
শেষ আপডেট: 26 January 2024 07:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারাণসীতে হিন্দু মন্দিরের কাঠামো সামান্য বদলে তার উপরেই জ্ঞানবাপী মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল। ভারতীয় পুরাতত্ত্ব সর্বেক্ষণ বিভাগের (আর্কিয়োলজিকাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া বা এএসআই) সমীক্ষার রিপোর্টে এমনটাই উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি হিন্দু পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈনের।
এ ব্যাপারে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকের আয়োজন করেছিল হিন্দু পক্ষ। সেখানেই বিষ্ণুশঙ্কর জৈন দাবি করেন, "মন্দিরের পুরনো কাঠামো ব্যবহার করেই মসজিদ তৈরি করা হয়েছে বলে এএসআই-এর রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। "
বারাণসীর জ্ঞানবাপী মসজিদ কি কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের একাংশ ভেঙে তৈরি হয়েছিল? এই নিয়ে বিতর্ক বহুদিনের। ইতিহাস তুলে ধরে অনেকেই দাবি করেন, অনেকবারই আক্রান্ত হয় ওই মন্দির। শেষবারের মতো বড় হামলা হয় মোঘল সম্রাট ঔরঙ্গজেবের সময়। তখনই তৈরি হয় জ্ঞানবাপী মসজিদ।
গত ২১ জুলাই হিন্দু পক্ষের আবেদন মেনে জ্ঞানবাপী মসজিদের ‘সিল’ করা এলাকার বাইরে এএসআই-কে সমীক্ষার অনুমতি দিয়েছিলেন বারাণসী জেলা আদালতের বিচারক। এ ব্যাপারে গত ১৮ ডিসেম্বর বারাণসী জেলা আদালতে মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দিয়েছিল আরকিওলজিক্যাল সোসাইটি অফ ইন্ডিয়া।
এরপরই রিপোট প্রকাশ্যে আনার দাবি জানিয়েছিল হিন্দু পক্ষ। সম্প্রতি আদালত জানায়, জ্ঞানবাপী মসজিদের ‘বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা’র রিপোর্ট হিন্দু এবং মুসলিম পক্ষকে দেওয়া হবে। সেই সমীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর এবার প্রকাশ্যে আনলেন হিন্দু পক্ষের আইনজীবী।
হিন্দু পক্ষের আইনজীবী বিষ্ণুশঙ্কর জৈন দাবি, "বর্তমান কাঠামোর আগে ওই চত্বরে বড় হিন্দু মন্দিরের উপস্থিতি টের পাওয়া গিয়েছে। মন্দিরের পিলার ও প্লাস্টারর সামান্য বদল এনে পুরনো কাঠামোর উপরেই মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল বলেও রিপোর্টে পরিষ্কার ভাবে লেখা আছে। এমনকী মসজিদের গায়ে থাকা যে দেবনগরী, তেলুগু, কন্নড় ভাষায় লেখা লিপিগুলি উদ্ধার করা হয়েছে তা সাধারণত প্রাচীন হিন্দু মন্দিরেই দেখা যায়।"
এর আগে ২০২২ সালে জেলা প্রশাসনের সমীক্ষায় জ্ঞানবাপীর চত্বর থেকে একটি পাথরখণ্ড উদ্ধার হয়। সেটি কাশী বিশ্বনাথ মন্দিরের আসল শিবলিঙ্গ বলে দাবি হিন্দুপক্ষের।
এছাড়া মসজিদের গায়ে শৃঙ্গার গৌরী দেবীর মূর্তি খোদাই করা আছে। ওই মূর্তি সারা বছর পুজো করার অনুমতি চেয়ে মামলা করেছেন পাঁচ মহিলা। সেই মামলার সূত্র ধরেই এএসআইয়ের সমীক্ষার নির্দেশ দেন বিচারক। সেই আদেশ বাতিলের দাবিতে মসজিদ কর্তৃপক্ষ সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত ছুটেছিল। কিন্তু শীর্ষ আদালত বারাণসীর আদালতের নির্দেশ বহাল রাখে। এবার সেই রিপোর্ট সামনে আনল হিন্দু পক্ষ।