
শেষ আপডেট: 16 March 2024 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লোকসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হচ্ছে আজ। তার আগেই বড় সিদ্ধান্ত নিল মোদী সরকার। বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিকের নেতৃত্বাধীন জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট (জেকেএলএফ)-কে আরও পাঁচ বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল দেশে। ভোটের সময়ে জম্মু ও কাশ্মীরে যাতে সন্ত্রাস না ছড়ায় সে জন্যই এই সিদ্ধান্ত বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। জেকেএলএফ-এর অধীনে থাকা আরও চারটি দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে ভারতে।
সন্ত্রাস দমন আইনের আওতায় এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। কেন্দ্রের তরফে জানানো হয়েছে, বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ইয়াসিন মালিকের এই সংগঠন কাশ্মীরে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী কাজে ইন্ধন যোগাচ্ছিল। ইয়াসিন মালিক জেলে বন্দি থাকা সত্বেও তাঁর সংগঠনের কাজকর্ম একই রকম রয়েছে। এই অবস্থায় এই সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা না করলে তা কাশ্মীরের শান্তি বিঘ্নিত করতে পারে। তাই বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইনের ( ইউএপিএ ) বিভিন্ন ধারায় জেকেএলএফ-কে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে একটি বিবৃতি জারি করা হয়। এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জেকেএলএফ বিভিন্ন ধরণের দেশ বিরোধী কাজে লিপ্ত ছিল। ইয়াসিন মালিকের গ্রেফতারির পরেও নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল সংগঠনের কর্মীরা। কাশ্মীরের ও পাকিস্তানের বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তাদের যোগ ছিল বলেও জানা গিয়েছে। শনিবার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানান, “দেশের সুরক্ষা, সার্বভৌমত্ব এবং অখণ্ডতাকে নষ্ট করার চেষ্টা যদি কেউ করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
The Modi government has designated the Jammu and Kashmir Peoples Freedom League as an 'Unlawful Association' for five years. The organization threatened India's integrity by promoting, aiding and abetting the secession of Jammu and Kashmir through terrorism.
— Amit Shah (Modi Ka Parivar) (@AmitShah) March 16, 2024
The Modi government…
কেন্দ্রের দাবি, বাইরের জঙ্গি সংগঠনকে বিভিন্ন ধরণের নাশকতামূলক কাজের জন্য সাহায্য করত জম্মু কাশ্মীর লিবারেশন ফ্রন্ট। অভিযোগ, উপত্যকায় সন্ত্রাস ও অশান্তি সৃষ্টি করতে অন্যতম বড় ভূমিকা ছিল এই জেকেএলএফ-এর। আর তাই এই ধরণের সংগঠনকে নিষিদ্ধ না করলে তা কাশ্মীরের সুরক্ষার ক্ষেত্রে সমস্যা হত বলেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক সূত্রে জানানো হয়েছে।
পুলওয়ামা হামলার পরেই জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা শুরু হয়। প্রথমে জম্মু-কাশ্মীরের প্রায় সব বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাদের গ্রেফতার করা হয়। তারপর তাঁদের সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ করার কাজ শুরু হয়। আর আগে এই নিয়ে দুটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হল। এর আগে 'জামাত ই ইসলামি জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর' সংগঠনটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। এই সংগঠনের নেতা আবদুল হামিদ ফায়াজ এই মুহূর্তে জেলে বন্দি। জম্মুর কোট বলওয়াল জেলে বন্দি রয়েছেন ইয়াসিন মালিকও।