এখন দেখার, এই নিয়ম চালু হলে ব্যবহারকারীরা কতটা মানিয়ে নিতে পারেন, আর এসি নির্মাতারা কীভাবে নিজেদের মডেল আপডেট করেন।

শেষ আপডেট: 11 June 2025 12:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এয়ার কন্ডিশনার তথা এসিকে (AC) বলা হয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র। কিন্তু সেই যন্ত্র এবার থেকে ঘরে ও অফিসে কতটা ঠাণ্ডা করতে পারবে তাও নিয়ন্ত্রণ করতে চলেছে সরকার। খুব শিগগির গোটা দেশে চালু হতে পারে এই নতুন নিয়ম। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় আবাসন ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী মনোহরলাল খট্টর খুব ঠাণ্ডা মাথায় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, এবার থেকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে হবে। এর বাইরে আর ঠান্ডা বা গরম করা যাবে না।
এই নিয়ম কেবল বাড়িঘর বা অফিসেই নয়, গাড়ির এসি-র ক্ষেত্রেও বাধ্যতামূলক হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। খট্টরের কথায়, ‘‘এই সিদ্ধান্তের ফলে বিদ্যুৎ অপচয় কমবে, একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিলও হ্রাস পাবে।’’
কেন এই সিদ্ধান্ত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে ক্রমবর্ধমান এসি ব্যবহারের ফলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উপর বাড়তি চাপ পড়ছে। সেই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের গতিও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে এসি ব্যবহারের সীমা বেঁধে দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছিল।
বর্তমানে বেশিরভাগ এসি-তেই তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি পর্যন্ত নামিয়ে আনার সুযোগ থাকে। আবার কেউ চাইলে ৩০ ডিগ্রি পর্যন্ত তাপমাত্রা বাড়িয়ে নিতে পারেন। কিন্তু নতুন নিয়ম চালু হলে এই অপশনগুলি আর থাকবে না।
২০২০ সালেই ইঙ্গিত দিয়েছিল সরকার
২০২০ সালে ভারতীয় জ্বালানি দক্ষতা ব্যুরো (Bureau of Energy Efficiency - BEE) একটি নির্দেশিকা জারি করেছিল। তাতে বলা হয়েছিল, ঘর এবং গাড়ির এসি-র ডিফল্ট তাপমাত্রা ২৪ ডিগ্রি রাখতে হবে। তখন সেটি ছিল ভলান্টারি ব্যবস্থা। অর্থাৎ কারও ব্যাপারটা ইতিবাচক মনে হলে তিনি সেটা মেনে চলবেন। এবার সেটিকে বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
সরাসরি প্রভাব পড়বে সাধারণ মানুষের উপরে
এই পদক্ষেপের ফলে সাধারণ মানুষের বিদ্যুৎ বিল অনেকটাই কমবে বলেই মনে করছে সরকার। কারণ, অত্যধিক ঠান্ডা করার প্রবণতা রোধ হলে বিদ্যুৎ অপচয় কমবে। পাশাপাশি, বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় যে অতিরিক্ত কার্বন নিঃসরণ হয়, তাও কিছুটা কমবে।
গোটা দেশে এক নিয়ম
সরকার জানিয়েছে, এই নিয়ম দেশের সমস্ত রাজ্যে এবং সব ধরণের আবাসিক, বাণিজ্যিক এবং পরিবহণ ব্যবস্থায় প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ বাস, ট্রেন, প্রাইভেট গাড়ি— সব ক্ষেত্রেই এসি ব্যবহারে এই সীমা মানতে হবে।
এখন দেখার, এই নিয়ম চালু হলে ব্যবহারকারীরা কতটা মানিয়ে নিতে পারেন, আর এসি নির্মাতারা কীভাবে নিজেদের মডেল আপডেট করেন।