
মোহিত ও প্রিয়ঙ্কা (ছবি- গুগল)
শেষ আপডেট: 19 April 2025 19:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের বেঙ্গালুরুর টেকি অতুল সুভাষের মতো স্ত্রীকে কাঠগড়ায় তুলে আত্মঘাতী হলেন এক ব্যক্তি। উঠল নিপীড়নের অভিযোগ। মানসিক চাপে ভুগছিলেন বলে জানিয়েছে মৃত মোহিত ত্যাগীর পরিবার।
উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদে থাকতেন ৩৪ বছর বয়সি মোহিত। কিছুদিন আগে বিষ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। রেখে যান একটি সুইসাইড নোট। যার প্রথম থেকে শেষ তিনি নিজের স্ত্রী ও স্ত্রীর পরিবারকে এই সিদ্ধান্তের পিছনে দায়ী করেছেন। মোহিতের ভাই রাহুল ত্যাগীর দাবি, তাঁর ভাই মানসিক চাপে ছিলেন এবং স্ত্রীর পরিবার থেকে লাগাতার মানসিকভাবে হেনস্থা হয়েছেন, শিকার হয়েছেন নিপীড়নের।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে মোদীনগর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে, যেখানে তাঁর স্ত্রী প্রিয়ঙ্কা ত্যাগী, প্রিয়ঙ্কার ভাই পুনিত, ভাইয়ের স্ত্রী নীতু ত্যাগী এবং মামা অনিল ও বিশেষ ত্যাগীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে মোহিত বিষ খান। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দু'দিন লড়াই চলার পর তাঁর মৃত্যু হয়। গাজিয়াবাদের মোদীনগর এলাকার বাসিন্দা মোহিত একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। ২০২০-র ডিসেম্বরে মোহিতের দ্বিতীয় বিয়ে হয় প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে। তাঁদের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে।
মোহিতের পরিবারের অভিযোগ, বিবাহের কয়েক মাসের মধ্যেই দাম্পত্যে চিড় ধরে। প্রিয়ঙ্কা ও তাঁর পরিবার মোহিতকে প্রায়শই কথাবার্তার মাধ্যমে হেনস্থা করতেন, মিথ্যা মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন কয়েকবার, মানসিকভাবে কার্যত অত্যাচার করতেন।
২০২৪ সালের অগস্ট মাসে মোহিতের মায়ের ব্লাড ক্যানসারে মৃত্যু হয়। তারপর থেকেই নাকি পারিবারিক সমস্যা চরমে ওঠে। সুইসাইড নোটে মোহিত সরাসরি লিখেছেন, এই বিয়ের পিছনে এ কটি উদ্দেশ্য ছিল—টাকা আদায় এবং মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর মা মারা যাওয়ার তিন মাস পরে প্রিয়ঙ্কা, তাঁর ভাই ও আরেকজন অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তি বাড়ি থেকে ১২–১৫ লক্ষ টাকার সোনার গয়না এবং নগদ টাকা নিয়ে চলে যান। সঙ্গে নিয়ে যান তাঁদের শিশু সন্তানকেও।
ঘটনার সময় মোহিত অফিস যাওয়ার তাড়ায় ছিলেন। বাড়িতে তাঁর ভাইয়ের স্ত্রী ছিলেন। তিনি তৎক্ষণাৎ মোহিতের বড় ভাই রাহুলকে খবর দেন। রাহুল এসে প্রিয়ঙ্কাকে থামানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু খুনের হুমকি দিয়ে তিনি বেড়িয়ে যান। ঘটনার পর একটি থানায় অভিযোগ দায়ের করা হলেও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে পরিবারের অভিযোগ।
২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল মোহিতকে সম্ভলের চৌদা থানার পক্ষ থেকে ফোন করা হয়। জানানো হয়, তাঁর স্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ফোনের কিছুক্ষণ পর মোহিত হোয়াটসঅ্যাপে তাঁর বন্ধু ও আত্মীয়দের কাছে একটি বার্তা পাঠান এবং সেখানে জানান আত্মহত্যার কথা। অভিযোগের আঙুল কার কার দিকে, সে তথ্যও দেন। তিনি সেদিনই বিষপান করেন। মোদীনগরের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে, পরে মৃত্যু হয়।
প্রিয়ঙ্কার বিরুদ্ধে গর্ভপাতের চেষ্টা, মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা, মানহানি ও আইনি জটিলতায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন মোহিত। সুইসাইড নোটটির শেষে উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের উদ্দেশে আবেদন জানান, যাতে দাম্পত্য সম্পর্কের আইনি বিধানগুলির অপব্যবহার আটকানো যায়।