
প্রশান্ত কিশোর এবং অরবিন্দ কেজরিওয়াল
শেষ আপডেট: 8 February 2025 23:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তৃণমূলের সঙ্গে আই-প্যাকের সম্পর্ক শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালে। লোকসভা ভোটে বিজেপি সে বছর বাংলায় ১৯টি আসনে জিতেছিল। তারপরই প্রশান্ত কিশোর রাজনৈতিক পরামর্শ দেওয়ার বরাত দেয় তৃণমূল। ঘটনাচক্রে সে বছর ডিসেম্বর মাসে অরবিন্দ কেজরিওয়ালের আম আদমি পার্টিও চুক্তি করে আই-প্যাকের সঙ্গে। কারণ, ২০২০ সালে বিধানসভা ভোট ছিল দিল্লিতে।
এবারও দিল্লি নির্বাচনের আগে আই-প্যাকের সঙ্গে চুক্তি করে আপ। দিল্লি ভোটে (Delhi Election 2025) আম আদমি পার্টির জন্য প্রচারের কৌশল সাজানোর দায়িত্ব নেন প্রতীক জৈনরা। সেই চুক্তি সইয়ের আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েওছিলেন প্রতীক।
কিন্তু এবার আর আপ-কে ভোট বৈতরণী পার করাতে পারল না আই-প্যাক। বিজেপির থেকে প্রায় ৩ শতাংশ ভোটের ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ল। আসন সংখ্যার হিসাবে সেই ফারাক বিস্তর। দিল্লি বিধানসভার ৭০টি আসনের মধ্যে ৬২টি আসন আপের দখলে ছিল। তা এক ধাক্কায় ২২- এ নেমে এল। অনেকের মতে, আই-প্যাকে প্রশান্ত কিশোরের থাকা ও না থাকাটা প্রকটভাবে ধরা পড়ল এই ফলাফল প্রকাশের পর।
আই-প্যাকের যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের লোকসভা ভোট দিয়ে। নরেন্দ্র মোদীর প্রচারের সমস্ত কৌশল সাজিয়েছিল আই-প্যাক। তার পর থেকেই প্রশান্ত কিশোর সর্বভারতীয় রাজনীতিতে উচ্চতা পান। এর পর বিহার, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গনা, পাঞ্জাব, দিল্লি ও পশ্চিমঙ্গে ধারাবাহিক সাফল্য পান প্রশান্ত কিশোর। কিন্তু গত প্রায় দু’বছর ধরে আই-প্যাকের থেকে প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছেন প্রশান্ত কিশোর। তিনি নতুন রাজনৈতিক দলের পত্তন করেছেন। আই প্যাকের ব্যাটন এখন প্রতীক জৈনদের হাতে।
দিল্লির ব্যর্থতা নিয়ে আই-প্যাকের বর্তমান কর্তারা অবশ্য বাইরে কিছু বলেননি। তবে হ্যাঁ, একটা পাল্টা তর্কও রয়েছে। তা হল, দিল্লিতে আম আদমি পার্টির সরকার দশ বছরের প্রতিষ্ঠান বিরোধিতায় ভুগছিল। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, উপ মুখ্যমন্ত্রী মণীশ সিসোদিয়া দুর্নীতির অভিযোগে গ্রেফতার হয়ে জেল হেফাজতে ছিলেন। হতেই পারে যে শেষ মুহূর্তে আই প্যাকের পরামর্শে প্রচার না সাজালে হয়তো ফল আরও খারাপ হতে পারত। তবে তৃণমূলের এক রাজ্য নেতার কথায়, এটা মাসির গোঁফ হলে মামা হত-র মতো গল্প। দিনের শেষে বাস্তব হল, আই-প্যাক আপ-কে জেতাতে পারেনি।
জানিয়ে রাখা ভাল, তৃণমূলের সঙ্গে আই-প্যাকের যেমন বারো মাসের কারবার, আপের সঙ্গে তেমন ছিল না। ২০২০ সালে বিধানসভা ভোটের পর আই-প্যাকের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি কেজরিওয়াল। ফের ভোটের আগে চুক্তি করেছিলেন। এবারও ভোট মিটে যাওয়ার পর হয়তো আপাতত এই রাজনৈতিক পরামর্শদাতা সংস্থার সঙ্গে যোগ থাকবে না।