.webp)
শেষ আপডেট: 7 November 2023 16:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে নরেন্দ্র মোদীর 'সবকা সাথ' ভাবমূর্তি আরও বড় পরিসরে তুলে ধরতে নতুন কৌশল নিচ্ছে বিজেপি। জানুয়ারির ২২ তারিখ অযোধ্যায় রাম মন্দিরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। হিন্দু মন জয়ে এখনও পর্যন্ত সেটাই বিজেপির মেগা কর্মসূচি। তবে এবার সংখ্যালঘুর মন জয়েও সমান আগ্রহী পদ্ম শিবির। রাম মন্দির উদ্বোধনের এক মাস আগে প্রধানমন্ত্রী তাই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১০ হাজার মানুষের মুখোমুখি হবেন। তাদের বেশিরভাগই মুসলিম। দিল্লির কোনও স্টেডিয়ামে এজন্য বিশেষ সমাবেশের আয়োজন করা হচ্ছে।
বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চা গোটা দেশ থেকে বাছাই করা এই ১০ হাজার জনকে বলছে 'মোদী মিত্র।' এই মোর্চাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সংখ্যালঘুদের মুখোমুখি বৈঠকের আয়োজক। মোদী মিত্ররা সংখ্যালঘুদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ও বিজেপির সেতু বন্ধনের কাজ করছেন।
বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার জাতীয় সভাপতি জামাল সিদ্দিকীর বক্তব্য, সংখ্যালঘু সমাজের এই ১০ হাজার মানুষ বিজেপির কর্মী নন। সমর্থকও নন অনেকেই। তবে প্রত্যেকেই নরেন্দ্র মোদী সরকারের সাড়ে নয় বছরের কর্মসূচির দ্বারা উপকৃত।
সিদ্দিকী জানান, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি তাদের কথা জানাতে পারবেন। সমস্যা, অভাব থেকে পরামর্শ, সবই বিনিময় করতে পারবেন তাঁরা। সবশেষে প্রধানমন্ত্রী তাঁর কথা বলবেন।
সূত্রের খবর, সাড়া দেশের সংখ্যালঘুদের এই কর্মসূচিতে শামিল করা হলেও বিজেপি কয়েকটি রাজ্যকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সেই তালিকায় এক ও দুই নম্বরে আছে যথাক্রমে পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর প্রদেশ। বাংলায় ২৮ শতাংশ মুসলিমের সিংহভাগ বাংলাভাষী। এ রাজ্যে সংখ্যালঘু মন জয় না করে ক্ষমতার পালাবদল অসম্ভব, অতীতে একাধিকবার তা প্রমাণিত হয়েছে। বাংলায় বিজেপিও সেই অঙ্ক মাথায় নিয়ে এগোচ্ছে।
এ রাজ্যে মোদী সরকারের কল্যাণ প্রকল্পে উপকৃতদের লম্বা তালিকা তৈরি করেছে বিজেপি। দলের রাজ্য কমিটির এক নেতার কথায়, দুর্ভাগ্যের হল, বাংলায় সংখ্যালঘু মোর্চা অত্যন্ত দুর্বল এবং নিষ্ক্রিয়। তাদের না আছে সংগঠন, না আছে কর্মসূচি। এই পরিস্থিতিতে মূল দলকেই দায়িত্ব নিতে হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রক থেকে উপকৃতদের তালিকা সংগ্রহ করে পার্টি যোগাযোগ করে। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বহু মানুষ নরেন্দ্র মোদীর সময়ে সরকারি সুবিধা পাওয়ার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে বলেছেন।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নরেন্দ্র মোদিকে সামনে রেখে বিজেপির সংখ্যালঘু মোর্চার এই কর্মসূচির পিছনে শুধুই ভোটের অঙ্ক নেই। ব্যক্তি মোদীর ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারের ভাবনাও আছে। গুজরাত দাঙ্গায় সুপ্রিম কোর্ট প্রধানমন্ত্রীকে ক্লিন চিট দিয়েছে। এবার সংখ্যালঘুদের মধ্যেও প্রধানমন্ত্রী সম্পর্কে ধারণা বদল চাইছে দল। এই ব্যাপারে সরকারের কর্মসূচিই বিজেপির হাতিয়ার।
পদ্ম শিবিরের এক নেতার কথায়, মোদী সরকারের কল্যাণ প্রকল্পের সুবিধা দল, ধর্ম, জাত নির্বিশেষে সকলে পেয়েছে। সংখ্যালঘু মহল্লায় বঞ্চনার অভিযোগ নেই সরকারের বিরুদ্ধে।