দ্য ওয়াল ব্যুরো: সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় নাগপুরের স্থানীয় নেতা ও সংখ্যালঘু ডেমোক্রেটিক পার্টির শহরপ্রধান ফাহিম খানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। উসকানিমূলক ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই মামলায় আরও পাঁচজন অভিযুক্তও হয়েছে।
দিন কয়েক আগে, ঔরঙ্গজেবের সমাধি অপসারণের দাবিকে কেন্দ্র করে নাগপুরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভ শুরু করে হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলি। তেমনই এক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে অশান্তি চরম আকার নেয় নাগপুরে।
পুলিশের অভিযোগ, ফাহিম খান এই বিষয় নিয়ে ভিডিও তৈরি করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে হিংসা উস্কে দেন। ভিডিওগুলোতে পুলিশের বিরুদ্ধে হামলার ডাক এবং উস্কানিমূলক স্লোগানও শোনা গেছে।
এই ভিডিও মারফতই গুজব ছড়ায়, ওই বিক্ষোভে একটি ধর্মগ্রন্থ জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। সেই গুজব মুহূর্তের মধ্যে ভয়াবহ আকার নেয়। ভাঙচুর চালায় উত্তেজিত জনতা। দু’টি জেসিবি-তে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়, এছাড়াও একাধিক গাড়ি পোড়ানো হয়। এমনকি পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে এলে, তাদের লক্ষ্য করেও পাথর ছোড়া হয়।
পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকাজুড়ে কার্ফু জারি হয়। ৫০ জনকে আটক করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর, বুধবার এই হিংসার মূল চক্রী ফাহিম খানকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হয়। এবার আনা হল দেশদ্রোহিতার চার্জ।
নাগপুর পুলিশের ডেপুটি কমিশনার লোহিত মাতানি জানান, এই ঘটনায় মোট চারটি এফআইআর দায়ের হয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় ফাহিম খান ও পাঁচজনের নাম সরাসরি উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ৫০টির বেশি উস্কানিমূলক পোস্ট মুছে ফেলা হয়েছে এবং আরও কনটেন্ট পর্যালোচনা চলছে। ফেসবুক, এক্স, ইনস্টাগ্রাম ও ইউটিউবের ২৩০টি প্রোফাইলের তথ্য চাওয়া হয়েছে এবং সেগুলো ব্লক করার প্রক্রিয়া চলছে।
পাশাপাশি তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দায়ের করা কোনও এফআইআরে ‘ছাভা’ সিনেমার নাম উল্লেখ নেই। পুলিশ এখনও তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।