
রূপা যাদব
শেষ আপডেট: 26 June 2024 19:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজস্থানের এক প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা রূপা যাদব দুই সন্তানের মা। দেশজুড়ে নিট সংক্রান্ত যে অভিযোগ সামনে এসেছে তাতে অনেকের মতোই রাগে ফুঁসছেন তিনিও। সম্প্রতি বিতর্ক বাড়তে থাকায় নিট পিজি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। সেই সিদ্ধান্ত নিয়েও ক্ষোভ কম নয় তাঁর। অনেকেরই মনে প্রশ্ন জাগবে, নিট নিয়ে হইচইয়ের সঙ্গে রূপার কী সম্পর্ক? বড়রকমের সম্পর্ক আছে।
২০১৭ সালে রূপা নিট ইউজি পাশ করে সংবাদ শিরোনামে এসেছিলেন। আর এবার তিনি নিট পিজি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছেন। তবে আপাতত পরীক্ষা বাতিল হয়ে যাওয়ায় তিনি অখুশি। রূপার কথায়, ''দিনরাত পরিশ্রম করেছি এই পরীক্ষায় ভাল ফলের আশায়। এখন পরীক্ষা বাতিলের খবর শুনে রাগ হচ্ছে। তবে পরীক্ষা হওয়ার আগেই তা বাতিল হয়েছে বলে কিছুটা আশ্বস্ত আমি। কারণ আরও কিছুটা সময় পাব প্রস্তুতি নেওয়ার।''
নিট ইউজি পাশ করে রূপা বর্তমানে পেশায় একজন ডাক্তার। নাগৌড় জেলার খারিয়া গ্রামের একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মেডিক্যাল অফিসার পদে কর্মরত তিনি। ডাক্তার হওয়ার আগে একাধিক প্রাইভেট ফার্মে কাজ করেছেন তিনি। কিন্তু রূপার পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। কীভাবে এতটা পথ অতিক্রম করে আজ এই জায়গায় এলেন তিনি। নিজেই জানিয়েছেন রূপা।
মাত্র ৮ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়ে যায় ১২ বছরের শঙ্কর লালের সঙ্গে! বাল্যবিবাহের পরও পড়াশোনায় কোনও খামতি হতে দেননি ছোট থেকেই মেধাবী রূপা। দশম শ্রেণির পরীক্ষায় ৮৪ শতাংশ নম্বর পাওয়া সেটাই প্রমাণ করে। এরপর ধীরে ধীরে উচ্চ শিক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিলেন তিনি। রূপার স্বামী বা তাঁর শ্বশুর-শাশুড়িও কখনও তাঁকে বাধা দেননি ঠিকই, কিন্তু আর্থিক কষ্ট বরাবরই ছিল তাঁদের।
২০১৭ সালে নিট ইউজি পাশ করেছেন ঠিকই, কিন্তু তার আগেও নিট দিয়েছিলেন রূপা। ৪১৫ নম্বর পেয়ে ২৩,০০০ র্যাঙ্ক হয়েছিল তাঁর। কিন্তু রাজস্থান কখনও ছাড়তে চাননি তিনি। তাই এক বছর ধরে কোটায় পড়াশোনা করে ২০১৭ সালে আবার নিট দেন। এই পরীক্ষায় ৫০৩ নম্বর পেয়েছিলেন তিনি।
স্বামী হিসেবে শঙ্করকে ফুল মার্কস দিচ্ছেন রূপা। বলছেন, ''আমাকে সাহায্য করবে বলে নিজের পুরনো বাড়ি ছেড়েছে ও। সংসারের বাড়তি খরচ সামলানোর জন্য একসঙ্গে একাধিক কাজও করেছে। এখন বাড়ির সামনে একটি দোকান চালিয়েই আমাকে সাহায্য করে।'' স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রীর এই সাফল্যে গর্ববোধ করেন শঙ্করও।
প্রথম থেকেই ডাক্তার হতে চাওয়া রূপা খুব কাছ থেকে মৃত্যুও দেখেছেন। তাঁর কাকার মৃত্যু হয়েছিল হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে। সে সময়ে পর্যাপ্ত ওষুধ কিনে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল না তাঁর। তাই ডাক্তার হওয়ার তাগিদ আরও বেড়ে যায় রূপার। প্রথমে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ হতে চেয়েছিলেন তিনি। তবে কোভিডকালে গর্ভাবস্থায় কিছু সমস্যা দেখা দেয় তাঁর। সন্তানের জন্মের সময়ে কোনও বিপদ না ঘটলেও সমস্যার বিষয়টি নাড়া দেয় রূপাকে। এখন তাই তিনি গাইনোকোলজিস্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।