
চালকের আসনে শিবসেনা নেতার পুত্র মিহির।
শেষ আপডেট: 9 July 2024 08:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ে শিবসেনা নেতার রাজেশ শাহর ছেলের হিট অ্যান্ড রান মামলায় আরও এক নতুন তথ্য সামনে এল। সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার পরে পুলিশ জানিয়েছে, স্কুটি আরোহী মহিলাকে ধাক্কা মারার পরে প্রায় দেড় কিলোমিটার রাস্তা তাঁকে ছেঁচড়ে নিয়ে যায় অভিযুক্ত নেতাপুত্র মিহির শাহ। দু'বার পিষে দেন বিএমডব্লিউয়ের চাকার তলায়। শিবসেনা নেতা রাজেশ শাহকে আটক করে পুলিশ। কিন্তু ঘাতক মিহির শাহ এখনও পলাতক।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময়ে অর্থাৎ রবিবার ভোরে ওই বিএমডব্লিউ মুম্বইয়ের যে এাকা দিয়ে গেছে, এমন জায়গাগুলি থেকে নেওয়া একাধিক ফুটেজে দেখা গেছে, কাবেরী নাকভা নামের ওই মহিলাকে চাকার তলায় দেড় কিলোমিটার টেনে নিয়ে গাড়ি থামিয়েছেন অভিযুক্ত মিহির শাহ এবং তারপরে ড্রাইভারের আসন থেকে নেমে পাশে বসেছেন, সঙ্গে থাকা ড্রাইভার চালকের আসনে বসেছেন। সে সময়ে দেখা গেছে, ইঞ্জিনের তলায় বাম্পারের মধ্যে আটকে থাকা ওই মহিলার দেহটি সরিয়ে রাস্তায় ফেলে দেন তিনি। এবং ফের দেহের উপর দিয়েই গাড়ি নিয়ে চলে যায়।
পুলিশ আদালতে দাবি করেছে, নিছক দুর্ঘটনা ঘটিয়ে মিহির পালিয়ে গেছেন, এমনটা নয়। তিনি দুর্ঘটনার পরে যে নশংসতার পরিচয় দিয়েছেন, তাতে এটি খুনের মামলা হিসেবেই দেখা উচিত। পাশাপাশি পুলিশ জানিয়েছেন, অভিযুক্ত মিহির শাহর চালক রাজঋষি বিদাওয়াত এই ঘটনায় আগাগোড়া সঙ্গে ছিলেন এবং সাহায্য করে গেছেন মালিককে।
জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরে মিহির শাহ এবং সহ-অভিযুক্ত রাজঋষি বিএমডব্লিউটিকে বান্দ্রায় নিয়ে যান এবং সেখানেই ফেলে দেন। শিবসেনা নেতার ছেলে সেখান থেকে আর একটি গাড়ি নিয়ে শহরের উত্তর প্রান্তে বোরিভালির দিকে রওনা দেয়। মিহির প্রথমে প্রেমিকার বাড়িতে গিয়ে লুকোয় বলে জানা যায়, তবে সেখানে তাকে পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যেই মুম্বই পুলিশ ১১ জন তদন্তকারীর একটি দল গঠন করে মিহির শাহর খোঁজ চালাচ্ছে। সে যাতে দেশ ছাড়তে না পারে, সে জন্য লুকআউট নোটিসও জারি করেছে।
মুম্বইয়ের ওরলিতে রবিবার ভোরে একটি বিএমডব্লিউ ধাক্কা মারে স্কুটিতে। ৪৫ বছরের মহিলা কাপেরী নাকভার মৃত্যু হয়। কাপেরীর স্বামী প্রদীপ জখম অবস্থায় হাসপাতালে। এর পরেই অভিযোগ ওঠে, ঘাতক বিএমডব্লিউ গাড়িটি শিন্ডেসেনা নেতা রাজেশ শাহের। দুর্ঘটনার সময়ে গাড়ি চালাচ্ছিল তাঁর ছেলে মিহির। জানা গেছে, জুহুর একটি বারে চার বন্ধুর সঙ্গে ভোর পর্যন্ত পার্টি করে মিহির, তারপরে সে এবং তার ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে বেরোয়। চালকের আসনে ছিল মিহির। তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। পুলিশ ১৮ হাজার টাকার বারের বিলও খুঁজে পেয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে চলে আসেন মিহির শাহের বাবা রাজেশ শাহ। তাঁর বিরুদ্ধে ভুল তথ্য দেওয়ার এবং প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরেই তাঁকে ফোন করে ছেলে মিহির। তিনিই ছেলেকে পরামর্শ দেন, দ্রুত ড্রাইভারের সঙ্গে আসন বদল করতে এবং ড্রাইভারের উপর দুর্ঘটনার দায় চাপাতে। তবে গ্রেফতারির ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জামিন হয়ে গেছে তাঁর।
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী ও শিবসেনা প্রধান একনাথ শিন্ডে এই ঘটনায় মন্তব্য করেছেন, 'এই মামলায় কাউকে রেহাই দেওয়া হবে না। আমি মুখ্যমন্ত্রী থাকা পর্যন্ত ধনী, প্রভাবশালী, আমলা বা মন্ত্রীদের বংশধর, যে কোনও দলের সাথে যুক্ত-- কোনও অভিযুক্তকেই ছাড়া হবে না। ক্ষমতাবান এবং প্রভাবশালীরা তাদের পদমর্যাদার অপব্যবহার করবে, তা আমার সরকার সহ্য করবে না।'