
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 6 May 2024 12:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জন্মের পর থেকেই সন্তান কথা বলতে ও শুনতে পারতো না। ছয় বছরের ওই শিশুকে নিয়ে সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে নিত্য অশান্তি লেগে থাকত। সেই অশান্তি একদিন চরমে উঠলে রাগে দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে সন্তানকে কুমিরভর্তি খালে ছুড়ে ফেলে দিলেন মা। শিশুর ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
কর্নাটকের উত্তর কন্নড় জেলার হালামাডী গ্রামের ঘটনা। ওই গ্রামের বাসিন্দা সাবিত্রী ও রবিকুমারের তিন সন্তান। তাদের মধ্যে ৬ বছর বয়সি বড় ছেলে জন্ম থেকেই মূক ও বধির। এই নিয়ে প্রায়ই দম্পতির মধ্যে ঝামেলা লেগে থাকত। শনিবারও ছেলেকে নিয়ে অশান্তি শুরু হয়। এরপর ওইদিন রাতে মহিলা তাঁর বড় ছেলেকে গ্রাম-লাগোয়া খালের জলে ফেলে দেন বলে অভিযোগ। এই খাল অদূরেই গিয়ে মিশেছে কালী নদীতে, যেখানে কুমির ভর্তি।
পুলিশ সূত্রের খবর, সাবিত্রী আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করতেন। তাঁর স্বামী পেশায় রাজমিস্ত্রি। সাবিত্রীকে তাঁর স্বামী প্রায়ই ছেলেকে বাইরে কোথাও রেখে আসার জন্য বলতেন। শনিবার সন্ধেয় সেই ঝামেলা চরমে পৌঁছায়। আর তারপরই বীতশ্রদ্ধ হয়ে সাবিত্রী চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। কুমির ভর্তি খালের জলে ছুড়ে ফেলে দেন নিজের ছয় বছরের সন্তানকে। ঘটনার কথা জানাজানি হতে প্রতিবেশীরাই প্রথমে পুলিশে খবর দেন।
রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিশুকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করে। নামানো হয় ডুবুরি। কিন্তু অন্ধকারে ওইদিন রাতে আর শিশুকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। শেষে রবিবার সকালে নদী থেকে শিশুর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ইতিমধ্যে দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রের খবর, শিশুর শরীরে বিভিন্ন জায়গায় ক্ষত, কামড়ের দাগ রয়েছে। তার শরীরের সঙ্গে একটা হাত ছিল না। পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। স্বত:প্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে।