
শেষ আপডেট: 3 April 2024 12:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটকে মহা ফাঁফড়ে পড়েছে বিজেপি। ফের দলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন পার্টির প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী কেএস ঈশ্বরাপ্পা। তিনি শিবামোগ্গা আসনে নির্দল প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা করেছেন। ওই আসনে বিজেপি প্রার্থী করেছে দলের রাজ্য সভাপতি বি ওয়াই রাঘবেন্দ্রকে। তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পার পুত্র।
অন্যদিকে, ঈশ্বরাপ্পা হলেন, শিবামোগ্গার জনপ্রিয় নেতা এবং স্থানীয় ওবিসি সম্প্রদায়ের মুখ। তিনি ময়দানে থাকলে বিজেপি প্রার্থীর জয়ের কোনও সুযোগ নেই বুঝে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ মঙ্গলবার কথা বলেন ঈশ্বরাপ্পার সঙ্গে। অনুরোধ করেন, তিনি যেন লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান।
শাহের সঙ্গে তাঁর টেলিফোনে হওয়া কথা প্রকাশ্যে জানিয়ে ঈশ্বরাপ্পা বলেন, ‘আমি সরে দাঁড়াতে রাজি হয়েছি একটাই শর্তে। বলেছি, রাঘবেন্দ্রকে পার্টির রাজ্য সভাপতির পদ থেকে সরালে তবেই আমি শিবামোগ্গা থেকে প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করতে পারি।’
বিজেপিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে ঈশ্বরাপ্পার বিদ্রোহ। তাঁর বক্তব্য, ‘মোদী-শাহরা দিনরাত পরিবারবাদের বিরুদ্ধে সরব। পরিবারবাদীদের নিন্দামন্দ করছেন। অথচ কর্নাটকে একটি পরিবারের হাতে দলের যাবতীয় ক্ষমতা কুক্ষিগত।’ বলাইবাহুল্য তিনি ইয়েদুরাপ্পা ও তাঁর পরিবারকে নিশানা করেছেন। দলের অন্দরের খবর, অনেকের মনের কথা ফাঁস করে দিয়েছেন প্রবীণ এই প্রাক্তন উপ মুখ্যমন্ত্রী।
প্রসঙ্গত, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিএস ইয়েদুরাপ্পা বর্তমানে বিজেপির সংসদীয় দলের সদস্য। যে কমিটিই নির্বাচনের ব্যাপারে শেষ কথা বলে থাকে। তাছাড়া দলের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন এই কমিটি।
দলে ইয়েদুরাপ্পার প্রমোশনের পাশাপাশি তাঁর পুত্রকে গত বছর রাজ্য সভাপতি করেন মোদী-শাহরা। রাজ্য সভাপতিকেই শিবামোগ্গায় লোকসভায় টিকিট দিয়েছে দল। এই সব সিদ্ধান্তেই পার্টিতে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ তুলে সরব ঈশ্বরাপ্পা। তাঁকে আলোচনার জন্য দিল্লিতে তলব করেছেন অমিত শাহ। প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীও কথা বলতে পারেন তাঁর সঙ্গে।
কারণ, ঈশ্বরাপ্পার বিদ্রোহকে মোটেই খাটো করে দেখছে না বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। গত বছর বিধানসভা ভোটের আগে দল থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কর্নাটকে কট্টর হিন্দুত্বের মুখ ঈশ্বরাপ্পা। তাঁকে প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে না অভিযোগ করে সভাপতি জেপি নাড্ডার কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছিলেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে দিল্লি থেকে প্রধানমন্ত্রী মোদী ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলে তাঁকে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করান।
শুধু তাই নয়, কর্নাটকে প্রচারে গিয়ে মোদী ঈশ্বরাপ্পাকে পাশে নিয়ে একাধিক রোড শো করেন। তারপরও কর্নাটকের গদি বাঁচাতে পারেনি বিজেপি। স্বভাবতই ঈশ্বরাপ্পার বিদ্রোহ একদিকে, পরিবারবাদ অস্ত্রে বিদ্ধ হয়েছে বিজেপিই। অন্যদিকে, প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী লড়াইয়ের ময়দানে থেকে গেলে ভোট ব্যাঙ্কেও ধস নামতে পারে।