখানে এত দুধ নদীতে ঢালা কি যুক্তিযুক্ত?
বিশেষজ্ঞরা বলেন, দুধ নদীতে মেশালে তা ভেঙে গিয়ে জলের বিওডি (Biochemical Oxygen Demand) বাড়ায়, ফলে নদীর অক্সিজেন কমে যায় এবং জলে থাকা প্রাণীদের ক্ষতি হয়। দুধ পচে ব্যাকটেরিয়ার মাত্রা বাড়তে পারে, যা নদীর জীববৈচিত্র্যকে বিপদে ফেলে।
এর আগে সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের একটি রিপোর্টে মধ্যপ্রদেশের পুষ্টি প্রকল্পে বড় ধরনের অনিয়ম ধরা পড়েছিল। পরে CAG রিপোর্টে ৮৫৮ কোটি টাকার দুর্নীতি প্রকাশ্যে এসেছিল, যে টাকা নারী ও শিশুদের খাদ্য-পুষ্টির জন্য বরাদ্দ ছিল। এই প্রেক্ষাপটে এত বিশাল পরিমাণ দুধ নদীতে ফেলা নিয়ে ক্ষোভ বেড়েছে আরও।