
শেষ আপডেট: 4 November 2023 17:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কোনও দিন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, তো কোনও দিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী, তেলেঙ্গানায় ভোটের প্রচারে এভাবেই জায়গা করে নিচ্ছেন বিজেপি ও কংগ্রেসের দুই শীর্ষ নেতা। তাঁদের আক্রমণের নিশানা অভিন্ন, শাসক দল ভারত রাষ্ট্র সমিতি। ফলে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী তথা বিআরএস সুপ্রিমো কে চন্দ্রশেখর রাও-ও টিভির পর্দা ও খবরের কাগজের প্রথম পাতা জুড়ে থাকছেন। দু’দিন হল সেই চেনা ছবি বদলে দিয়েছেন দুই নারী। দক্ষিণের ভোটমুখী রাজ্যটির নির্বাচনী প্রচারে অনেকটা জায়গা জুড়ে বিরাজ করছেন কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী এবং কেসিআর কন্যা কে কবিতা। প্রিয়ঙ্কা ও কবিতার পরোক্ষ বাক্ যুদ্ধ এখন লোকের মুখে মুখে।
বুধবার রাহুল ও প্রিয়ঙ্কা দিল্লি থেকে বিশেষ বিমানে তেলেঙ্গানায় যান। বেগমপেট বিমানবন্দরের অদূরে লাগোয়া শহরে সভা ছিল দাদা-বোনের। গান্ধী পরিবারের দুই সদস্যের ভাষণ শুনতে উপচে পড়ে ভিড়। সমাবেশে কংগ্রেস কর্মীদের উন্মাদনা রাহুল, প্রিয়ঙ্কাকে ছুঁয়ে যায়। দাদা ও বোন মিলে তেড়ে আক্রমণ করেন বিজেপি ও বিআরএসকে। রাহুল অভিযোগ করেন, বিআরএস-কে জেতাতে ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে বিজেপি। পদ্ম শিবিরের সঙ্গে কেসিআরের পার্টির লোকসভা ভোট নিয়ে বোঝাপডা হয়েছে। অর্থাৎ লোকসভা ভোটের পর নরেন্দ্র মোদীকে সরকার গড়তে সাহায্য করবেন কেসিআর, বকলমে এই সেটিংয়ের অভিযোগই করেন রাহুল।
নরেন্দ্র মোদীই রিমোটে দিল্লি থেকে তেলেঙ্গানা সরকার চালান, এমন গুরুতর অভিযোগও করেন কংগ্রেস নেতা। প্রসঙ্গত, বিআরএস হল প্রথমসারির আঞ্চলিক দলগুলির অন্যতম যারা এখন বিজেপি বা কংগ্রেসের নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোটে নেই। স্বভাবতই রাহুল বিআরএস-কে বিজেপি-বান্ধব হিসাবে তুলে ধরার যাবতীয় চেষ্টা চালান।
অন্যদিকে, কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা নিশানা করেন কেসিআর কন্যা কে কবিতাকে। দিল্লির মদ কাণ্ডে নাম জড়িয়েছে কবিতার। সাউথ গ্রুপ নামে একটি সংস্থার প্রধান তিনি। সেই সংস্থা তেলেঙ্গানার মদ ব্যবসায়ীদের দিল্লি সরকারের আবগারি লাইসেন্স পাইয়ে দিয়ে কয়েক কোটি টাকা ঘুষ নিয়েছে বলে ইডি ও সিবিআইয়ের অভিযোগ। দুই তদন্তকারী সংস্থাই জিজ্ঞাসাবাদ করেছে কবিতাকে।
প্রিয়ঙ্কা ভাষণে কবিতার প্রসঙ্গ টেনে দুর্নীতি এবং পরিবারতন্ত্র, দুই ইস্যুতেই আক্রমণ শানান। বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের হাতেই তেলেঙ্গানা সরকারের একাধিক দফতর রয়েছে। প্রসঙ্গত, কেসিআরের ছেলে কেটি রামারাও রাজ্যের তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী এবং বকলমে মন্ত্রিসভার সেকেন্ডম্যান। এমন জল্পনাও আছে, কেসিআর এবার ক্ষমতায় টিকে গেলে ছেলেকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি এগিয়ে দিতে পারেন। অন্যদিকে, কবিতা রাজ্যসভার সাংসদ হলেও রাজ্য প্রশাসন তাঁর অঙ্গুলি হেলনে চলে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। প্রিয়ঙ্কা অভিযোগ করেন, কবিতাই সরকার। তিনি সুপার চিফ মিনিস্টার।
মুখ্যমন্ত্রীর মেয়েকে প্রিয়ঙ্কার এমন আক্রমণে রাহুলের বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রচার মাধ্যমে আড়ালে চলে যায়। কালক্ষেপ না করে কবিতাও প্রতি আক্রমণে প্রিয়ঙ্কার উদ্দেশে বলেন, কাঁচের ঘরে বসে অন্যের বাড়িতে ঢিল মারবেন না। আপনি গান্ধী পরিবারের মেয়ে। সবাই জানে গান্ধী পরিবার আর ক্ষমতা সমার্থক। প্রিয়ঙ্কার রাজনীতিতে, বিশেষ করে কংগ্রেসে উত্থান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন কেসিআর কন্যা।
প্রিয়ঙ্কা ভাষণে বলেন, বিআরএস সামাজিক ন্যায়ের কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল। অথচ, মুখ্যমন্ত্রীর পরিবারের হাতেই দল ও সরকারের যত ক্ষমতা। রাজ্যের অর্ধেকের বেশি মানুষ পিছিয়ে থাকা সম্প্রদায়ের হওয়া সত্ত্বেও মন্ত্রিসভায় তাদের প্রতিনিধি মাত্র তিনজন, অভিযোগ প্রিয়ঙ্কার।
অন্যদিকে, রাহুল বলেন, দেশের মধ্যে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্থ রাজ্য হল বিআরএস। কেসিআরের বিরুদ্ধে পরিবারতন্ত্রের অভিযোগ করেন রাহুলও। তিনি বলেন, একটিই পরিবারের হাতে গোটা রাজ্যের ভবিষ্যৎ ঝুলছে। এই অবস্থার অবসান ঘটাতে পারে একমাত্র কংগ্রেস।
জবাবে কেসিআর কন্যা বলেন, রাহুল গান্ধী তেলেঙ্গানা সম্পর্কে অজ্ঞ। দিল্লি থেকে ভাইবোন এসে আমাদের শাসন কার্য শেখাতে চাইছেন। আমরা জানি কীভাবে রাজ্য চালাতে হয়। কেন্দ্রে ও রাজ্যে অতীতের কংগ্রেস সরকারের দুর্নীতির দীর্ঘ তালিকা তুলে ধরেন কবিতা।
প্রিয়ঙ্কা বুধবার রাতেই দিল্লি ফিরে যান। কিন্তু তেলেঙ্গানার মিডিয়া জুড়ে এখন শুধুই প্রিয়ঙ্কা ও কবিতার তরজা কাহিনি। টিভি চ্যানেলের প্রাইম টাইম আলোচনা থেকে খবরের কাগজের বিশেষ নিবন্ধ, বিষয় দুই দলের দুই নারীর বাক্ যুদ্ধ।