
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 September 2024 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তর প্রদেশে সব ধরনের খাবারের দোকানের সাইন বোর্ডে মালিকের নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর লিখতে হবে। দোকানের কর্মচারীদের ব্যক্তিগত তথ্য জমা করতে হবে স্থানীয় থানায়। মঙ্গলবার সকালে লখনউে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
গতমাসে কুঁওয়ার যাত্রা অর্থাৎ মহাদেবের মাথায় জল ঢালতে যাওয়া পূর্ণ্যার্থীদের যাত্রাপথের দু-পাশের খাবারের দোকানগুলিকে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সরকারের তরফে ব্যাখ্যা দেওয়া হয় পূর্ণ্যার্থীরা যাতে যে কোনও খাবারের দোকানে ঢুকে না পড়েন সে জন্যই এই নির্দেশ। মালিকের নাম দেখে বোঝা যাবে তিনি হিন্দু নাকি অহিন্দু। অহিন্দুর দোকানে নিরামিষ খাবার পাওয়ার সম্ভাবনা কম। কুঁওয়ার যাত্রার সময় হিন্দুরা আমিষ খাবার থেকে শতহস্ত দূরে থাকেন।
উত্তর প্রদেশের পাশাপাশি বিজেপি শাসিত আর এক রাজ্য উত্তরাখণ্ডও একই নির্দেশ জারি করেছিল। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে বিরোধীদের পাশাপাশি নাগরিক সমাজও সরব হয়। সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয়। রায়ে সংশ্লিষ্ট বিচারপতি মন্তব্য করেন, অনেক অহিন্দু নিরামিষ খাবার বিক্রি করেন। বিচারপতি বলেন, আমি নিজে একজন নিরামিষভোজী। তিরুবনন্তপুরম হাই কোর্টে থাকাকালে আমি শহরের একজন মুসলিমের হোটেলে যেতাম নিরামিষ খাবারের জন্য।
মঙ্গলবার যোগী আদিত্যনাথ সরকার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার সঙ্গে তীর্থযাত্রার কোনও যোগের কথা বলা হয়নি। সম্প্রতি দিল্লি লাগোয়া গাজিয়াবাদে একজন সরবত বিক্রেতার অপকর্ম সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। দেখা যায়, সরবতের সঙ্গে তিনি মানুষের প্রস্রাব মেশাচ্ছেন।
উত্তর প্রদেশ সরকার এই ঘটনাটিকে অস্ত্র করে এবার সব রেস্তরাঁ, হোটেল, ধাবার সাইন বোর্ডে মালিকের নাম লেখা বাধ্যতামূলক করছে। সেই সঙ্গে মালিকের ঠিকানা এবং ফোন নম্বরও লিখে রাখতে বলা হয়েছে। যাতে অভিযোগ উঠলে সঙ্গে সঙ্গে মালিকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়।
যদিও উত্তর প্রদেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতার কারণে এই সিদ্ধান্তকে অনেকেই সঠিক মনে করছেন না। তারা বলছেন, রাজ্যের ছোট শহরগুলিতে দাঙ্গার ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা যায়নি। প্রায়ই অশান্তি লেগে থাকে। দোকানের সাইন বোর্ডে মালিকের নাম লেখা থাকলে সংখ্যাগুরুর এলাকায় সংখ্যালঘুদের দোকানগুলি আক্রান্ত হতে পারে। উল্টোটা হতে সংখ্যালঘু বহুল এলাকায়।
তাছাড়া খাবারের বিশুদ্ধতা রক্ষায় মালিকের নামের সম্পর্ক কোথায় সেই প্রশ্নও তুলেছেন অনেকে। যোগী সরকার সিদ্ধান্ত করেছে প্রশাসনিক আধিকারিকেরা খাবার দোকানে গিয়ে অনুসন্ধান করবেন খাবারের মান এবং পরিচ্ছন্নতা মানা হচ্ছে কি না।