
প্রতীকী চিত্র
শেষ আপডেট: 4 May 2024 15:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্ত্রীর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচার ধর্ষণ নয়। এর জন্য স্ত্রীর সম্মতি থাকা বা না থাকা অবান্তর। এমনই নির্দেশ দিল মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট। আদালতের মতে, যদি কোনও স্ত্রীর বয়স ১৫ বছরের কম না হয়, তার সঙ্গে স্বামীর অপ্রকৃতিস্থ যৌন সম্পর্ককে ধর্ষণ বলা যায় না। ভারতের আইনে বৈবাহিক ধর্ষণ বলে স্বীকৃত কিছু নেই। এ ধরনের বিষয়ে স্ত্রীর সম্মতির প্রশ্নও অবাস্তব।
স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর আনা একটি এফআইআর বাতিল করে দিয়েছে আদালত। স্বামীর বিরুদ্ধে স্ত্রীর অভিযোগ, তাঁর অসম্মতিতে স্বামী অস্বাভাবিক যৌন সম্পর্ক করেন। এই মামলায় আদালতের রায় হল, ১৫ বছরের ঊর্ধ্বে আইনত বিবাহিত স্ত্রীর সঙ্গে অস্বাভাবিক যৌনাচারকে ধর্ষণ বলা যায় না। ব্যতিক্রম শুধু আইনত বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া স্ত্রীর অসম্মতিতে তাঁর সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করা।
সম্প্রতি এক রায়ে মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্ট স্বামীর বিরুদ্ধে আনা স্ত্রীর এফআইআর খারিজ করে দিয়েছে। গুরপাল সিং আলুওয়ালিয়ার এক সদস্যের বেঞ্চ বলেছে, ১৫ বছরের ঊর্ধ্বের কোনও স্ত্রীর সঙ্গে আপাতদৃষ্টিতে স্বাভাবিক নয় এমন মনে হওয়া কোনও যৌন সংসর্গকে ধর্ষণ বলা যায় না। যদি তাতে স্ত্রী আপত্তি থাকে তাও নয়।
হাইকোর্ট বলেছে, ধর্ষণের নতুন সংশোধিত সংজ্ঞায় বলা হয়েছে, কোনও পুরুষ কোনও মহিলার পায়ুসঙ্গম করলে তাকে ধর্ষণ বলা হবে। এবং এ ধরনের যৌন সঙ্গম বা আচরণ যদি ১৫ বছরের ঊর্ধ্বের স্ত্রীর সঙ্গে হয়, তাকে ধর্ষণ বলা যায় না। ফলে এই পরিপ্রেক্ষিতে কোনও স্ত্রীর সম্মতি আছে কিনা তা গুরুত্বহীন। বৈবাহিক ধর্ষণকে ভারতীয় সমাজ মান্যতা দেয় না। কিন্তু যদি তারা ডিভোর্সের মামলায় আলাদা বসবাস করে, তাহলে তাকে ধর্ষণ বলা যায়।
মামলা সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৯ সালে এক মহিলা পুলিশে অভিযোগ জানান যে, তাঁর স্বামী একাধিকবার অস্বাভাবিক সঙ্গম করেছেন। তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে একাজ হয়েছে। এই এফআইআরের বিরুদ্ধে অভিযুক্ত স্বামী ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা অনুযায়ী মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন।