
শেষ আপডেট: 19 December 2024 11:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়্যারম্যান পদে সুপ্রিম কোর্টের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়কে চান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কমিশনের চেয়্যারম্যানের পদটি ১ জুলাই থেকে শূন্য হয়ে আছে। ৩০ জুন অবসর নিয়েছেন আগের চেয়্যারম্যান অরুণ মিশ্র।
সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হওয়ার কথা। একটা সময় পর্যন্ত ওই পদে প্রধান বিচারপতি বসতেন। এবার সদ্য অবসর নেওয়া চন্দ্রচূড়কে বসাতে চান প্রধানমন্ত্রী মোদী। অরুণ মিশ্রকে চেয়ারম্যান করার জন্য যোগ্যতা মান কমিয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতিকে ওই পদে বসাতে আইন সংশোধন করে মোদী সরকার।
মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ পূরণ করতে সম্প্রতি উদ্যোগী হয়েছে সরকার। নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে চন্দ্রচূড়ের নামে গুরুতর আপত্তি তোলেন কমিটির দুই সদস্য কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জিন খাড়্গে এবং রাহুল গান্ধী। তাঁরা যথাক্রমে রাজ্যসভা এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা। সরকারি সূত্রের খবর, দু’জনেরই কমিটির বৈঠকে জানিয়ে এসেছেন, তাঁরা ডিসেন্ট নোট বা আপত্তির কারণ জানিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে পাঠাবেন। প্রসঙ্গত, এর আগে সুপ্রিম কোর্টের দু্ই প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি এইচএল দাত্তু এবং কেজি বালাকৃষ্ণাণ জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান হয়েছেন।
চার সদস্যের নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী। বাকি তিন সদস্য হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং রাজ্যসভা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতারা। সম্প্রতি কমিটির বৈঠক হয়েছে।
চন্দ্রচূড়তে নিয়ে শুধু কংগ্রেস নয়, একাধিক বিরোধী দল এবং নাগরিক সংগঠনগুলির আপত্তি আছে। প্রধান বিচারপতি থাকাকালে তাঁর ভূমিকা নিরপেক্ষ ছিল না বলে অভিযোগ উঠেছে। তাছাড়া প্রধানমন্ত্রী মোদীর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সখ্য নিয়েও আপত্তি উঠেছে নানা মহল থেকে। গণেশ পুজোয় তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিজের সরকারি বাড়িতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। চন্দ্রচূড়ের বাড়ির পুজোয় হাজির ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। এমনকী দু’জনের এক সঙ্গে দেবতাকে প্রণাম করার ছবিও সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
ওই ঘটনায় বিতর্কের মুখে পড়েন চন্দ্রূচড়। তাঁর সময়ে হওয়া একাধিক রায়ের জন্য আগামী দিনে দেশকে ভুগতে হবে বলেও নানা মহলের বক্তব্য। এমন একজন ব্যক্তিকে মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যন করাতে স্বভাবতই আপত্তি তুলেছেন কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা। সংবিধানের ৭৫তম বর্ষ উদযাপন নিয়ে লোকসভার বিতর্কে তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া মৈত্রও নাম না করে চন্দ্রচূড়ের ভূমিকার সমালোচনা করেন। বলেন, বিচারপতি-সহ সাংবিধানিক পদে আসীন পদাধিকারীদের কাছে সংবিধান-ই ভগবান। অবসরপ্রাপ্ত অনেক প্রধান বিচারপতি সে কথা ভুলে ছিলেন।
দিন কয়েক আগে নাম না করে রাহুল গান্ধীর কিছু মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া দেন চন্দ্রচূড়। দেশের বিচার ব্যবস্থার আরও সাহসী ভূমিকা নেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছিলেন রাহুল। জবাবে চন্দ্রচূড় বলেন, আদালত কখনও বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে পারে না। তৃণমূলের সাংসদ মহুয়া প্রাক্তন প্রধান বিচারপতির এই কথাও সমালোচনা করেছেন।