
শেষ আপডেট: 15 November 2023 17:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্ট হিসাবে আগামী শুক্রবার শপথ নেবেন মহম্মদ মুইজ্জু। তিনি ইব্রাহিম সলিহ’র স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রোগ্রেসিভ পার্টি অফ মালদ্বীপস-এর নেতা ৪৬ বছর বয়সি মুইজ্জু গতমাসে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। দিন সাতেক আগে তিনি নিজে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি পাঠিয়ে তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে হাজির থাকতে আমন্ত্রণ জানান।
তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী সেই অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন না। পররাষ্ট্রমন্ত্রক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর পরিবর্তে বিজ্ঞান বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজুজু শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রকের কর্তারা প্রধানমন্ত্রীর না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কোনও ব্যাখ্যা দেননি। মন্ত্রক বলেছে, প্রতিবেশী প্রথম— ভারতের বিদেশ নীতির এই অবস্থান মালদ্বীপের প্রতিও সমানভাবে প্রযোজ্য। ভারত প্রত্যাশা করে সম্পর্ক আরও উন্নত হবে।
যদিও মুইজ্জু শপথ নেওয়ার আগে থেকেই সম্পর্কের অবনতির আভাস পাওয়া গিয়েছে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার দিনই মুইজ্জু ঘোষণা করেন তাঁর প্রথম কাজ হবে দেশকে ভারতের সেনা মুক্ত করা। প্রসঙ্গত, গত শতকের আটের দশকে মালদ্বীপের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মুহম্মদ আবদুল গায়ুমকে গদিচ্যুত করার অভিযান ভেস্তে দিতে তাঁর অনুরোধে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী সে দেশে সেনা পাঠান। পরবর্তী সময়ে মালদ্বীপের নিরাপত্তা এবং সে দেশের সেনার প্রশিক্ষণের জন্য ভারতীয় বাহিনী থেকে যায়। ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও ভিন্ন মাত্রা পায়। এমনকী বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম সলিহ’র বিদেশনীতির গোড়ার কথা ছিল ‘ভারত প্রথম।’ নয়াদিল্লির স্বার্থ বিঘ্নিত হয় এমন কোনও পদক্ষেপ করেননি তিনি।
অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়া মাত্র মুইজ্জুর তাঁর দেশকে ভারতীয় বাহিনী মুক্ত করার ঘোষণায় নয়াদিল্লি অসন্তুষ্ট বলে কূটনৈতিক মহলের খবর। ঘটনাচক্রে মালদ্বীপের রাজনীতিতে মুইজ্জু চিনপন্থী বলে পরিচিত। ভারত মনে করছে, বেজিংকে খুশি করতেই মুইজ্জু দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ভারতীয় সেনা নিয়ে মুখ খুলেছেন। তিনি বুধবারও বলেছেন, তাঁর প্রথম কাজ হবে ভারতীয় সেনা সরানোর ফাইলে সই করা। যদিও বুধবার নতুন একটি কথা যুক্ত করেছেন। তিনি বলেন, ভারতীয় সেনা সরানোর অর্থ এই নয় যে চিনের সেনা আসবে। আমরা ছোট দেশ। আমাদের এত সেনার প্রয়োজন নেই।
যদিও কূটনৈতিক মহল মনে করছে, সেটা কথার কথা মাত্র। আসলে দ্বীপরাষ্ট্রটি থেকে ভারতীয় সেনা সরে গেলে চিনের পক্ষে ভারত মহাসাগরে কর্তৃত্ব ফলানো আরও সহজ হয়ে যাবে।
এই অবস্থায় নয়া দিল্লিও মালদ্বীপের নতুন প্রেসিডেন্টকে কড়া বার্তা দিল। মুইজ্জুর শপথ অনুষ্ঠানকে গুরুত্বই দিলেন না প্রধানমন্ত্রী মোদী। নিজে যাচ্ছেন না। সেই সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে কম গুরুত্বের মন্ত্রী কিরেন রিজেজু’কে পাঠাচ্ছেন।