
নরেন্দ্র মোদী ও ইন্দিরা গান্ধী
শেষ আপডেট: 3 July 2024 19:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এবার লোকসভা ভোটে বিরোধীরা সংবিধান রক্ষার ডাক দিয়েছিল। লোকসভায় বিজেপির আসন সংখ্যা ৩০৩ থেকে ২৪০ হয়ে যাওয়ায় বিরোধীরা দাবি করেছে মানুষ সংবিধান রক্ষার পক্ষে রায় দিয়েছেন। বুধবার লোকসভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পাল্টা দাবি করেন, সংবিধান রক্ষার দায়িত্ব মানুষ বিজেপিকে দিয়েছে। তাই ৬০ বছর পর ফের একই সরকার কেন্দ্রে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছে। প্রসঙ্গত, এর আগে একমাত্র প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু টানা তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন।
শুধু নির্বাচনেই নয়, লোকসভায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের উপর ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাবের উপর বিতর্কে বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ একাধিক নেতা নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে সংবিধানকে উপেক্ষা করার অভিযোগ করেন।
বুধবার রাজ্যসভায় জবাবি ভাষণে প্রধানমন্ত্রী রাহুল গান্ধীর লাগাতার সংবিধান সংক্রান্ত বক্তব্যের উত্তর দেন। তিনিও পাল্টা অভিযোগ করেন, সংবিধান সবচেয়ে বেশি লঙ্ঘন করেছে কংগ্রেস।
প্রধানমন্ত্রী এই প্রসঙ্গে ১৯৭৭ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রসঙ্গ তোলেন। বলেন, সেবার জরুরি অবস্থার অবসানের পর যে ভোট হয় তাতে সংবিধান বাঁচানোর ডাক দিয়েছিল সব বিরোধী দল। সেই নির্বাচনে কংগ্রেস পরাজিত হয়। কিন্তু ২০২৪-এর ভোট বিজেপি জয়ী হয়েছে। আমি ফের প্রধানমন্ত্রী হয়েছি।
জরুরি অবস্থার সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে সংবিধানের তিনটি সংশোধনীর উল্লেখ করে মোদী বলেন, কংগ্রেসের মুখে সংবিধান বাঁচানোর কথা মানায় না। তিনি বলেন, সংবিধান ৩৮, ৩৯ এবং ৪২ নম্বর সংশোধনী ছিল ভয়ঙ্কর।
কী ছিল সেই তিন সংশোধনী? ৩৮ নম্বর সংশোধনীতে বিচার বিভাগের একাধিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। তা কার্যকর হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ২২ জুলাই।
জরুরি অবস্থা জারির আগে রায়বেরলিতে ইন্দিরা গান্ধীর জয় বাতিল করে দিয়েছিল এলাহাবাদ হাই কোর্ট। বিরোধী প্রার্থী রাজনারায়ণের দায়ের করা মামলায় হাই কোর্ট এই অভিযোগ মেনে নেয় যে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইন্দিরা গান্ধী নির্বাচনী প্রচারে প্রশাসনকে দিয়ে নানাভাবে প্রভাব খাটিয়েছেন। সেই রায়ে তাঁর সাংসদ পদ চলে যায়। যদিও তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন উচ্চ আদালতে মামলা দায়ের করে। ওই অবস্থায় ৩৯ নম্বর সংশোধনী পেশ করে বলা হয় প্রধানমন্ত্রী এবং লোকসভার স্পিকারের নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে কোনও মামলা আদালত গ্রহণ করতে পারবে না।
ইন্দিরা তৃতীয় যে বিতর্কিত সংশোধন করেছিলেন তা ৪২ নম্বর সংশোধনী নামে পরিচিত। তাতে লোকসভা ও বিধানসভায় মেয়াদ পাঁচ বছর থেকে বৃদ্ধি করে ছয় করা হয়েছিল। এছাড়া বলা হয়, সংসদের কোনও সিদ্ধান্ত, বিল, আইন ইত্যাদির বিষয়ে আদালত হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। সেই সঙ্গে সব সাংসদ-বিধায়কেরই সদস্যপদ সংক্রান্ত বিবাদ সংক্রান্ত বিষয় বিচারের অধিকার আদালতের হাত থেকে কেড়ে নেওয়া হয়।
১৯৭৭ সালের মার্চে জনতা পার্টির সরকার ক্ষমতায় আসার পর ইন্দিরা সময়ে হওয়া তিনটি সংশোধনীই বাতিল করে দেওয়া হয়। বুধবার প্রধানমন্ত্রী জবাবি ভাষণে ইন্দিরার সময়ের তিন সংবিধান সংশোধনী নিয়ে সরব হন। বলেন, প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী বলতে গেলে মিনি সংবিধান তৈরি করে নিয়েছিলেন নিজের সুবিধার কথা বিবেচনায় রেখে।