
শেষ আপডেট: 30 November 2023 22:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফল বের হতে এখনও তিনদিন বাকি। বৃহস্পতিবারই তেলেঙ্গানা বিধানসভার ভোট গ্রহণ করা হয়। দেশ মজে বুথ ফেরৎ সমীক্ষায়। কারণ, পাঁচ রাজ্যের ভোটের ফলকে বলা হচ্ছে লোকসভার সেমিফাইনাল। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ফাইনাল ম্যাচ অর্থাৎ ২০২৪-এর লোকসভা ভোট নিয়ে বৃহস্পতিবার থেকেই ময়দানে নেমে পড়লেন। সন্ধ্যার পর টিভির পর্দা ভাগ হয়ে গেল এক্সিট পোল আর প্রধানমন্ত্রীর নয়া রাজনৈতিক কৌশলের খবরে।
১৫ নভেম্বর থেকে দেশব্যাপী শুরু হয়েছে মোদী সরকারের ‘বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রা।’ মোদী সরকারের সাড়ে নয় বছরের সাফল্যের খতিয়ান নিয়ে রথ অর্থাৎ বিশেষ ধরনের বাস ছুটছে দেশের কোণায় কোণায়। প্রতিটি বাসের গায়ে লাগানো আছে বড় স্ক্রিনের টিভি সেট। প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার বিকালে ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন যা দেশের কোণায় কোণায় পৌঁছে দিয়েছে বিকশিত ভারত সংকল্প যাত্রার রথ।
প্রধানমন্ত্রী ভাষণে বলেন, ‘আমার কাছে ভারতের সবচেয়ে বড় জাতি হল, গরিব মানুষ, যুব সমাজ, মহিলা ও কৃষকেরা। এই চার সম্প্রদায়ের উন্নতি, তাদের জন্য ভাল কিছু করতে পারলেই দেশ আমূল বদলে যাবে। মোদী বলেন, এটাই আমার সংকল্প। এই চার জাতের জন্য আমার সরকার কাজ করেছে। আগামী দিনেও করবে।’
প্রধানমন্ত্রী সদ্য সমাপ্ত বিধানসভার নির্বাচনের প্রচারে বারে বারে বলেছেন, সবচেয়ে বড় জাতিগোষ্ঠী হল গরিব মানুষ। সমতলের চার রাজ্য ছত্তীসাগড়, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান এবং তেলেঙ্গানায় কংগ্রেস জাতি সমীক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তেলেঙ্গানায় শাসক দল ভারত রাষ্ট্রসমিতিও একই প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
রাজনৈতিক মহল মনে করছে, কংগ্রেস-সহ বেশিরভাগ বিরোধী দলের তরফে জাত সমীক্ষা এবং পশ্চাৎপদ অংশের জন্য সরকারি চাকরি ও শিক্ষায় সংরক্ষণের কোটা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতির পাল্টা হিসাবে প্রধানমন্ত্রী জাতপাতের রাজনীতির অঙ্কটাই বদলে দিতে চাইলেন। তিনি ভারতের প্রচলিত জাত ব্যবস্থা থেকে রাজনীতিকে বের করে আনার পাল্টা রাস্তা নিলেন। রাজনীতিতে একে বলে ফুটবল ম্যাচে রাগবি খেলার কৌশল।
অন্যদিকে, বিহারে জেডিইউ নেতা তথা মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার রাজ্যে জাতি সমীক্ষা করিয়ে পশ্চাৎপদ অংশের জন্য সংরক্ষণের মাত্রা ৫০ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৬৪ শতাংশ করে দিয়েচেন। নীতীশকে অনুসরণ করা শুরু করেছেন একাধিক অবিজেপি শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী। এমনকী বিজেপি এবং কংগ্রেস, কোনও জোটেই না থাকা বিজু জনতা দল এবং ওয়াইএসআর কংগ্রেসও জাতি সমীক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে বিরোধীদের কাস্ট পলিটিক্সের পাল্টা অস্ত্র দরকার ছিল বিজেপির। প্রধানমন্ত্রী মোদী জাতপাতের চেনা অঙ্ককে ভাঙতে হাতিয়ার করলেন গরিবিকে। একই সঙ্গে যুব সমাজ, মহিলা ও কৃষকদের কাছে টানার চেষ্টা শুরু করলেন তিনি। সংরক্ষণ নিয়ে যুব সমাজের বড় অংশের আপত্তি আছে। প্রধানমন্ত্রী সেই আপত্তিকে সুকৌশলে কাজে লাগাতে চাইছেন বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার প্রধানমন্ত্রী আগামী দিনে তাঁর নয়া রাজনীতিকে কীভাবে নির্মাণ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বৃহস্পতিবার ভাষণে তাঁর সরকারের সময় গরিব কল্যাণের কর্মসূচিগুলি তুলে ধরেন। বিধানসভার প্রচারের অভিজ্ঞতা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গরিব কল্যাণে আরও কাজ করতে হবে।’