মৃত সৌরভ রাজপুত ও স্ত্রী মুসকান ও প্রেমিক সাহিলের ছবি
শেষ আপডেট: 19 March 2025 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের উত্তরপ্রদেশে (Uttar Pradesh) ভয়াবহ ঘটনা। বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জড়িয়ে প্রেমিকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে স্বামীর (Husband) দেহ ১৫ টুকরো করল স্ত্রী (Wife)। শুধু দেহ টুকরো টুকরো করেই শান্ত হয়নি তারা। পরে দেহাংশ একটি বড় ড্রামে ভরে মুখ সিমেন্ট দিয়ে সিলও করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
পুলিশ সূত্রে খবর পেশায় এক বেসরকারি জাহাজ কোম্পানির (Merchant Navy Officer) অফিসার পদে কর্মরত মীরাটের বাসিন্দা সৌরভ রাজপুতের স্ত্রী মুসকান রাস্তোগি তাঁরই বন্ধু সাহিল শুক্লার সঙ্গে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। ২০১৬ সালে প্রেম করেই মুসকানের সঙ্গে বিয়ে হয় সৌরভের। জানা যায়, স্ত্রীকে বেশি সময় দেওয়ার জন্য চাকরিই ছেড়ে দেন। তবে, প্রেমের বিয়ে হলেও আচমকা এত ভাল চাকরি ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি একেবারেই মানতে পারেননি মুসকানের পরিবার।
পরে ঝামেলা বাড়তেই স্ত্রীকে নিয়ে বাইরে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতে শুরু করেন সৌরভ। এরপর ২০১৯ সালে মুসকান এবং সৌরভের একটি কন্যাসন্তান হয়। কিন্তু সেই আনন্দও বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। আচমকাই সৌরভ জানতে পারেন তাঁরই বন্ধু সাহিলের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছে মুসকান। এরপরই স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের চেষ্টা করলেও সেই ভাবনা থেকে শুধুমাত্র নিজের ছোট্ট মেয়ের জন্য সরে আসেন। এরপর ২০২৩ সালে ফের নৌ বাহিনীতে যোগ দেন তিনি।
জানা যায় গত ২৮শে ফেব্রুয়ারি সৌরভের মেয়ের ছয় বছর পূর্ণ হয়। সে কারণে ২৪শে ফেব্রুয়ারি সবাইকে চমকে দিতেই বাড়ি ফিরে আসেন। কিন্তু ততক্ষণে মুসকান এবং সাহিল পথের কাঁটা সরানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। পুলিশ জানিয়েছে, মার্চ মাসের ৪ তারিখ সৌরভের খাবারে মুসকান ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। ঘুমিয়ে পড়েলেই প্রেমিককে সঙ্গে নিয়ে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে স্বামীকে খুন করে মুসকান। এরপর দেহের টুকরো ড্রামে ভরে তাতে সিমেন্ট দিয়ে সিল করে দেয়।
পরে সেই ড্রাম সময়মতো ফেলে আসার প্ল্যান থাকলেও তা বানচাল করে দেয় পুলিশ। সূত্রের খবর, বিষয়টি প্রথমে নজরে আসে পরিবারের লোকজনের। বাড়ি এলেও আচমকা সৌরভকে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেই বাধে গণ্ডগোল। অভিযোগ, মুসকান সবাইকে জানায় তার স্বামী পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছে।
এরপর সবাইকে বিভ্রান্ত করতে সাহিল নিজেই সৌরভের ফোন নিয়ে উত্তরাখণ্ডের কৌসানিতে ঘুরতে যায় এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি আপলোড করতে শুরু করে। কিন্তু সৌরভ পরিবারের ফোন না ধরলে থানায় দায়ের হয় অভিযোগ। এরপরই পুলিশ মুসকান এবং সাহিলকে গ্রেফতার করে।
তবে সৌরভের দেহ যে ড্রামে রাখা হয়েছিল তা খুলতে গিয়েই মাথা খারাপ হয়ে যায় তদন্তকারীদের। সিমেন্ট সিল করে দেওয়ায় হাতুড়ি এবং ছেনি দিয়েও তা খোলা সম্ভব হয়নি। এরপর দেহের টুকরো সহ ড্রামটিই ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়। খুনের ১৪ দিন পর ড্রিল মেশিন দিয়ে ওই ড্রাম খোলা হয় বলে খবর।
মীরাটের পুলিশ প্রধান আয়ুশ বিক্রম সিং বলেন, সৌরভ রাজপুতকে বেশ কয়েকদিন ধরে দেখা না গেলে পরিবার অভিযোগ দায়ের করে। সন্দেহের বশে প্রথমে মুসকান এবং প্রেমিক সাহিলকে হেফাজতে নিলেও জিজ্ঞাসাবাদের সময় তারা পুরো ঘটনা স্বীকার করে। জানায় ৪ মার্চ তারা সৌরভকে ছুরি দিয়ে খুন করেছে।