
শেষ আপডেট: 18 November 2023 09:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বেসরকারি ক্যুরিয়ার সার্ভিসের রমরমার যুগেও দূর-দূরান্তের আত্মীয় কিংবা বন্ধুর কাছে উপহার কিংবা দরকারি জিনিস পাঠাতে আজও অনেকেরই ভরসা ভারতীয় ডাক বিভাগ। দেরি করে পার্সেল পৌঁছানোর অভিযোগ থাকলেও খুচরো ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, ইন্ডিয়া পোস্টের মাধ্যমে জিনিস আদান প্রদান করার ক্ষেত্রে অনেকেই আজও দুটো ইতিবাচক জিনিসের কথা উল্লেখ করেন। এক, জিনিস খোয়া যাওয়ার ভয় নেই। আর দুই, বেসরকারি সংস্থার তুলনায় খরচ অনেকটাই কম।
কিন্তু সেই সুখ আর রইল না। এবার রেজিস্টার্ড চিঠি থেকে শুরু করে পার্সেল, যে কোনও কিছুই ইন্ডিয়া পোস্টের মাধ্যমে পাঠাতে গেলে গুনতে হবে অতিরিক্ত গাঁটের কড়ি। সৌজন্যে, কেন্দ্রের মোদী সরকার। গ্রাহক তো দূর, এমনকী, ইন্ডিয়া পোস্টের কর্মীদের কাউকে কিছু না জানিয়ে চুপিচুপি ভারতীয় ডাক বিভাগের ২৭টি পরিষেবায় ১৮% জিএসটি চাপিয়েছে কেন্দ্র।
গত ১ নভেম্বর থেকেই লাগু হয়েছে এই অতিরিক্ত কর। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের কথা গ্রাহকরা তো জানতেন না বটেই, এমনটা যে হতে চলেছে, তা ঘুণাক্ষরেও টের পাননি পোস্ট অফিসের কর্মীরা। কার্যত, লুকিয়ে লুকিয়েই গ্রাহকদের ওপর আচমকা করের বোঝা চাপাল কেন্দ্র। ডাকঘরের কর্মীরা জানাচ্ছেন, তাঁদের আগে থেকে কোনও সরকারি সার্কুলার পাঠানো হয়নি। ১ তারিখ যখন তাঁরা চিঠি ইস্যু করতে যান, তখনই প্রকাশ্যে আসে বিষয়টা। অনেকেই ভেবেছিলেন, কোথাও কিছু একটা ভুল হচ্ছে। কিন্তু খোঁজখবর নিয়ে যখন জানতে পারেন আচমকাই কাউকে কিছু না জানিয়ে জিএসটি লাগু করা হয়েছে, তখন কর্মীরাও হতবাক হয়ে যান।
ডাক বিভাগের মোট ২৭টি পরিষেবা এখন থেকে আরও মহার্ঘ হল। এর মধ্যে রয়েছে আনরেজিস্টার্ড পার্সেল, রেজিস্টার্ড চিঠি, মানি অর্ডার, পোস্ট বক্স, বুক প্যাকেট, রেজিস্টার্ড সংবাদপত্রের মতো পরিষেবাও। এর ফলে মধ্যবিত্তের পকেটে এক ধাক্কায় অনেকটাই টান পড়ল। ১৮ শতাংশ জিএসটি চাপানোর আগে ৫০০ গ্রাম ওজনের পার্সেল পাঠাতে যেখানে পোস্ট অফিসকে দিতে হত ৩৬ টাকা, সেটাই এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৩ টাকায়। খরচ বাড়ছে রেজিস্টার্ড চিঠিরও। ২০ গ্রাম ওজন পর্যন্ত চিঠির ক্ষেত্রে এতদিন খরচ হত ২২ টাকা। এখন তার জন্য দিতে হবে ২৬ টাকা। চিঠির ওজন ৪০ গ্রাম পর্যন্ত হলে ২৭ টাকা থেকে চার্জ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩২ টাকায়। আর ৪০ থেকে ৬০ গ্রাম পর্যন্ত ওজনের চিঠির ক্ষেত্রে ৩২ টাকার বদলে এখন লাগবে ৩৮ টাকা।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা প্রকাশে আসার পর গ্রাহকরা তো খুশি নন বটেই, সেই সঙ্গে ক্ষুন্ন পোস্ট অফিসের কর্মীরাও। তাঁদের দাবি, এমনিতেই এখন বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে কম্পিটিশনে অনেকটাই পিছিয়ে রয়েছে ভারতীয় ডাক বিভাগ। তার মধ্যে কেন্দ্রের এমন সিদ্ধান্তে মানুষ আরও বেশি করে সরকারি পরিষেবা বিমুখ হয়ে পড়বেন বলে মনে করছেন তাঁরা। নিম্নবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত সাধারণ মানুষের উপর পরের বোঝা চাপিয়ে এভাবে রাজকোষ ভরানো কতটা যুক্তিযুক্ত, উঠছে সেই প্রশ্নও।