
ফি-বছরই শয়ে শয়ে মানুষের মৃত্যু হয়। গ্রাফিক্স- শুভ্র শর্ভিন
শেষ আপডেট: 20 December 2024 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আর কয়েকদিনের আঙুল গোনা। তারপরেই পুরনো বছরকে বিদায় জানিয়ে এসে পড়বে ২০২৫ সাল। চলে যাওয়া বছর প্রতিবারই কিছু সুখ, কিছু দুঃখের স্মৃতি পিছনে ফেলে রেখে যায়। এখানে একবার চোখ বুলিয়ে নেব, বিদায়ী ২০২৪ সালে কোন কোন বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল।
ফি-বছরই খরা, বন্যা, হড়পা বান, মেঘভাঙা বৃষ্টি, পাহাড়ি ধস, অতিবৃষ্টি, তীব্র গরম বা হাড় কনকনে ঠান্ডায় শয়ে শয়ে মানুষের মৃত্যু হয়। তেমনই ঘূর্ণিঝড়, অগ্ন্যুৎপাত, সামুদ্রিক ঝড়, ভূমিকম্পে হাজার হাজার কোটির লোকসান হয়। সুইস আরই গ্রুপের পূর্বাভাস অনুযায়ী ২০২৪ সালের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিশ্বে ৩১০০০ কোটি মার্কিন ডলারের আনুমানিক ক্ষতি হয়ে থাকতে পারে।
আফগানিস্তান-পাকিস্তান বন্যা- ৬ মার্চ আচমকা বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ভয়ানক হড়পা বানে ভেসে যায় আফগানিস্তান-পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। এই বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় কৃষিজমির। প্রায় হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এর মধ্যে এপ্রিলের বন্যায় আফগানিস্তানে ১০০ জনের মৃত্যু হয়। মে মাসের বন্যায় আরও ৫৪০ জনের মৃত্যু হয়েছিল বলে রাষ্ট্রসঙ্ঘ জানিয়েছিল। এরপর ফের ১৫-১৬ জুলাই বন্যায় আরও ৬০ জনের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে, পাকিস্তানে মার্চ, এপ্রিল, অগস্টে যথাক্রমে ৬০, ৯৯ এবং ২৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছিল। এরমধ্যে অতিবৃষ্টিতে ধস নেমেছিল ৬ মার্চ।
সাইক্লোন রেমাল- এ বছরের প্রথম ঘূর্ণিঝড় এসেছিল ২৬ মে। রাজ্যের সুন্দরবন ও বাংলাদেশের উপকূলবর্তী এলাকায় উত্তর ভারত মহাসাগরীয় ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বাতাসের গতি ছিল ১০০-১৩৫ কিমি। বাংলা, মিজোরাম, অসম এবং মেঘালয় মিলিয়ে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও প্রচুর কৃষিজমির ক্ষতি হয়। বহু মানুষ গৃহহীন হন। মারা যায় প্রচুর গবাদি পশুও।
বিজয়ওয়াড়া বন্যা- অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়া শহরে ভারী বৃষ্টি ও নদীর জল উপচে যাওয়ায় বন্যা দেখা দেয়। বন্যায় ৪০ জনের বেশি মৃত্যু এবং ৩ লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন। ৩১ অগস্ট থেকে ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বন্যার প্রভাব ছিল। বুড়ামেরু ও কৃষ্ণা নদীর জল নিচু এলাকাগুলিকে প্লাবিত করে দেয়।
হিমাচল প্রদেশের মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বান- জুন এবং অগস্টের মাঝে হিমাচল প্রদেশে ৫০টির বেশি মেঘভাঙা বৃষ্টি ও হড়পা বানের দুর্যোগ নেমে আসে। অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। লাহুল-স্পিতি সবথেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা।
ওয়ানাড়ের ভূমিধস- কেরলের পর্যটন কেন্দ্র ওয়ানাড়ে অতিবৃষ্টির জেরে ভূমিধসে অন্তত ৪২০ জনের মৃত্যু হয়। গত ৩০ জুলাই রাতে আচমকা ধস নামে। ওয়ানাড় জেলার চুরলামালা, মুন্ডাক্কাই এলাকা এবং মালাপ্পুরম জেলার নীলাম্বুর জঙ্গল এলাকায় ভয়াবহ ধস নামে। ধসে অন্তত দেড় হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ঘরছাড়া হন কয়েক হাজার মানুষ।
সাইক্লোন ফেঙ্গল- গত ৩০ নভেম্বর পুদুচেরিতে ঘূর্ণিঝড় ফেঙ্গল আছড়ে পড়ে। ২০ জন মানুষের মৃত্যু হয়। ঝড়ের কারণে পুদুচেরিতে প্রায় ৪৬ সেমি বৃষ্টিপাত হয়েছিল। যার জেরে শহরের অধিকাংশ এলাকা এবং প্রচুর কৃষিজমি জলের তলায় ডুবে গিয়েছিল।